ETV Bharat / state

সোশালে লাইভ করে চরম পদক্ষেপ কনটেন্ট এডিটরের, অবৈধ প্রেম ? নাকি স্ত্রীর টাকার চাপ

তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী এই ঘটনার জন্য এলাকারই আরেক মহিলা কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে দায়ী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ৷

ETV BHARAT
মৃত্যুর পিছনে অবৈধ প্রেম ? নাকি স্ত্রীর টাকার চাপ (চিত্র: ফেসবুক)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 11, 2025 at 5:20 PM IST

6 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 11 ডিসেম্বর: এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের চরম পদক্ষেপের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলা জুড়ে ৷ গত 6 ডিসেম্বর সোশাল মিডিয়ায় লাইভ ভিডিয়ো চালিয়ে নিজেকে শেষ করেন হরিশ্চন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত মোবারকপুর গ্রামের কালীতলা এলাকার বাসিন্দা ওই যুবক ৷

তাঁর নাম দুর্লভ সাহা ৷ বয়স 33 বছর ৷ পেশায় একটি কোম্পানির সেলসম্যান ছিলেন তিনি ৷ তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী এই ঘটনার জন্য ওই এলাকারই আরেক মহিলা কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে দায়ী করে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ৷ এতদিন অভিযুক্ত মহিলা এনিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি ৷ অবশেষে মৌনতা ভেঙেছেন তিনি ৷ দাবি করেছেন, তিনি নন, দুর্লভের এই সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী তাঁর স্ত্রী ৷ সব মিলিয়ে দুর্লভের মৃত্যু একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ৷ যা নিয়ে ধোঁয়াশায় খোদ পুলিশও ৷

ETV BHARAT
মৃত কনটেন্ট এডিটর (চিত্র: ফেসবুক)

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দাম্পত্য বিবাদের জেরে বছরখানেক ধরে দুর্লভের স্ত্রী দুই মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকেন ৷ চাঁচলের হবিনগরে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন তাঁরা ৷ দুর্লভের পরকীয়ার কারণেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই বিবাদ শুরু হয় ৷ পরবর্তীতে বিবাদ চরম অশান্তির রূপ নেয় ৷

গত 6 তারিখ সোশাল মিডিয়ায় লাইভ স্ট্রিম চালিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানে ফাঁস লাগিয়ে নিজেকে শেষ করেন দুর্লভ ৷ সেই ছবি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ৷ তারপরেই চাঁচল থানার হবিনগর এলাকার এক মহিলা কনটেন্ট ক্রিয়েটরের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন দুর্লভের স্ত্রী মৌসুমি সাহা ৷

তিনি জানান, “10 বছর আগে আমাদের বিয়ে হয় ৷ আমাদের দুই মেয়েও রয়েছে ৷ বছরখানেক আগে দুর্লভ এলাকারই এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমা সরকারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ৷ দু’মাস আগে আমি এনিয়ে চাঁচল থানায় অভিযোগও দায়ের করি ৷ পুলিশের তরফে ওদের দু’জনকে থানায় ডেকে পাঠানো হয় ৷ এনিয়ে বিশাল ঝামেলাও হয় ৷ আমি সোশাল মিডিয়ায় ওদের দু’জনের অনেক ভিডিয়ো ক্লিপ দেখতে পেয়ে বিষয়টি সমাজ সহ সবাইকে জানিয়েছিলাম ৷ মাসখানেক আগে আমার স্বামী নিজের ভুল বুঝতে পারে ৷ সে আমাদের খোঁজখবর নিতে শুরু করে ৷ পুরনো সম্পর্কটা ফের স্বাভাবিক হয়ে আসছিল ৷ বলেছিল, চাঁচলে বাড়ি ভাড়া নিয়ে আমাদের সঙ্গে ফের আগের মতো থাকবে ৷ সেটা সালমা মেনে নিতে পারেনি ৷ কিছুদিন ধরে সে আমার স্বামীকে ব্ল্যাকমেইল করে যাচ্ছিল ৷ ওর কাছে থাকা ওদের দু’জনের সমস্ত ছবি আর ভিডিয়ো ক্লিপ সোশাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল ৷ এনিয়ে আমার স্বামী একটা টেনশনের মধ্যে ছিল ৷”

মৌসুমির আরও দাবি, “যেদিন এই ঘটনা ঘটে তার আগের রাতে একটা নাগাদ দুর্লভ আমাদের ভাড়া বাড়িতে এসেছিল ৷ পরদিন সকাল 10টা নাগাদ ও বেরিয়ে যায় ৷ ওই রাতে সে সমস্ত কথা আমাকে জানায় ৷ বলে, ওর কাছ থেকে মেয়েটি 15 লাখ টাকা দাবি করেছে ৷ আমার স্বামী ওর গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরও ফোনে দু’একবার আমার সঙ্গে কথা হয়েছে ৷ তবে সন্ধের পর থেকে আমার স্বামীর ফোন সবসময় ব্যস্ত ছিল ৷ একসময় ও আমাকে ব্লক করে ফোন সুইচ অফ করে দেয় ৷ তারপর রাত 12টা নাগাদ ও এই ঘটনা ঘটায় ৷ ভোর তিনটে নাগাদ আমি ঘটনাটি জানতে পারি ৷ সালমার জন্যই আমার স্বামী নিজেকে শেষ করে দিতে বাধ্য হয়েছে ৷ আমি ওর বিরুদ্ধে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি ৷ সালমা এমন ঘটনা এর আগেও ঘটিয়েছে ৷ আমি ওর কঠোর শাস্তি দাবি করছি ৷”

এনিয়ে দুর্লভ সাহার স্ত্রী পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এতদিন মুখ খোলেননি সালমা ৷ শেষ পর্যন্ত অবশ্য মুখ খুলেছেন তিনি ৷ তাঁর বক্তব্য, “আমাকে বদনাম করতেই মৌসুমি সাহা এই মিথ্যে অভিযোগ তুলেছেন ৷ আমরা দু’জনেই কনটেন্ট ক্রিয়েটর ৷ এনিয়েই দুর্লভের সঙ্গে আমার যতটুকু সম্পর্ক ৷ এর বেশি কিছুই নয় ৷ সেটাও ভিডিয়োর জন্য ৷ ওর সঙ্গে আমার কোনও ঘনিষ্ঠ কিংবা অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি বা ভিডিয়ো নেই ৷ আর আমি ওর কাছে 15 লাখ টাকা চাইবই বা কেন ? ও শুধুমাত্র আমার একজন ভালো বন্ধু ছিল ৷ তবে একজন বন্ধু হিসাবে দুর্লভ তার পারিবারিক জীবনের কিছু কথা আমাকে বলেছিল ৷ জানিয়েছিল, ও খুব মানসিক কষ্টে রয়েছে ৷ ওর স্ত্রী আমার নামে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ৷ থানা থেকে আমাকে ডাকা হয়েছিল ৷ আমি সেখানে গিয়েছিলাম ৷ সেখানেই জানতে পারি, বিবাহ বিচ্ছেদ করার জন্য মৌসুমিই তাঁর স্বামীর কাছে 15 লাখ টাকা দাবি করেছিলেন ৷ এটা চাঁচল ও হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশও জানে ৷ মৌসুমি সাহা টাকার জন্য অন্তত 15-20 বার দুর্লভ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ৷ গ্রামবাসীরাও বিষয়টি জানে ৷"

তিনি আরও বলেন, "একবার দুর্লভ ও তার পরিবার আদালতের মাধ্যমে 10 লাখ টাকায় বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য রাজিও হয়ে যায় ৷ কিন্তু মৌসুমি 15 লাখ টাকার দাবিতে অনড় থাকায় তখন তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি ৷ এখন নিজেকে বাঁচাতে মৌসুমি আমার নামে এসব মিথ্যে অভিযোগ তুলছেন ৷ তিনি জানেন, দুর্লভের এই পরিণতির জন্য তিনিই দায়ী ৷ তিনি যদি সত্যি কথাই বলতেন তবে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি, এমনকি তাঁর নিজের পরিবার কেন তাঁর পাশে নেই ? আমি যদি দুর্লভের মৃত্যুর জন্য দায়ী হই তবে তো তাঁর বাবা-মা মেয়ের পাশে দাঁড়াতেন ? ওই ভিডিয়ো দেখে আমার মনে হয়েছে, দুর্লভ সেদিন মজার ছলেই ওই ভিডিয়ো করেছিল ৷ সে বাঁচার চেষ্টাও করেছিল ৷ সেদিন কিন্তু ও ওই ভিডিয়োতে আমার নামে একটি কথাও বলেনি ৷ সোশাল মিডিয়ায় আমার ফলোয়ারের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি ৷ সম্ভবত সেই কারণেই মৌসুমি আমাকে বদনাম করার চেষ্টা করছেন ৷ তবে সত্যিকে কখনও চাপা দিয়ে রাখা যায় না ৷”

চাঁচল মহকুমা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, “গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে ৷ প্রয়োজনে মৃতের স্ত্রী ও অভিযুক্ত তরুণীকেও থানায় ডেকে পাঠানো হবে ৷ কিছুদিনের মধ্যেই হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ প্রকৃত ঘটনা সামনে নিয়ে আসবে ৷”

আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয়

যদি আপনার মধ্যে কখনও আত্মহত্যার চিন্তা মাথাচাড়া দেয় বা আপনার কোনও বন্ধু বা পরিচিত এই সমস্যায় জর্জরিত হন, তাহলে ভেঙে পড়বেন না। জানবেন, এমন কেউ আছে যে আপনার যন্ত্রণা, আপনার হতাশা ভাগ করে নিতে সদা-প্রস্তুত। আপনার পাশে দাঁড়াতে তৎপর। সাহায্য পেতে দিনের যে কোনও সময়ে 044-24640050 এই নম্বরে কল করুন স্নেহা ফাউন্ডেশনে। টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সের হেল্পলাইন নম্বরেও (9152987821) কল করতে পারেন। এখানে ফোন করতে হবে সোমবার থেকে শনিবার সকাল 8টা থেকে রাত 10টার মধ্যে।