এত ভীতু হলে চলবে না, সীমান্তে রাজ্য পুলিশকে প্রো-অ্যাক্টিভ থাকার নির্দেশ মমতার
কোচবিহারে মমতা বলেন, কেন্দ্র টাকা বন্ধ করলেও উন্নয়ন থামবে না ৷ জানুয়ারির শুরুতেই আবাসের টাকা সরাসরি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে ৷

Published : December 8, 2025 at 6:16 PM IST
কোচবিহার, 8 ডিসেম্বর: সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং সেখানকার মানুষকে হয়রানির শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করতে রাজ্য পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানের প্রশাসনিক সভা থেকে সোমবার তিনি এসআইআর ও 'আর্থিক বঞ্চনা' নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন ৷
এদিন কোচবিহারে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য পুলিশের উদ্দেশে বলেন, "রাজ্যের পুলিশ এত ভীতু হলে চলবে না । মারপিট করতে বলছি না । নাকা চেকিং ঠিক করে করুন ।" মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "বর্ডার জেলাগুলোতে অযথা মানুষের উপর অত্যাচার বা এনআরসি-র নামে ভীতি প্রদর্শন বরদাস্ত করা হবে না ।" তাঁর নির্দেশ, "সীমান্তগুলো দেখার কথা বলব । ভোরের দিকে যত গণ্ডগোল করার প্ল্যান থাকে । কখনও বলবেন না, নো অ্যাক্টিভ । প্রো-অ্যাক্টিভ মাথায় রেখে কাজ করুন ।"
এদিন রাজবংশী ও কামতাপুরীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "রাজবংশী ও কামতাপুরীদের বলছি, যাঁদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে, আমি থাকতে ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না । অসম সরকারের কোনও অধিকার নেই বাংলার লোককে চিঠি পাঠানোর ৷ পুলিশকে বলব, অন্য রাজ্য থেকে যাতে কেউ গ্রেফতার করে নিয়ে যেতে না-পারে । তবে কোনও ক্রিমিনালকেও আমরা সাহায্য করব না ৷"
ভোটার তালিকায় বিশেষ পরিমার্জন নিয়ে কেন্দ্রকে একহাত নিয়ে তিনি এদিন বলেন, "ডবল ইঞ্জিনের পার্টি কোটি কোটি টাকা খরচ করে নেগেটিভ বিষয়ে প্রচার করছে । প্ল্যানিং না-করে কাজ করা হচ্ছে । বিডিও, এসডিও, বিএলও-দের চাপ দেওয়া হচ্ছে । যাতে উন্নয়নের কাজ বন্ধ হয়ে যায়, তাই এটা করা হয়েছে। কীসের এত খিদে ? দু'মাসের মধ্যে SIR করতে হবে ! গণতন্ত্র এক পক্ষের হয়ে গেলে কীভাবে চলবে ! সংবিধানকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে ।"
ভোটার তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করতে আগামী 12 ডিসেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে 'মে আই হেল্প ইউ' বুথ চালুর কথাও ফের মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী । কোচবিহারবাসীকে তিনি জানান, বিএসকে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এই বুথগুলি মানুষকে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনে সাহায্য করবে । মমতা বলেন, "কাগজের কারও অসুবিধা হলে কাগজ নিয়ে যাবেন ৷ এই রাজ্যে সবার সমান অধিকার ।"
এদিন কেন্দ্রীয় বরাদ্দ 'আটকে রাখা' নিয়ে ফের সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তিনি বলেন, "দিল্লি ভাতের হাঁড়ি ভাঙতে পারে, কিন্তু বাংলার মানুষের উন্নয়নের চাকা স্তব্ধ করতে পারবে না । বাংলা আবাস যোজনায় অনুমোদিত প্রায় 16 লক্ষ বাড়ির জন্য আর দিল্লির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না । আমরা কেন্দ্রের কাছে বারবার চেয়েও টাকা পাইনি, কিন্তু কথা দিয়েছিলাম গরিবের বাড়ি হবেই । আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেই উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির টাকা সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হবে । বাকি টাকা দেওয়া হবে জুন মাসে ।"
ওয়াকফ প্রসঙ্গে এদিন তিনি বলেন, "ওয়াকফ নিয়ে উলটোপালটা বলে বেড়াচ্ছে ৷ আমরাও হাইকোর্টে কেস করেছিলাম । কিছুটা সংশোধন করেছে । আমরা জমি কেড়ে নেব, এটা নয় । সবার কাছে অনুরোধ, আপনারা আপনাদের কাজ সুষ্ঠুভাবে করুন । জেলাশাসককে বলব সাপোর্ট করতে । নতুন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার ভালো করে কাজ করবে এটাই চাই ।"
এদিনের প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের জন্য একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন । কোচবিহার, দার্জিলিং, কালিম্পং, মালদা, দুই দিনাজপুর ও আলিপুরদুয়ার মিলিয়ে মোট 689টি প্রকল্পের সূচনা হয় ৷ যার মোট বরাদ্দ 1863 কোটি 57 লক্ষ টাকা । এর মধ্যে শুধুমাত্র কোচবিহার জেলাতেই রয়েছে 540 কোটি টাকারও বেশি মূল্যের 163টি প্রকল্প । এছাড়াও দার্জিলিংয়ে 65টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ 169 কোটি টাকা, জলপাইগুড়িতে উদ্বোধন হওয়া 24টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ 44 কোটি টাকা, জলপাইগুড়িতে শিলান্যাস হওয়া প্রকল্পগুলির জন্য 28 কোটি টাকা ব্যয় হবে । আলিপুরদুয়ার জেলায় 18টি প্রকল্পের জন্য খরচ হবে 14 কোটি টাকা ৷
রাস্তাঘাট এবং পানীয় জলের উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে । পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় হাজার হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরির কাজ চলছে এবং বর্ষাকাল শেষ হওয়ায় এখন এই কাজে যুদ্ধকালীন তৎপরতা আনার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । পাশাপাশি, 'সবুজ সাথী'র সাইকেল হোক বা একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য 'তরুণের স্বপ্ন' প্রকল্পের ট্যাব বা স্মার্টফোন - শিক্ষাক্ষেত্রেও যাতে কোনও খামতি না-থাকে, সেদিকেও কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।

