মন্দিরের ফেলে দেওয়া ফুল-মালায় কর্মসংস্থান ! অভিনব উদ্যোগ কলকাতা কর্পোরেশনের, চালু হবে প্ল্যান্ট
পরিবেশ রক্ষা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে মন্দিরগুলির বর্জ্য ফুলকে পুনর্ব্যবহার করার পরিকল্পনা কলকাতা কর্পোরেশনের ৷

Published : July 6, 2026 at 6:24 PM IST
কলকাতা, 6 জুলাই: শহরের বিভিন্ন মন্দির, মসজিদ, গুরুদ্বার ও চার্চের ফেলে দেওয়া ফুল থেকে এবার তৈরি হবে আবির ও ধূপকাঠি ৷ হবে কর্মসংস্থানও ৷ এমনই উদ্যোগ কলকাতা কর্পোরেশনের ৷ এই মেগা প্রকল্পে কলকাতা পুরনিগমকে প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোগত ভাবে সাহায্য করবে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর ৷
কালীঘাট মন্দির, ভূতনাথ, লেক কালীবাড়ি, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি, করুণাময়ী, জগন্নাথ মন্দির, নাখোদা মসজিদ, বড়বাজারে গণেশ মন্দিরের মতো বিপুল জনসমাগম হয় এমন অনেক মন্দির, মসজিদ, গুরুদ্বার, চার্চ আছে শহর কলকাতায় ৷ যেখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে ফুলের বর্জ্য তৈরি হয়। পরিবেশ রক্ষা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে মন্দিরগুলির বর্জ্য ফুলকে পুনর্ব্যবহার করার এই পরিকল্পনা করেছে কলকাতা কর্পোরেশন ৷ পুরনিগমের তরফে জানা গিয়েছে, ফেলে দেওয়া ফুল, মালা ও পাতা সংগ্রহ করে তৈরি হবে ভেষজ আবির ও ধূপকাঠি ৷
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সহায়তায় কলকাতা কর্পোরেশন তৃতীয় পক্ষ দিয়ে এই প্ল্যানটি তৈরি করা হবে বলে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে ৷ শহরের বিভিন্ন ছোট-বড় ধর্মীয় স্থানগুলিতে তৈরি হওয়া ফুলের বর্জ্য সংগ্রহ করে সেটি প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ভেষজ আবির ও ধুপকাঠি।
এই প্রসঙ্গে কলকাতা কর্পোরেশেন এক আধিকারিক বলেন, "আমাদের কাজ হল এই ফুল বা পাতা থেকে যে দূষণ হয় সেটা আটকানো। তাই একটা প্ল্যান্ট করার পরিকল্পনা আছে ৷ টেন্ডারের মাধ্যমে কোনও তৃতীয় পক্ষকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে ৷ আমরা আরও সুস্পষ্ট করে ফুল ও পাতা এইসব বর্জ্যগুলো পৃথকীকরণ করে সংগ্রহ করব। তারপর তা প্ল্যান্টে পৌঁছে দেব। সেই কাজ করা থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ করা ও ধুপকাটি বা আবির তৈরির কাজে অনেকেরই কর্মসংস্থান হবে। এই কাজে বেশির ভাগ মহিলাদের নিয়োগ করা হবে। তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়াও হবে। এখন এই ফুলমালার বড় অংশই হয় ডাম্পিং গ্রাউন্ড, না-হলে গঙ্গার জলে যায় ৷ ফলে জলদূষণ হয়।"
তিনি জানান, এই প্রকল্প একটি পরিবেশ বান্ধব উদ্যোগ। মন্দির চত্বরে যেমন পরিচ্ছন্ন থাকবে, তেমনি গঙ্গাদূষণ হবে না। ডাম্পিং গ্রাউন্ড অযথা পড়বে না। যদিও পচনশীল কিছুটা বায়োগ্যাস তৈরিতে ব্যবহার হয়। ধূপ বা আবির তৈরিতে যেমন মহিলারা যুক্ত হয় আয় করবেন, তেমন এগুলি বিক্রির ক্ষেত্রে আয় হবে।
পুরকর্তার কথায়, বিষয়টি নিয়ে একদম প্রাথমিকস্তরে আলোচনা হয়েছে ৷ এবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সঙ্গে কথা বলে একটি সুনির্দিষ্ট পথে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে ৷ প্রাথমিক কাঠামো কলকাতা কর্পোরেশন তত্বাবধানে হবে। তবে চালাবে কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

