খাবারের স্টলের ভাড়া 6 লক্ষ টাকা, যুবভারতীর বিশৃঙ্খলায় সর্বস্বান্ত বিক্রেতা
মেসি বরণে বাংলার মাথা হেঁট ৷ সমালোচিত হতে শুরু করেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ৷ কারণ তাঁকেই যে বেশি মেসির বাহুডোরে দেখা গিয়েছে ৷

Published : December 13, 2025 at 9:17 PM IST
কলকাতা, 13 ডিসেম্বর: 4-18 হাজার টিকিটের দাম ৷ কলকাতায় ফুটবলের যুবরাজ লিওলেন মেসিকে একবার দেখতে অগণিত অনুরাগীরা এই হাজার হাজর মূল্যের টিকিট কেটে শনিবার ভিড় জমিয়েছিল যুবভারতীতে ৷ প্রিয় তারকাকে ঘিরে রেখেছিলেন নেতা থেকে মন্ত্রীরা, এমনটাই অভিযোগ মেসির অনুরাগীদের ৷ তারপরই ক্ষোভের রেশ আছড়ে পড়ে স্টেডিয়ামে ৷ যুবভারতী কেলেঙ্কারির ভয়াবহতা আরও প্রকাশ্যে আসতেই বাংলার মাথা হেঁট ৷ কিন্তু, অভিযোগের তিরে দাঁড়িয়ে থাকা অরূপ বিশ্বাস স্পিকিটি নট ৷ বলছেন, তদন্ত চলছে তাই কিছুই বলা সম্ভব নয় ৷ কিন্তু, যুবভারতীতে খাবারের স্টলের যিনি লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেছিলেন তিনি আজ সব হারালেন !
স্টেডিয়ামের ভিতরে এদিন খাবারের স্টল দেওয়ার ভাড়া ছিল 6 লক্ষ টাকা। বসিরহাট থেকে এসেছিলেন নিবারণ ঢোল। সারাবছর দেশজুড়ে বিভিন্ন স্টেডিয়ামে খাওয়ারের স্টল বা ক্যান্টিন দিয়ে তাঁর রুজি-রুটি চলে। সদ্য ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে স্টল দিয়েছিলেন বিশাখাপত্তনমে। মাঝের একটি খেলায় যাননি। কারণ তিলোত্তমায় মেসি আসছেন তাই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খাবারের স্টল দেবেন। সেই জন্য উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপর 6 লক্ষ টাকা দিয়ে স্টল দেওয়ার অনুমতি পান ৷
নিবারণ ঢোলের দলে মোট 11 জন রয়েছেন। তাঁরাও গ্যালারির বিভিন্ন অংশে স্টল দিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে মোট 11 লক্ষ দিতে হয়েছিল। নিশ্চিত ছিলেন টাকা উঠে যাবে। কিন্তু দিনের শেষে সর্বস্বান্ত নিবারণ ঢোলেরা। কীসের স্টল দিয়েছিলেন তাঁরা ?
ইটিভি ভারতের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলছেন, চিপস, জল, কোল্ড-ড্রিঙ্কস, প্যাটিস, চাউমিন, বিরিয়ানি, এগরোল নিয়ে বসেছিলেন। 200 টাকা করে জলের বোতল বিক্রি করছিলেন। বাকি খাবারও সাধারণ মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশিতে বিক্রি করতেন। শনিবার সকাল থেকে তা বিক্রি হচ্ছিলও বটে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বলিউড তারকা শাহরুখ খান, ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে ব্যবসা ভালো হওয়ার আশায় বুক বাঁধছিলেন তাঁরা। কিন্তু গণ্ডগোলে সবকিছু নষ্ট। 22 মিনিটের মধ্যে মেসিকে নেতা-মন্ত্রীরা ঘিরে রাখায় অনুরাগীরা তারকাকে দেখতেই পেলেন না ৷ তারপরই ছন্দপতন হয় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ৷ বিরাট ক্ষতির সামনে পড়ে বর্তমানে ভেঙে পড়েছেন এই খাবার ব্যবসায়ীরা ৷
মেসিকে চোখের সামনে দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত মেসি ভক্তরা ছুটে এসেছিলেন। ত্রিপুরা থেকে এসেছিলেন অরূপ মাইতি। শত-হাজার টাকা করে বিমান ভাড়া দিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন। টিকিট কিনেছিলেন 11 হাজার টাকা দিয়ে। এরপর হোটেলে ছিলেন ৷ মোটা অর্থ খরচ করেও মেসিকে দেখতে না-পাওয়ার হতাশা ত্রিপুরার যুবকের মধ্যে। মেসি সফরে প্রাক্তনদের ফুটবল ম্যাচ ছিল। জানা গিয়েছে, সেখানে গিয়ে গলাধাক্কা খেয়েছেন লালকমল ভৌমিক এবং সংগ্রাম মুখোপাধ্যায় ৷
এখানেই শেষ নয়। মেসিকে দেখার জন্য পাঁচ-দশ এমনকী 15 হাজার টাকা দাম দিয়ে টিকিট কেটে মাঠে এসেছিলেন তাঁরা। বেশকিছু ফুটবলপ্রেমী স্টেডিয়ামের ভাঙা বাকেট সিট নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। একজনকে দেখা গেল স্টেডিয়ামের বাইরে সাজানো ফুলের টব নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ বা ভাঙা চেয়ার হাতে বেরিয়ে যাচ্ছেন ৷ এমনকী, স্টেডিয়ামের কার্পেট নিয়েও বাড়ির পথে রওনা হলেন কেউ কেউ। জিজ্ঞেস করায় বললেন, মেসিকে এত টাকা দিয়ে টিকিট কেটে দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু দেখতে তো পেলাম না। কিছু একটা স্মৃতি অন্তত থাকুক।
এদিকে সন্ধ্যায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উপস্থিত হন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এমন বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী কে, তা জানতে চেয়েছেন। যদিও স্টেডিয়ামের গেট বন্ধ থাকায় তিনি ঢুকতে পারেননি। তিনিও একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গড়ার কথা বলেছেন। রাজ্যপাল লোকভবন থেকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পৌঁছলেও তাকে স্বাগত জানানোর জন্য কেউ ছিলেন না। তাঁকে ঢুকতে না-দিলেও সত্যিটা লুকিয়ে রাখা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলছেন, তদন্ত চলায় কোনও মন্তব্য করতে পারছেন না। তারপরও সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে চলে গিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী ৷
- 'কলকাতায় কেলেঙ্কারি' পেরিয়ে নিজামের শহরে GOAT, বল পায়ে ম্যাজিক মেসির

