শশী থারুরকে ডি.লিট উপাধি দিচ্ছে সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়
আগামী 21 ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান হবে । প্রতি বছরের মতো এবারও ডিগ্রি প্রদানের অনুষ্ঠান হবে বিশেষ অতিথিদের নিয়ে ।

Published : December 11, 2025 at 1:50 PM IST
কলকাতা, 11 ডিসেম্বর: কংগ্রেস সাংসদ তথা বিশিষ্ট লেখক শশী থারুরকে ডি.লিট উপাধি দেবে সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় ৷ আগামী 21 ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান । প্রতি বছরের মতো এবারও ডিগ্রি প্রদানের অনুষ্ঠান হবে বিশেষ অতিথিদের নিয়ে । সেখানেই বিশেষ সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত শশী থারুরকে সম্মানিত করা হবে ডি.লিট উপাধিতে ।
সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জন ফেলিক্স রাজ জানান, "আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই বছর তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ ড. শশী থারুরকে সম্মানীয় ডি.লিট দেওয়া হবে বিশ্ববিদ্যলয়ের তরফে । 2019 সালে বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রথম বছরের সমাবর্তনে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন । বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি নিয়েও ড. থারুর নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন ।"

69 বছরের থারুর 2009 সাল থেকে কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবে তিরুবনন্তপুরম কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন । লন্ডনে জন্ম হলেও তাঁর শৈশব কেটেছে মুম্বইয়ে । কলকাতার সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর । 1969 থেকে 1971 সাল পর্যন্ত তিনি সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন । পরে কূটনীতিক, লেখক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতি অর্জন করলেও কলকাতার প্রতি তাঁর টান আজও অটুট । তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভা ও বহুভাষিক লেখনীর জোরে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও তিনি সমান সমাদৃত ৷ সেই কারণেই এ বছর তাঁকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করছে সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় ।
এছাড়াও এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি হয়ে আসছেন আর্তুরো সোসা, যিনি বর্তমানে রোমে সোসাইটি অফ জেসাসের সুপিরিয়র জেনারেল । সমাবর্তনে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও । সমাবর্তন অনুষ্ঠান হবে নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে । বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এ বছর মোট 1,050 জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি গ্রহণ করবেন, যার মধ্যে 24 জন পিএইচডি গবেষক । 2017 সালে মাত্র 400 পড়ুয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল । সেই সংখ্যাটা আজ বেড়ে 4,300-তে পৌঁছেছে । বর্তমানে 20টি ভিন্ন পাঠ্যক্রম পড়ানো হচ্ছে ।

শুধু ডিগ্রি প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুতই শিক্ষা পরিষরে বড়সড় বিস্তার ঘটাতে চলেছে । সেন্ট জেভিয়ার্স শীঘ্রই নার্সিং স্কুল চালু করার পরিকল্পনা করেছে । এরপর মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে । ইতিমধ্যেই 10 একর জমির জন্য আবেদন জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে । তবে জমি অনুমোদনের বিষয়টি এখনও অপেক্ষায় ।
উপাচার্য জন ফেলিক্স রাজ জানান, সাত বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়কে নার্সিং স্কুল খোলার পরামর্শ দিয়েছিলেন । কিন্তু তখন প্রস্তুতি সম্পূর্ণ না-থাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি । বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের বহু ছাত্রী নার্সিং প্রশিক্ষণের জন্য তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকে যাচ্ছেন । এই পরিস্থিতিতে রাজ্যেই একটি আধুনিক নার্সিং স্কুল গড়ে উঠলে পড়ুয়াদের বাইরে যেতে হবে না ।
মেডিক্যাল কলেজের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশাবাদী । সেন্ট জেভিয়ার্সের প্রাক্তন চিকিৎসকরাও এই উদ্যোগে উৎসাহ জোগাচ্ছেন ।প্রয়োজনীয় অর্থ ও জমির ব্যবস্থা হলে আগামী দু’বছরের মধ্যেই মেডিক্যাল কলেজ চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন উপাচার্য ।

