শহরের উচ্চ বাতিস্তম্ভগুলির অবস্থা কী, খতিয়ে দেখার কাজ শুরু কর্পোরেশনের
সম্প্রতি হেস্টিংসে একটি বাতিস্তম্ভের আলো খুলে পড়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়৷ তার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কলকাতা পুরনিগমের তরফে৷

Published : May 30, 2026 at 6:54 PM IST
কলকাতা, 30 মে: শহর জুড়ে কলকাতা কর্পোরেশনের রয়েছে একাধিক উচ্চ বাতিস্তম্ভ। সেগুলি কেমন অবস্থায় আছে? কাঠামো খতিয়ে দেখা শুরু করছে কর্পোরেশনের আলোক বিভাগ। হেস্টিংসে উচ্চ বাতিস্তম্ভ ভেঙে শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত বলেই জানা গিয়েছে কর্পোরেশন সূত্রে। পাশাপাশি সামনেই বর্ষা। ইতিমধ্যেই মাঝে মধ্যে হচ্ছে ব্যাপক ঝড় বৃষ্টি। সেই সময় যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, তাই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে৷
সম্প্রতি হেস্টিংস চত্বরে বাতিস্তম্ভ থেকে আলো খুলে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল এক শিশুর। সরকারের তরফে দেওয়া হয়েছে ক্ষতিপূরণের চেক। এদিকে ওই আলোক স্তম্ভ কলকাতা কর্পোরেশনের না হলেও এই ঘটনায় রীতিমত হইচই পড়েছে কলকাতায়। এইচআরবিসি-র এই বাতিস্তম্ভ ভেঙে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় শহর কলকাতায়, তাই আলোক বিভাগ শুরু করেছে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। যদিও এর আগেই বাতিস্তম্ভ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে৷ তবুও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে হেস্টিংস-কাণ্ডের পরে।

বিশেষ করে জনবহুল বাসস্ট্যান্ড বা বাজার এলাকা কিংবা বড় রাস্তার মোড়গুলিতেই এই উচ্চ বাতিস্তম্ভ থাকে। সেগুলো সব ঠিক আছে কি না, কোনও আলো সংযোগ সমস্যা আছে কি না, বিদ্যুৎ সংযোগ তার সব ঠিক আছে কি না, বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখবেন ইঞ্জিনিয়াররা। মাত্রাতিরিক্ত ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা পেলে প্রয়োজনে বিপদ এড়াতে আলোচনার ভিত্তিতে কিছু জায়গায় উপরের আলোর অংশটি নিচে নামিয়ে রাখা হবে। দুর্যোগ কেটে গেলে আবার তুলে দেওয়া হবে।

এর পাশাপাশি বর্ষার কথা মাথায় রেখে ল্যাম্প পোস্টগুলো খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। কোন কোন পোস্টে আর্থিং নেই, কোনগুলিতে জং ধরেছে, কোথাও তার বেরিয়ে আছে কি না, এই সবটাই খতিয়ে দেখবে। গত বছর থেকেই পোস্টগুলিতে প্লাস্টিকের বিশেষ কভার দেওয়া শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকায় দেওয়ার কথা ছিল। এক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে যে জয়গাগুলিতে বেশি জল জমে, সেই সব এলাকায় হবে। আসতে আসতে বিভিন্ন রাস্তার ধারে থাকা পোস্ট কিংবা বিশেষ করে বস্তি এলাকায় এই ধরনের পোস্টগুলি কভার করে দেওয়ার কাজ দ্রুততার সঙ্গে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা কর্পোরেশন।

এই প্রসঙ্গে এক পুর-কর্তা বলেন, ‘‘আমরা নিয়মিত উচ্চ বাতিস্তম্ভ রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকি। তবে সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটল, তাতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করছি। আলো বিস্তারিত ভাবে যাচাই করতে বলেছি।’’

