নির্বাচনের আগে কড়া নজরদারি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মহড়ায় প্রস্তুত কলকাতা পুলিশ
কলকাতায় প্রথম দফায় মোতায়েন করা হবে 12 কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী৷

Published : February 28, 2026 at 5:08 PM IST
কলকাতা, 28 ফেব্রুয়ারি: রাজ্যে বিধানসভা ভোট আসন্ন৷ এখনও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা না-হলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গে৷ নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম দফায় 240 কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে৷ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ শুরু হয়ে গিয়েছে৷ তবে কলকাতায় এখনও এসে পৌঁছয়নি বাহিনী৷ তার আগেই কলকাতার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা নিয়ে বিশেষ পদক্ষেপ করল লালবাজার৷
লালবাজার সূত্রে খবর, ভোটের সময় যাতে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না-হয়, সেই কারণেই এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ৷ শহরের প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নিজেদের এলাকায় সমস্যাপ্রবণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিকদের নির্দেশ অনুযায়ী, সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আলাদা জোনে ভাগ করতে হবে, যাতে পরিকল্পিতভাবে মহড়া চালানো যায়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তিনটি বিষয়ের উপর — গত নির্বাচনে হিংসাপ্রবণ এলাকা, অত্যন্ত স্পর্শকাতর ভোটকেন্দ্র এবং জেলার সীমানা সংলগ্ন ওভারল্যাপিং অঞ্চল। প্রতিদিনের অগ্রগতির রিপোর্ট লালবাজারে জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাও উল্লেখ করতে হবে।
একই সঙ্গে গত নির্বাচনে হিংসার সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতীদের আলাদা তালিকা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে জোরকদমে। দুষ্কৃতীদের ক্ষেত্রেও তিনটি পৃথক তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—পরিচিত অপরাধী, এলাকায় সক্রিয় কিন্তু অন্যত্র বসবাসকারী অপরাধী এবং নতুন বা উদীয়মান অপরাধী। পাশাপাশি, জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো এবং পলাতকদের তথ্য সংগ্রহের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের সীমানা এলাকার থানাগুলিকে পারস্পরিক সমন্বয়ে যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "আমরা প্রতিবার এইভাবেই কাজ করে থাকি৷"
এদিকে রাজ্যে প্রথম দফায় যে 240 কোম্পানি আসছে, তার মধ্যে 12 কোম্পানি মোতায়েন করা হবে কলকাতায়। বাহিনী পৌঁছানোর পরই শুরু হবে এলাকা আধিপত্য মহড়া। প্রতিটি কোম্পানির কমান্ডাররা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দায়িত্ব বণ্টন ও টহলের সময়সূচি চূড়ান্ত করবেন। সাধারণত একটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোম্পানি প্রতিদিন তিনটি থানার এলাকায় টহল ও মহড়া চালায়। সময়সূচি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচনের আগে শহরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

