'জাস্টিস ফর বারুইপুর', মোমবাতি মিছিলে পা-মেলালেন মমতা
আজকের মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা-নেত্রী। তাঁদের মধ্যে দোলা সেন এবং ডেরেক ও'ব্রায়েনের মতো রাজ্যসভার সাংসদরাও উপস্থিত ছিলেন।

Published : July 6, 2026 at 10:13 PM IST
কলকাতা, 6 জুলাই: বারুইপুরে এক নৃশংস হত্যা ও অত্যাচারের ঘটনার প্রতিবাদে আজ পথে নামলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল অভিযোগ তুলেছিলেন তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়েছে ৷ আজ নিরাপত্তা ওঠার পর, বিকেলে তিনি তাঁর বাসভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেন। মিছিলের দাবি ছিল,'জাস্টিস ফর বারুইপুর'।
বারুইপুরের এই অমানবিক ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁকে তাঁর বাড়িতে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে ৷ তিনি বারবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি ফোনে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেছেন বলে খবর। কিন্তু, পুলিশি বাধায় তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারছিলেন না-বলে তাঁর অভিযোগ ছিল। আজ তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল বারুইপুর যায়। এই প্রতিনিধি দল ফিরে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রিপোর্ট দেয়। তারপরই মোমবাতি নিয়ে পথে নামেন মমতা।
আজকের মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা-নেত্রী। তাঁদের মধ্যে দোলা সেন এবং ডেরেক ও'ব্রায়েনের মতো রাজ্যসভার সাংসদরাও উপস্থিত ছিলেন। মিছিলটি তৃণমূল নেত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি এলাকা থেকে শুরু হয়ে এলাকার বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বারুইপুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল আজ নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এই দলে ছিলেন দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সাংসদ দোলা সেন বলেন, "আমরা শুধু বলেছি নেত্রী আমাদের পাঠিয়েছে, আমরা সেই পরিবারের সঙ্গে আছি, সেই পরিবারের পাশে আছি ৷ আগামিদিনে সেই পরিবার যেভাবে আমাদের কাছে সাহায্য চাইবে, সেই সাহায্যটুকুর হাত আমরা বাড়িয়ে দেব।" তিনি আরও বলেন, "আমরা কোনও রং নিয়ে রাজনীতি নিয়ে কথা বলিনি ৷ কারণ সেই পরিবার যে তার সন্তানকে হারিয়েছে, এখানে রাজনীতি নয়, শুধু আমরা চাই যে দোষী ব্যক্তি তার চরম শাস্তি হয় এবং আমাদের দলের নেত্রী বলেছেন আইনানুগ সকল সহযোগিতা আমরা করব, আমরা পরিবারের পাশে আছি।"
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আরও জানিয়েছেন যে তাঁরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তদন্তে যাতে কোনও ত্রুটি না-থাকে, সে বিষয়ে জোর দিয়েছেন। ডেরেক ও'ব্রায়েন বলেন, "এফআইআর-এ যারা রয়েছে, তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা উচিত। এই ব্যাপারে আমরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলব, যেন তদন্তে কোনও ত্রুটি না-থাকে।" পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "তদন্ত হচ্ছে৷ এর বেশি আর কি বলব এখন।" তিনি অভিযোগ করেন যে তাঁরা যখন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন, তখন পুলিশ তাঁদের বারবার আটকেছে। তিনি বলেন, "প্রত্যেকটা রাস্তাতে, প্রত্যেকটা পয়েন্টে আমাদের আটকানো হয়েছিল এবং ওরা খুঁজে দেখছিল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন কি না গাড়িতে। তারপর গাড়ি চেক করে তারপরে আমাদের ছেড়েছে।"
বারুইপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। বিরোধী দলগুলিও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বারুইপুরের ঘটনাটি সমাজের প্রতিটি স্তরে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং সাধারণ মানুষও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছেন। আজকের মিছিল সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

