ETV Bharat / state

ভিনরাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা-খুন, প্রতিবাদে উৎকল ভবনে বিক্ষোভ বামেদের

ওড়িশায় জুয়েল রানার মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে স্মারকলিপি জমা ৷ উৎকল ভবনের আধিকারিকদের কাছে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে স্মারকলিপি ৷

ATTACK ON BENGALI MIGRANT WORKERS
ভিনরাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা-খুনের প্রতিবাদে উৎকল ভবনে বিক্ষোভ বামেদের (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 6, 2026 at 9:10 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 6 জানুয়ারি: উত্তরপ্রদেশ, অসম কিংবা ওড়িশা, বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা ও খুনের অভিযোগ উঠছে বিগত কয়েক বছর ধরে ৷ এমনকি বাংলায় কথা বললে, বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ৷ লাগাতার এই প্রবণতা চলছে বলে অভিযোগ ৷ যার শেষ সংযোজন গত ডিসেম্বরের শেষে ওড়িশার সম্বলপুরে বাংলায় কথা বলার জন্য মুর্শিদাবাদের জুয়েল রানাকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে খুন করার অভিযোগ ৷

আর সেই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে বামফ্রন্টের কলকাতা জেলার তরফে রাজ্যে ওড়িশা সরকারের উৎকল ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হল ৷ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে কয়েকজনের প্রতিনিধি দল, উৎকল ভবনের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন এবং জুয়েল রানার মৃত্যুর ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে ৷ পাশাপাশি, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে ৷ এই বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি দেওয়া প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সিপিআইএম নেতা কল্লোল মজুমদার ৷

ভিনরাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা-খুন, প্রতিবাদে উৎকল ভবনে বিক্ষোভ বামেদের (ইটিভি ভারত)

উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদ জেলার সুতির বাসিন্দা 19 বছর বয়সী তরুণ জুয়েল রানা ওড়িশার সম্বলপুরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে গিয়েছিলেন ৷ গত 24 ডিসেম্বর 2025 সালের রাতে একদল যুবকের বিরুদ্ধে তাঁকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে ৷ অভিযোগ, তাঁকে মারধরের সময় আধার কার্ড যাচাই করা হয়েছিল ৷ বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্যই তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ৷

এই ঘটনার পরপরই ওড়িশার মালকাগিরি জেলায় বসবাসকারী বাঙালি উদ্বাস্তু অধ্যুষিত গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী ৷ প্রায় 128টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ৷ কয়েক হাজার মানুষ বর্তমানে ঘরছাড়া ৷ ভাষা, ধর্ম ও জাতের বাহানায় সামাজিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের পরিস্থিতিকে নষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ৷

এদিন বামফ্রন্টের বক্তারা অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাসে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষত বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে ৷ বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিক, উদ্বাস্তু-সহ খেটে খাওয়া মানুষদের চিহ্নিত করে অত্যাচার, নির্যাতন এমনকি খুনের ঘটনাও ঘটছে ৷

এদিন বামফ্রন্টের তরফে দাবি করা হয়েছে, "এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অপরাধীকে গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। ভবিষ্যতে ওড়িশায় এই ধরনের আর কোনও ঘটনা যাতে না-ঘটে তা বর্তমান রাজ্য সরকারকে, তা সুনিশ্চিত করতে হবে ৷ কাজের সন্ধানে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা যাতে দেশের আইন মোতাবেক উপযুক্ত পরিবেশে ওড়িশা রাজ্যে কাজ করতে পারে, তার নিশ্চয়তা রাজ্য সরকারের দেওয়া উচিত। আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের সরকারি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।"

স্মারকলিপি দিয়ে আলোচনা করে বেরিয়ে কলকাতা জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক কল্লোল মজুমদার বলেন, "আমরা আশা করি, কলকাতা জেলা বামফ্রন্টের এই উদ্বেগ ও দাবির কথা বর্তমান ওড়িশা রাজ্য সরকারকে অবহিত করবেন এই আধিকারিক। প্রতিবেশি রাজ্য ও তার মানুষদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি রক্ষার স্বার্থে ইতিবাচক পদক্ষেপ করবে। এদিন সিপিএম নেতা কল্লোল মজুমদার ছাড়াও ছিলেন তরুণ ব্যানার্জি, সিপিআই নেতা প্রবীর দেব, আরএসপি নেতা দেবাশিস মুখার্জি সহ অন্যান্য নেতৃত্ব ।"