ETV Bharat / state

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার শুধু সংখ্যালঘুদের জন্যে, তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ বিজেপি বিধায়কের

ওন্দার বিধায়কের দাবি, রাজ্য বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া হবে ৷ যা নিয়ে গেরুয়া শিবিরকে পাল্টা নিশানা তৃণমূলের ৷

Lakshmir Bhandar
ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 7, 2026 at 7:02 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

ইন্দাস, 7 জানুয়ারি: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ বিজেপি বিধায়েকর ৷ মঙ্গলবার বাঁকুড়ার ইন্দাসে এক জনসভায় ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখার মন্তব্য, মমতা সরকারের লক্ষ্মী ভাণ্ডার আসলে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার কৌশল ৷

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন ৷ সম্ভবত মার্চ-এপ্রিলে হতে চলেছে ভোট ৷ বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন ৷ তারপরই বেজে যাবে বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা ৷ ইতিমধ্যেই দলীয় সভা করতে শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি ৷

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ বিজেপি বিধায়কের (ইটিভি ভারত)

প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখার মন্তব্য, রাজ্য সরকারের লক্ষ্মী ভাণ্ডার প্রকল্প থেকে সংখ্যালঘুরাই বেশি সুবিধা পাচ্ছে ৷ তাঁর যুক্তি, এই সরকারি প্রকল্প যে যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়, তা সবদিক থেকেই সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ সুবিধার ৷ তিনি বলেন, "মাসে মাসে বাড়ির মহিলারা যে এক হাজার টাকা হাতে পাচ্ছেন তা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, তা আসলে মুসলমান ভাণ্ডার।" কেন এমন মন্তব্য ? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "অধিকাংশ হিন্দু পরিবারে এক জন করে মহিলা ৷ স্বাভাবিকভাবে সেই পরিবারগুলি মাসিক এক হাজার টাকা পাচ্ছে । অন্যদিকে, অধিকাংশ সংখ্যালঘু পরিবারে একাধিক মহিলা থাকায় এই প্রকল্পে পরিবারপিছু 30 থেকে 40 হাজার টাকা পাচ্ছে ।"

বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের বামনিয়া হাটতলা ময়দানে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা ৷ প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বিজেপি বিধায়কের এই মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। বিজেপির বিভিন্ন জনসভা থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে কটাক্ষ করতে শোনা যায় পদ্মশিবিরের নেতাদের ৷ এমনকী বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে গেরুয়া শিবির ৷ এবার একধাপ এগিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে কার্যত সংখ্যালঘুদের জন্য বলে দাবি করেন ওন্দার বিজেপি বিধায়ক ৷

তাঁর দাবি, সমাজের বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে তোষণ করতেই এই প্রকল্প। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির উদাহরণ টেনে বিধায়ক দাবি করেন, এ রাজ্যে সরকার বদল হলে ওই প্রকল্পের নাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার করে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে অর্থ তুলে দেওয়া হবে । প্রকাশ্য সভামঞ্চে বিজেপি বিধায়কের এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা বাংলার নারী শক্তি ৷ আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে এই মহিলারাই রাজ্য ছাড়া করবে বুঝতে পেরেই বিজেপি নেতারা এমন মন্তব্য করছেন ৷ আসলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জনপ্রিয়তাকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি ৷ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই প্রকল্প প্রাপক নারীশক্তি বিজেপিকে রাজ্য ছাড়া করবে ।

তৃণমূলের ইন্দাস ব্লক সভাপতি শেখ হামিদ বলেন, "লক্ষ্মীর ভাণ্ডারই ওদের মাথাব্যাথা হচ্ছে ৷ এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারেই ওরা 'বধ' হবে ৷ লক্ষ্মীর সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাম কীভাবে আসে আমরা বুঝতে পারছি না ৷ হিন্দু ধর্মের একজন দেবী হলেন লক্ষ্মী ৷ তাঁকে কীভাবে অসম্মান করা যায়, আমার জানা নেই ৷ এটাই কী হিন্দুত্ববাদী দল ? আসন্ন বিধানসভা ভোটে লক্ষ্মীরূপী নারীশক্তির হাতেই বধ হবে বিজেপি ৷"