ETV Bharat / state

'মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব' থেকে সাইকেল বিলি, ভোটের মুখে 850 কোটির প্রকল্প উপহার মমতার

এদিন রাজ্যের সাড়ে 12 লক্ষ স্কুলপড়ুয়ার হাতে সাইকেল প্রদানের কর্মসূচিরও সূচনা করেন তিনি ।

ETV BHARAT
একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 25, 2026 at 5:30 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

​কলকাতা, 25 ফেব্রুয়ারি: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজে জোয়ার আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বুধবার ভবানীপুরের এক অনুষ্ঠান থেকে রাজ্যজুড়ে প্রায় 850 কোটি টাকার একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন তিনি । স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহণ থেকে শুরু করে সংখ্যালঘু উন্নয়ন - কার্যত প্রতিটি ক্ষেত্রেই একঝাঁক নাগরিক পরিষেবা সাধারণ মানুষের জন্য 'উৎসর্গ' করলেন মমতা । এদিন একইসঙ্গে রাজ্যের সাড়ে 12 লক্ষ স্কুলপড়ুয়ার হাতে সাইকেল প্রদানের কর্মসূচিরও সূচনা করেন তিনি । এই বিপুল বিনিয়োগ রাজ্যের পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করবে বলে আশাপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী ।

​রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে এদিন একাধিক 'মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব'-এর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ, ডায়মন্ডহারবার এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মা ও শিশুদের জন্য বিশেষায়িত এই কেন্দ্রগুলি চালু করা হয়েছে । এছাড়াও ফুরফুরা শরিফে 100 শয্যার নতুন হাসপাতাল ভবন এবং আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে 50 শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লকের উদ্বোধন করেন তিনি । গোসাবা গ্রামীণ হাসপাতালেও মা ও শিশুদের জন্য নতুন সিএমওএইচ (CMOH) কেন্দ্রের সূচনা হয়েছে ।

ETV BHARAT
'মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব'-এর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী (নিজস্ব চিত্র)

পরিকাঠামোগত উন্নয়নের তালিকায় রয়েছে বাঁকুড়ায় দ্বারকেশ্বর নদীর ওপর নতুন সেতু এবং রাজ্যজুড়ে 101টি ফাস্ট ড্রাইভ স্কিম । পরিবহণ ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এদিন 120টি নতুন সিএনজি বাস এবং কলকাতা পুলিশের বিজয়গঞ্জ বাজার থানা ও উলুবেড়িয়া থানার নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয় ।

​ভবানীপুরের এই অনুষ্ঠানে জৈন, শিখ, মুসলিম ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার বহুত্ববাদী সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেন । তিনি জানান, সল্টলেকে 33 কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মাইনরিটি সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে । সেখানে জৈন, শিখ, মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ - সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ অনুষ্ঠান করতে পারবেন । এছাড়াও সন্ত কুটিয়া গুরুদ্বার গেট ও মাইনরিটি ভবনের উদ্বোধন করে শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ বার্তা দেন তিনি ।

জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীরের সঙ্গে বর্ধমান জেলার ঐতিহাসিক যোগসূত্র স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মহাবীর জৈনের বাল্যনাম ছিল বর্ধমান । তিনি দীর্ঘ সময় এই এলাকায় কাটিয়েছিলেন বলেই জেলার নাম বর্ধমান হয়েছে । পুরুলিয়া থেকে পরেশনাথ মন্দির - সর্বত্রই জৈন ধর্মের গভীর প্রভাব রয়েছে । এদিন জৈনদের 'মানস্তম্ভ'-এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি অহংকার ত্যাগের আহ্বান জানান ।

​মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, তিনি গুজরাতি, পাঞ্জাবি, মারাঠি ও ওড়িয়া ভাষা বুঝতে পারেন । তিনি বলেন, "গুজরাতিরা বলেন 'কেম ছো', আমরা বলি 'কেমন আছো'। ভাষার ধরন আলাদা হলেও ভাবটা একই ।" বিভিন্ন সম্প্রদায়ের খাদ্যাভ্যাস ও উৎসবের কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলার সর্বধর্ম সমন্বয়ের ছবি তুলে ধরেন । তাঁর কথায়, "আমরা ছোটবেলা থেকেই প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে পড়াশোনা করি । জৈন ভাইবোনেরা যখন ভুল ত্রুটির জন্য ক্ষমা চান, সেই সংস্কৃতি আমাদের সম্প্রীতিকেই শেখায় ।" মালদা শহরকে আধুনিক রূপ দিতে মাটির তলা দিয়ে বিদ্যুতের কেবল লাইনের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী ।