তদন্তের ক্ষেত্রে সময়ই আসল চাবিকাঠি, লালবাজারের চিত্রগ্রহণ ব্যবস্থাতে বদল আনার ভাবনা
কলকাতার নগরপাল মনোজকুমার ভার্মা নতুন বছরে চিত্রগ্রহণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছেন ৷ কেন এই নয়া পদক্ষেপ ?

Published : January 3, 2026 at 8:14 PM IST
কলকাতা, 3 জানুয়ারি: তদন্তের ক্ষেত্রে সময়ই আসল চাবিকাঠি ৷ মানছে লালবাজার ৷ আর তাই সময় বাঁচাতে ও তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত চিত্রগ্রহণ ব্যবস্থায় বদল আনতে চাইছে কলকাতা পুলিশ ৷
মূলত শহরের একাধিক প্রান্তে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে লালবাজার থেকে সেখানে পৌঁছতে অনেকটাই সময় লেগে যায় ক্যামেরা টিমের । অথচ কিছু কিছু তদন্তের ক্ষেত্রে এই সময়টাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । প্রথম কয়েক মিনিটের ছবি, ভিডিয়ো বা ভিজ্যুয়াল প্রমাণই অনেক সময় পুরো তদন্তের অভিমুখ ঠিক করে দেয় । সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই নতুন বছর থেকে বিষয়টি নতুনভাবে ভাবার পথে হেঁটেছেন কলকাতার নগরপাল মনোজকুমার ভার্মা ।

লালবাজার সূত্রে জানা যাচ্ছে, বর্তমানে কলকাতা পুলিশের চিত্রগ্রহণ ব্যবস্থা পুরোপুরি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে । বড় কোনও ঘটনা, বিক্ষোভ, দুর্ঘটনা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হলে লালবাজার থেকেই ক্যামেরা নিয়ে চিত্রগ্রাহকদের পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট এলাকায় । কিন্তু বাস্তবে শহরের ভৌগোলিক বিস্তার, যানজট এবং আচমকা তৈরি হওয়া পরিস্থিতির কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে অনেক সময়ই দেরি হয়ে যায় । এই দেরির প্রভাব পড়ে তদন্তের গুণগত মানে ।
বিশেষ করে হঠাৎ বিক্ষোভ, অবরোধ বা অশান্তির ক্ষেত্রে প্রাথমিক মুহূর্তের ছবি না থাকলে পরে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে সমস্যা হয় । পুলিশের একাংশের মতে, ঘটনাস্থল 'ঠান্ডা' হয়ে যাওয়ার পরে তোলা ছবি অনেক সময় আদালতে বা তদন্তে প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায় না । এই অভিজ্ঞতা থেকেই কলকাতা পুলিশের অন্দরে নতুন একটি ভাবনাচিন্তা জোরালো হচ্ছে ৷ তা হল, প্রতিটি ডিভিশনে আলাদা করে নিজস্ব চিত্রগ্রাহক দল রাখা ।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ডিভিশন স্তরে মোতায়েন থাকা এই ক্যামেরা টিম সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারবে । পুলিশ সূত্র বলছে, এতে শুধু দ্রুত ছবি বা ভিডিয়ো সংগ্রহই নয়, বরং ঘটনার ধারাবাহিক নথিভুক্তিকরণ অনেক বেশি নির্ভুল হবে । তদন্তে স্বচ্ছতা বাড়বে ৷ আদালতে প্রমাণ পেশের ক্ষেত্রে পুলিশের অবস্থান হবে আরও শক্ত ।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনও অভিযোগ উঠলে বা মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্ন এলে ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন বড় ভূমিকা নিতে পারে । নগরপাল মনোজকুমার ভার্মার নেতৃত্বে নতুন বছরের শুরুতে কলকাতা পুলিশের কাজের কাঠামো আরও কার্যকর এবং সময়োপযোগী করার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলছে ।
যদিও এখনও এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি ৷ তবে শীর্ষ মহলে বিষয়টি নিয়ে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে বলেই খবর । পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে অনেকেরই মত, শহরের ক্রমবর্ধমান জনঘনত্ব ও পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে শুধু বাহিনী নয়, তথ্য সংগ্রহের গতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ । সেই বাস্তবতাকে স্বীকার করেই ক্যামেরা ব্যবস্থায় এই সম্ভাব্য বদল, যা কার্যকর হলে কলকাতা পুলিশের তদন্ত পদ্ধতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক অতিরিক্ত নগরপাল পদের আধিকারিক বলেন, "বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে তদন্তে অনেক সুবিধা হবে ৷"

