ETV Bharat / state

SIR-এ ভোটাধিকার হারাতে পারেন 1 কোটি 20 লক্ষ মানুষ, আশঙ্কা মুখ্যমন্ত্রীর

এই প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি ।

ETV BHARAT
SIR-এ 1 কোটি 20 লক্ষের ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 25, 2026 at 7:50 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 25 ফেব্রুয়ারি: ভবানীপুরে জৈন ধর্মের পবিত্র 'মানস স্তম্ভ' উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এই প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা দেন ।

দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর এলাকায় আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং অত্যন্ত গোপনে রাজ্যের প্রায় 1 কোটি 20 লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে । মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই কারণেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন । এরপরেও তিনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না বলে জানান তৃণমূল সুপ্রিমো ।

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় গাফিলতি ও কারচুপির অভিযোগ তুলে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন । তাঁর দাবি, প্রথমে 58 লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল । এরপর 'লজিস্টিক ডিসক্রিপেন্সি' বা প্রযুক্তিগত অসামঞ্জস্যের অজুহাত দেখিয়ে আরও প্রায় আশি লক্ষ মানুষের নাম গোপনে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে । মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই বাদ যাওয়া নামের মধ্যে যদি 20 লক্ষ মৃত মানুষের হিসাবও ধরে নেওয়া হয়, তাহলেও অন্তত 1 কোটি 20 লক্ষ বৈধ ভোটারের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে ।

যাঁদের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র রয়েছে এবং ভেরিফিকেশন বা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তাঁদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন । সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে আইনি লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আদালত নির্দেশ দিলেও এখনও পর্যন্ত সংশোধনের কাজ শুরু হয়নি । আগামী 28 তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলে বহু মানুষ নিজেদের নাম না-দেখতে পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়বেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, কে তৃণমূল, কে বিজেপি বা কে সিপিএম, তা তাঁর দেখার বিষয় নয় । একইভাবে হিন্দু, মুসলিম, জৈন, শিখ বা খ্রিস্টান - ধর্মের ভিত্তিতেও তিনি কোনও বৈষম্য করেন না । তাঁর মূল লক্ষ্য হল গণতন্ত্র যেন ধ্বংস না-হয় এবং সাধারণ মানুষের অধিকার যেন অটুট থাকে । জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে কোনও অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন দাবি করেন ৷

এই প্রসঙ্গে তিনি ভবানীপুর এলাকাকে 'মিনি ইন্ডিয়া' বা ক্ষুদ্র ভারতবর্ষ আখ্যা দিয়ে বলেন, ভারতের প্রতিটি প্রান্তের, প্রতিটি ধর্ম ও বর্ণের মানুষ এই এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে শান্তিতে বসবাস করছেন । উৎসবের দিনগুলিতে, তা সে দুর্গাপুজো হোক, দীপাবলি বা বৈশাখী - সব সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়ান । কোনও সমস্যা হলে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন সবসময় নাগরিকদের পাশে থাকে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন ।

এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করেন । সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এদিন দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের 21 জন সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি । মুখ্যমন্ত্রী জানান, মানবিকতার খাতিরে এই 21 জন যুবক-যুবতীকে নিয়োগ করা হয়েছে । প্রথম এক বছর তাঁরা মাসিক 10 হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের গ্রুপ-ডি পদে স্থায়ী করা হবে ।

পাশাপাশি, জৈন সম্প্রদায়ের একটি মন্দির নির্মাণের বিষয়েও এদিন ইতিবাচক বার্তা দেন মমতা । মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারিভাবে সরাসরি মন্দির নির্মাণের নিয়ম না-থাকলেও, সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায় যদি একটি ট্রাস্ট গঠন করে আবেদন জানায়, তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জমি প্রদান-সহ প্রয়োজনীয় সবরকম সাহায্য করা হবে ।

সবশেষে, আসন্ন দোল ও হোলি উৎসব উদযাপনের বিষয়েও এদিন রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী । তিনি জানান, গত বছর ধনধান্য স্টেডিয়ামে হোলির অনুষ্ঠান আয়োজিত হলেও সেখানে স্থান সংকুলান হয়নি । উত্তরবঙ্গ থেকে আসা বহু মানুষের অনুরোধ মেনে এবার আরও বড় পরিসরে দোল উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে । আগামী 2 তারিখ বিকেল চারটেয় কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে এই মিলন উৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান ।