ভোট-পুজোতেও পাড়ার ছেলে মহারাজ, স্ত্রী-দাদাকে নিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ
তিনি চান, ফলাফল যাই হোক, নির্বাচন যেন শান্তিতে হয় । মানুষ যেন নির্বিঘ্নে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে ।

Published : April 29, 2026 at 5:26 PM IST
কলকাতা, 29 এপ্রিল: দুর্গাপুজোয় বেহালা প্লেয়ার্স কর্নার । ভোটপুজোয় বেহালা জনকল্যাণ । দুই জায়গাতেই ভারতীয় ক্রিকেটের দাদা, সারা দেশের স্পোর্টস আইকন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নেহাতই পাড়ার ছেলে । যখন ক্রিকেট মাঠ দাপিয়েছেন, তখন 'বাপি বাড়ি যা' স্লোগান উঠেছিল বাংলার ঘরে ঘরে । এবার তাঁর অবস্থান যেন কিছুটা বদলে গিয়েছে । বুধবার তিনি আদ্যোপান্ত নির্বাচক, যে জায়গা ক্রিকেটের আঙিনায় এখনও তিনি নিতে পারেননি । রাজ্যের কয়েক কোটি মানুষের সঙ্গে তিনিও এদিন সংসদীয় গণতন্ত্রের একজন সৈনিক । বঙ্গবাসীর সঙ্গে তিনিও চান, ফলাফল যাই হোক, নির্বাচন যেন শান্তিতে হয় । মানুষ যেন নির্বিঘ্নে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে ।
এদিন স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় ও দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে বেহালার বড়িশা শশীভূষণ জনকল্যাণ বিদ্যাপীঠে ভোট দিতে যান বাংলার মহারাজ। গায়ে বেগুনি রং-এর শার্ট, বুকের বোতামটা খোলা । গালে কাঁচা-পাকা দাড়ি । যেন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঢাক বাজাতে বাজাতে চলে এসেছেন । তাঁকে দেখেই শোরগোল পড়ে যায় উপস্থিত ভোটারদের মধ্যে । উপস্থিত ছিল সংবাদমাধ্যমও । এদিন ভোটকেন্দ্রে ভক্তদের সঙ্গে সেলফিও তোলেন মহারাজ । প্রথম থেকেই বোঝা গিয়েছে, মুডে রয়েছেন তিনি ।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক বলেন, "এখানে কোনওদিন ভোটে গোলমাল হয় না। আজ কলকাতা কিংবা জেলাগুলি থেকে বড়সড় কোনও গণ্ডগোলের খবর পাওয়া যায়নি। এটাই তো হওয়া উচিত। মানুষ শান্তিতে ভোট দিচ্ছে। তবে ৪ মে কী হবে তা মানুষই বলবে।"
আজ সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নবাণকেও বারবার তাঁর বিখ্যাত স্কোয়ার ড্রাইভে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়েছেন মহারাজ । কয়েকটি কেন্দ্রে অনভিপ্রেত ঘটনা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতা, প্রশাসনের ভূমিকা, নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল, সব প্রশ্নের উত্তরেই পাওয়া গিয়েছে তাঁর সেই নিখুঁত টাইমিং। এক মিনিটেরও কম সময় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি । তার মধ্যেও স্বকীয়তা বুঝিয়ে দিয়ে ভোটকেন্দ্র ছেড়েছেন অফ সাইডের দ্বিতীয় ঈশ্বর ।
বাস্তবিক অর্থেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফাতেও প্রথম দফার মতো শান্তিতেই ভোটগ্রহণ চলছে । দু'একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এদিন কোথাও থেকেই বড়সড় কোনও গোলমালের খবর দুপুর পর্যন্ত পাওয়া যায়নি । তবে খাস কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের তরজা তুঙ্গে উঠেছে । কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা । শুভেন্দুকে গো ব্যাক স্লোগানের মুখে পড়তে হয়েছে। ভবানীপুর কেন্দ্রের জন্য গেরুয়া শিবির বিশেষ কোনও নীল নকশা তৈরি করেছে কিনা তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বাংলা জুড়ে।
রাজ্যের প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে 152টি কেন্দ্রে। প্রথম দফায় ভোটার থেকে শুরু করে সমস্ত রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনকে ক্লিনচিট দিয়েছে। প্রথম দফায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় 142টি কেন্দ্রে কমিশন নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে পারে কিনা এখন সেটার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।

