মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক, বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ
সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্যই এই পেজটি চালু করা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে৷

Published : February 26, 2026 at 5:37 PM IST
কলকাতা, 26 ফেব্রুয়ারি: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হওয়া জনসংযোগ পরিষেবা ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ এবার সাইবার হানার শিকার। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ নামে খোলা অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজটি হ্যাকারদের কবলে পড়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় বিধাননগর সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রথমদিকে পেজটি যে হ্যাক হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি। তবে আচমকা কিছু অস্বাভাবিক পোস্ট ও একাধিক সন্দেহজনক মেসেজ পাঠানো হতে থাকায় বিষয়টি নজরে আসে। যাঁরা পেজটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের মনে সন্দেহ জাগে যে বাইরের কেউ অ্যাকাউন্টটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পরে প্রাথমিক যাচাইয়ে সেই আশঙ্কাই সত্যি বলে সামনে আসে।
তার পরই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ তদন্ত শুরু হয়৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে৷ হ্যাকাররা অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করে মোট 47টি অননুমোদিত ডাইরেক্ট মেসেজ পাঠিয়েছে এবং দু’টি স্টোরিও আপলোড করেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রথম দফায় রাত 2টো 6 মিনিট থেকে 2টো 19 মিনিটের মধ্যে একাধিক মেসেজ পাঠানো হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় সকাল 9টা 11 মিনিট থেকে 9টা 22 মিনিটের মধ্যে ফের কিছু মেসেজ যায়। এই দুই পর্ব মিলিয়ে মোট 47টি মেসেজ পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগকারী সংস্থা পুলিশকে জানিয়েছে।
সূত্রের খবর, হ্যাকাররা ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ‘এগিয়ে বাংলা’, কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশেকেও বার্তা পাঠিয়েছে। অভিযোগকারী সংস্থার দাবি, ওই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া নিরাপত্তা বিধি মানা হয়। শুধুমাত্র একটি সরকারি মোবাইল ফোন, নির্দিষ্ট একটি ল্যাপটপ এবং একটি অফিস ডেস্কটপ — এই তিনটি অনুমোদিত ডিভাইস থেকেই অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করা সম্ভব।
হ্যাকের বিষয়টি সামনে আসতেই তড়িঘড়ি পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক রেকর্ড, স্ক্রিনশট এবং টাইম-স্ট্যাম্প সংরক্ষণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে দোষীদের চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন, কোনও আর্থিক প্রতারণা বা ভুয়ো তথ্য প্রচারের চেষ্টা হয়েছে কি না। পাশাপাশি কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের উদ্দেশ্য কী, তা জানতেও ডিজিটাল ট্র্যাকিং শুরু হয়েছে।
‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ পরিষেবাটি চালু করা হয়েছিল সাধারণ মানুষের সুবিধা–অসুবিধা, অভিযোগ–অনুযোগ ও মতামত সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। সামাজিক মাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। ফলে এই পেজ হ্যাক হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহল থেকে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে।
ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুন করে সতর্কবার্তা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি জনসংযোগ পেজও যে সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত নয়, তা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, দ্রুত পেজের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এবং দোষীদের সনাক্ত করাই এখন অগ্রাধিকার তদন্তকারীদের কাছে।

