সাংসদদের টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া আইনের প্রয়োগ নয়, উর্দির ঔদ্ধত্য, তোপ মমতার
গতকাল আইপ্যাকের দফতর ও কর্ণধারের বাড়িতে ইডির তল্লাশির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

Published : January 9, 2026 at 5:46 PM IST
কলকাতা, 9 জানুয়ারি: আইপ্যাকের দফতরে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশির প্রতিবাদকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিল তৃণমূল ৷ একদিকে শুক্রবার দুপুরে কলকাতায় পথে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ অন্যদিকে এদিন সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কার্যালয়ের সামনে ধর্নায় বসেন তৃণমূলের সাংসদরা ৷ ডেরেক ও'ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, বাপি হালদার, শতাব্দী রায়, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল এবং শর্মিলা সরকারদের টেনেহিঁচড়ে সেখান থেকে প্রিজন ভ্যানে তুলে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ ৷ এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷
এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে মমতা লেখেন, 'প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের রাস্তা দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া আইনের প্রয়োগ নয়, উর্দির ঔদ্ধত্য ৷ এটা গণতন্ত্র ৷ বিজেপির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় ৷' পাশাপাশি আইপ্যাকের উপর ইডির হানাকে ‘দিল্লির বঞ্চনা ও লাঞ্ছনা’ বলে দাগিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, এই অগণতান্ত্রিক আচরণের বিচার রাজপথেই হবে।
I strongly condemn the shameful and unacceptable treatment meted out to our Members of Parliament. Dragging elected representatives on the streets for exercising their democratic right to protest outside the Home Minister’s office is not law enforcement - it is arrogance in…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) January 9, 2026
এর আগে সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের সামনে তৃণমূলের 8 সাংসদ ধর্নায় বসেন ৷ প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান 40 মিনিট ধরে ৷ খবর পেয়েই দিল্লি পুলিশ সেখানে পৌঁছয় ৷ তাঁদের জোর করে তোলার চেষ্টা করলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি । মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায় । ডেরেক ও'ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, বাপি হালদার, শতাব্দী রায়, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল, শর্মিলা সরকার-সহ তৃণমূলের আট সাংসদ হাজির ছিলেন প্রতিবাদ-বিক্ষোভে । তৃণমূল সাংসদের হাতে ছিল কেন্দ্র বিরোধী প্লাকার্ড। শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলেও তাঁরা কেন্দ্র বিরোধী, বিশেষ করে অমিত শাহ বিরোধী স্লোগান দিতে শুরু করেন।
Today, Bengal showed the streets what its roar truly sounds like. Row after row, people poured out in numbers that left no room for doubt.
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) January 9, 2026
Answering the call of Hon’ble Chairperson Smt. @mamataofficial, ordinary citizens stepped forward to give a fitting reply to every… pic.twitter.com/Z3d8ACxX4v
গতকাল আইপ্যাকের সল্টলেকের অফিসে এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা ৷ এর বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, নির্বাচনের আগে তৃণমূলের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি বা কৌশল দুর্বল করতেই এই হানা। এদিন মিছিল শুরুর প্রাক্কালে সেই প্রসঙ্গ টেনেই ঝাঁঝালো ভাষায় তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে তিনি আরও বলেন, “দিল্লির বঞ্চনা, লাঞ্ছনা, অত্যাচার, অপমান এবং অসম্মানের বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই।” নাম না করে তিনি বুঝিয়ে দেন, রাজনৈতিকভাবে লড়তে না পেরে এজেন্সিকে ব্যবহার করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।

