SIR নিয়ে মামলা করার ঘোষণা মমতার; প্রয়োজনে নিজেই সওয়াল করবেন, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
সোমবার দক্ষিণ 24 পরগনার সাগরে এক সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেখানেই তিনি এসআইআর নিয়ে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন৷

Published : January 5, 2026 at 4:15 PM IST
সাগর (দক্ষিণ 24 পরগনা), 5 জানুয়ারি: ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সংঘাত চরমে। মাত্র একদিন আগেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তার পর সোমবার সাগর থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ঘোষণা করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, তা গণতন্ত্রকে কার্যত 'প্রহসনে' পরিণত করেছে। তাই আগামিকাল (মঙ্গলবার) আদালত খোলার সঙ্গে সঙ্গেই আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটবে সরকার।

চিঠির পর আইনি পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি
রবিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠিতে এসআইআর-এর শুনানির সময় সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়ে বিস্তারিত অভিযোগ করেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৈধ নাগরিকদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে এবং তাড়াহুড়ো করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দেওয়া হচ্ছে।
চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশের 24 ঘণ্টার মধ্যেই গঙ্গাসাগরের হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, এবার বিচার পেতে বিচার বিভাগেরই দ্বারস্থ হচ্ছেন তাঁরা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আগামিকাল কোর্ট খুলবে, আমরাও আইনে যাব। এত মানুষের মৃত্যু, এত মানুষকে যেভাবে হ্যারাস (হেনস্তা) করেছে তার বিরুদ্ধে।"

তিনি জানান, প্রয়োজন পড়লে তিনি নিজে আদালতে গিয়ে মানুষের হয়ে সওয়াল করবেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, মুখ্যমন্ত্রী নিজে একজন আইনজীবী। তবে এদিন তিনি বলেন, "প্রয়োজন পড়লে আমি নিজেও সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মানুষের হয়ে প্লিড (আবেদন) করব। লইয়ার (আইনজীবী) হিসেবে নয়, সাধারণ নাগরিক হিসেবে পারমিশন (অনুমতি) চাইব মানুষের কথা বলার জন্য৷"
মুখ্যমন্ত্রীর এসআইআর তোপ
এদিনও আরও একবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হেনস্তা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, প্রযুক্তি বা এআই (AI)-এর অপব্যবহার করে যান্ত্রিকভাবে মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, "54 লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। তাদের অধিকার ছিল ফর্ম 7 বা 8 ফিল-আপ করার। কিন্তু এআই দিয়ে কাটিয়ে দিয়েছে।" কোনও মানবিক বিচার-বিবেচনা ছাড়া, কেবল যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে বা বানান ভুলের কারণে নাম বাদ দেওয়াকে তিনি গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেন। তাঁর কথায়, কমিশন এখন আর নিজস্ব বুদ্ধিতে চলছে না৷ বরং 'হোয়াটসঅ্যাপে' চলছে, যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

কেন আদালতের পথে যেতে চান, তারও ব্যাখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত কম। দু'মাসের মধ্যে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে গিয়ে ভুয়ো ও সত্য যাচাই না করেই লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত গ্রামীণ এলাকার মানুষ, বয়স্ক নাগরিক এবং মহিলারা, যারা সামান্য বানান ভুল বা ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে সমস্যার মুখে পড়ছেন, তাঁদের কথা ভেবেই এই আইনি পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বা ভোটাধিকার হরণ করার এই প্রক্রিয়া কোনোভাবেই মেনে নেবে না রাজ্য। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "মানুষের অধিকার ভ্যানিশ হলে, আপনারাও কিন্তু ভ্যানিশ হয়ে যাবেন৷"

