ETV Bharat / state

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কলকাতা পুলিশের নয়া কৌশল, সক্রিয় হচ্ছে বিশেষ মহিলা কমব্যাট ইউনিট

মহিলা দ্বারা সংঘটিত আন্দোলন ও বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণ করতে তৎপর কলকাতা পুলিশ ৷ প্রতিটি ডিভিশনে একটি বিশেষ কাঠামো তৈরি করার পরিকল্পনা ৷

KP Special Women Combat Unit
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কলকাতা পুলিশের নয়া কৌশল ৷ (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : May 30, 2026 at 2:51 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 30 মে: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক কাঠামোর পাশাপাশি, এবার পুলিশের কাজের ধরনেও একাধিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে ৷ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে আরও দ্রুত, কার্যকর এবং সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিল কলকাতা পুলিশ ৷ বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে পার্ক সার্কাস-সহ কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে লালবাজার আইনশৃঙ্খলা মোকাবিলার ক্ষেত্রে নতুন রূপরেখা তৈরি করেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর ৷

কলকাতা পুলিশের অভ্যন্তরীণ মহলের দাবি, অতীতে কোনও এলাকায় অশান্তি বা উত্তেজনার ঘটনা ঘটলে সেখানে পর্যাপ্ত মহিলা পুলিশ মোতায়েন করতে কিছুটা সময় লেগে যেত ৷ কারণ, সংশ্লিষ্ট থানার মহিলা পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ডিভিশন থেকে বাহিনী আনার ক্ষেত্রে একাধিক স্তরের অনুমোদন ও নির্দেশের প্রয়োজন হতো ৷ ফলে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিত ৷

এই পরিস্থিতি বদলাতেই প্রতিটি ডিভিশনে একটি বিশেষ কাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ডিভিশনে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম থাকবে ৷ তাঁর অধীনে দু’জন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক কাজ করবেন ৷ কোনও এলাকায় হঠাৎ করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে বা জনরোষ তৈরি হলে, এই টিম সরাসরি ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টার থেকেই মহিলা পুলিশ বাহিনীকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে ৷

পুলিশ সূত্রের খবর, নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কমিয়ে আনা ৷ এতদিন যেখানে বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে বিভিন্নস্তরে নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে এখন ডিভিশনাল পর্যায়েই আগাম কর্মপরিকল্পনা বা 'ব্লুপ্রিন্ট' তৈরি করে রাখা হবে ৷ ফলে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ করা অনেক সহজ হবে ৷

লালবাজারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়, "আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ৷ কোনও ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া গেলে, অনেক বড় সমস্যা তৈরি হওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব ৷ সেই লক্ষ্যেই এই নতুন ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছে ৷"

পুলিশের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন, বিক্ষোভ বা স্থানীয় উত্তেজনার ঘটনায় দেখা গিয়েছে যে, বহু ক্ষেত্রে মহিলাদের সামনে রেখে প্রতিবাদ গড়ে তোলা হয় ৷ ফলে পুরুষ পুলিশকর্মীদের পক্ষে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা কঠিন হয়ে পড়ে ৷ সেই পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত মহিলা বাহিনী উপস্থিত না-থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয় ৷

দক্ষিণ কলকাতার একটি থানার এক আধিকারিক নাম প্রকাশ না-করার শর্তে বলেন, "অনেক সময় কোনও গন্ডগোলের ঘটনায় এলাকার মহিলাদের একত্রিত করা হয় এবং তাঁরা সরাসরি পুলিশের সামনে এসে দাঁড়ান ৷ সেই সময় পর্যাপ্ত মহিলা পুলিশ না-থাকলে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যা হয় ৷ বাহিনী পৌঁছতে পৌঁছতে অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে ৷ নতুন ব্যবস্থায় এই সময় অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে ৷"

পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্প আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে ৷ বিভিন্ন ডিভিশনে এর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে ৷ কোথায়, কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে এবং কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হবে ৷

কলকাতা পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, "নতুন ব্যবস্থাটি কতটা সফল হয়, তা বাস্তব পরিস্থিতিতেই বোঝা যাবে ৷ আমরা আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এই মডেল কার্যকর করার চেষ্টা করছি ৷ যদি ইতিবাচক ফল মেলে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোনো হবে ৷"

পুলিশ মহলের একাংশের মতে, শহর কলকাতায় দ্রুত পরিবর্তিত সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশি কৌশলেও পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে ৷ সেই কারণেই মহিলা পুলিশ বাহিনীর ব্যবহার, দ্রুত মোতায়েন এবং ডিভিশনাল স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপকে ভবিষ্যতের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে ৷

নতুন এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, তা সময়ই বলবে ৷ তবে, লালবাজারের লক্ষ্য একটাই যে কোনও অশান্ত পরিস্থিতিতে আরও দ্রুত, সংগঠিত এবং কার্যকরভাবে মাঠে নামা ৷