অগস্ট পড়তেই সিঁদুরে মেঘ ! ভাঙন-বন্যা মোকাবিলায় বিশেষ বৈঠক জেলাশাসকের
হঠাৎ করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় না পড়তে হয় সেই বিষয় নিশ্চিত করাই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ৷

Published : August 6, 2026 at 9:34 AM IST
মালদা, 6 অগস্ট: সাধারণত অগস্টের শেষের দিক থেকে মালদা জেলায় বন্যার মরশুম শুরু হয়ে যায় ৷ বর্ষার বৃষ্টিতে গঙ্গা, ফুলহর, মহানন্দা তো বটেই, উত্তর থেকে বয়ে আসা জলে ফুলে ফেঁপে ওঠে ছোট নদীগুলিও ৷ এই সময় নদী ভাঙনের ব্যাপকতাও বাড়ে ৷ তেমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে মানুষকে বেশি সমস্যায় পড়তে না হয় তার জন্য এবার আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিল জেলা প্রশাসন ৷
এনিয়ে বুধবার জেলা প্রশাসনিক ভবনে জেলাশাসকের নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ৷ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তারা ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকরা ৷
এই বিষয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক অনিন্দ্য সরকার বলেন, "আমাদের জেলায় বর্ষা শুরু হয়েছে ৷ এই সময় বন্যা ও ভাঙনের প্রকোপ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায় ৷ তার জন্য আজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগকে নিয়ে একটি বৈঠক করা হয়েছে ৷ এই বৈঠকে সেচ, স্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য কারিগরি এবং প্রাণীসম্পদ বিকাশ বিভাগ-সহ দমকল ও স্কুলগুলির প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছিল ৷ যদি হঠাৎ করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় তবে কীভাবে আমরা পরিস্থিতির মোকাবিলা করব, দুর্গত মানুষদের কীভাবে দ্রুত এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া যাবে, মানুষের সমস্যা কতটা কমাতে পারব, সরকারি বিভিন্ন সুবিধে তাঁদের কাছে কীভাবে দ্রুত পৌঁছে দিতে পারব, এসব নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে ৷"

তিনি আরও বলেন, "বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকরা নিজেদের পূর্ব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন ৷ কী কী করলে আরও ভালোভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায় সেই বিষয়েও তাঁরা নিজেদের মতামত জানিয়েছেন ৷ জেলায় যেসব ফ্লাড শেল্টার রয়েছে, সেগুলিকে কীভাবে আরও ভালো করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে ৷ বন্যার সময় সাধারণত সাপের উপদ্রব বাড়ে ৷ তার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে যাতে অ্যান্টিভেনাম পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত থাকে তার ব্যবস্থা করা হবে ৷ শিশু ও গোখাদ্যও মজুত থাকবে ৷ আমরা নিশ্চিত, সেই পরিস্থিতি তৈরি হলে আমরা মানুষকে পরিষেবা দিতে পারব ৷"

জেলাশাসক রাজনবীর সিং জানিয়েছেন, বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে এই বৈঠকে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছে ৷ এই পরিকল্পনাটি আমাদের কার্যকর পরিচালন নির্দেশিকা ৷ এই বৈঠকে বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষকে সময়মতো সতর্কবার্তা দেওয়া, তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিষেবা অব্যাহত রাখা এবং সরকারি ত্রাণ দ্রুত দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে ৷
পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, যে কোনও পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসন তৈরি রয়েছে ৷ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পুলিশ কাজ করবে ৷ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ শিবিরগুলির নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি কোথাও যেন আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয় সেই বিষয়টিও পুলিশকর্মীরা নিশ্চিত করবেন ৷

