দেশজুড়ে এগোলেও মালদায় বেহাল পোস্টাল ব্যাংকিং সিস্টেম, হুঁশিয়ারি কর্মীদের
পোস্টাল ব্যাংকিং সিস্টেমে জেলার স্থান পিছন থেকে দ্বিতীয় ৷ এর জন্য কর্মীদের দায়ী করছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ৷


Published : December 7, 2025 at 5:27 PM IST
মালদা, 7 ডিসেম্বর: ভারতীয় ডাক বিভাগ দেশের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক ৷ এমন নেটওয়ার্ক পৃথিবীর অন্য কোনও দেশে রয়েছে কি না প্রশ্ন রয়েছে তা নিয়েও ৷ শহর থেকে গ্রাম, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরেও রয়েছে পোস্ট অফিস ৷ কয়েক বছর হল, ভারতীয় ডাক বিভাগ আর শুধুমাত্র চিঠিপত্র আদানপ্রদানের সঙ্গেই জড়িত নয়, তার সঙ্গে মিলেছে ব্যাংকিং পরিষেবাও ৷ দেশে সবচেয়ে বেশি শাখা রয়েছে পোস্টাল ব্যাংকের ৷
উচ্চবিত্তদের সঙ্গে গরিব মানুষও এখন পোস্টাল ব্যাংককেই ভরসার জায়গা বলে মনে করছেন ৷ তাঁরা নিজেদের অ্যাকাউন্টও খুলছেন ৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে মালদা ডিভিশন ৷ পোস্টাল ব্যাংকিং সিস্টেমে বর্তমানে এই জেলার স্থান পিছন থেকে দ্বিতীয় ৷ কেন এই পরিস্থিতি, তা বুঝতে পারছেন না কেউ ৷ তবে এর জন্য বিভাগের কর্মীদের দায়ী করছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ৷

এনিয়ে ডাক বিভাগের উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল ঋজু গঙ্গোপাধ্যায় বলছেন, "পোস্টাল ব্যাংকিং সিস্টেম অনুযায়ী মালদা ডিভিশনের স্থান পিছনের দিক থেকে দু’নম্বরে ৷ অথচ ডাক বিভাগের উপর মানুষের আস্থা রয়েছে ৷ সমস্ত স্তরের মানুষ যাতে ডাক বিভাগে নিজেদের সঞ্চয় জমা রাখতে পারেন, তার জন্য ভারতীয় ডাক বিভাগ একাধিক প্রকল্প চালু করেছে ৷ কিন্তু আমাদের বিভাগের কর্মীদের ঢিলেমির জন্যই প্রকল্পগুলির অগ্রগতি আশানুরূপ হচ্ছে না ৷ নতুন প্রজন্মের প্রচুর কর্মীকে ডাক বিভাগে নিয়োগ করা হয়েছে ৷ দুঃখজনক হলেও সত্যি, কাজের প্রতি তাঁদের খুব একটা আগ্রহ নেই ৷ চলতি আর্থিক বছরে মালদা ডিভিশন লক্ষ্যমাত্রার মাত্র 15 শতাংশ পূরণ করতে পেরেছে ৷ আমরা সবকিছু লক্ষ্য রাখছি ৷ আগামী দু’মাসের মধ্যে পরিস্থিতির বদল না-হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে ৷"
দেশে কুরিয়র সার্ভিস চালু হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় ডাক বিভাগ পিছিয়ে পড়তে শুরু করে ৷ চটজলদি চিঠিপত্র নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছনোর জন্য মানুষ কুরিয়র সার্ভিসের দিকে ঝুঁকে পড়েন ৷ তারপর চলে আসে ইন্টারনেটের যুগ ৷ এই যুগে মানুষ মুঠোফোনেই নিজেদের জরুরি বার্তা সবাইকে পৌঁছে দিতে পারছেন ৷ ফলে অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যায় দেশের অত্যন্ত পুরনো এই নেটওয়ার্ক ৷ ডাক বিভাগকে পুনরুজ্জীবিত করতে চালু করা হয় পোস্টাল ব্যাংকিং সিস্টেম ৷ যে কোনও স্তরের মানুষ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মতো যে কোনও ডাকঘরেও নিজেদের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন ৷
এখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তুলনায় সুদের হারও ভালো ৷ এছাড়াও পোস্টাল ব্যাংকিং সিস্টেমে রয়েছে জীবনবিমা প্রকল্প, গ্রামীণ সঞ্চয় প্রকল্প, শিশুদের সঞ্চয় প্রকল্প, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা-সহ একাধিক প্রকল্প ৷ এসব চালু হওয়ার পর বাস্তবিক অর্থেই ভারতীয় ডাক বিভাগ ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে ৷ গোটা দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে ৷ সেই জায়গায় মালদা ডিভিশনের প্রোগ্রেস রিপোর্ট শুধুই হতাশার ৷

