বিরোধীদের আশায় 'জল' ঢালতে ভোটের আগে দুই জল প্রকল্পের উদ্বোধন
পুর কর্তৃপক্ষের আশা, বিধানসভা ভোটের আগেই ধাপা ও গড়িয়া ঢালাই ব্রিজ জলপ্রকল্প থেকে শুরু হবে জল সরবরাহ ৷ উপকৃত হবেন লক্ষাধিক মানুষ ৷

Published : March 4, 2026 at 4:56 PM IST
মনোজিৎ দাস
কলকাতা, 4 মার্চ: কলকাতা কর্পোরেশনের এলাকা ও জনসংখ্যা ক্রমশ বাড়লেও বাড়েনি পরিস্রুত পানীয় জলের উৎপাদন ৷ ফলে কলকাতার বাসিন্দা হয়েও অনেককে নির্ভর করতে হয় ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের উপরে ৷ তবে এবার এই সমস্যা মিটতে চলেছে ৷
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধাপা ও গড়িয়া ঢালাই ব্রিজের দুই জলপ্রকল্পের উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা ৷ তার হাত ধরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে যাবে দক্ষিণ কলকাতার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ৷
ধাপা ও গড়িয়া ঢালাই ব্রিজের কাছে গড়ে উঠছে দু'টি আধুনিক 'ওয়াটার ট্রিটমেন্ট' প্ল্যান্ট ৷ পুর কর্তৃপক্ষের আশা বিধানসভা ভোটের আগেই অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মাসের মধ্যেই এই দু'টি জলপ্রকল্প থেকে শুরু হবে জল সরবরাহ ৷ উপকৃত হবেন লক্ষাধিক মানুষ ৷ মেয়র ফিরহাদ হাকিম ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, দক্ষিণ কলকাতার কয়েকটি অংশে পানীয় জলের উৎস ভূগর্ভস্থ পানীয় জল ৷ আর সেই কারণে জলস্তর কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায় ৷ এই সমস্যার সমাধান করতে দুটি নতুন জল প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে ৷ ধাপা ও গড়িয়া ঢালাই ব্রিজে জল প্রকল্পের কাজ শেষ হলে 2026 সালের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে সমস্যা মিটবে ৷ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে পরিস্রুত পানীয় জল ৷
ধাপায় নির্মীয়মাণ জলপ্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক 20 মিলিয়ন গ্যালন ৷ গড়িয়া ঢালাই ব্রিজ জলপ্রকল্পে পরিস্রুত পানীয় জল উৎপাদন ক্ষমতা প্রতিদিন 10 মিলিয়ন গ্যালন ৷ অর্থাৎ দৈনিক 30 মিলিয়ন গ্যালন অতিরিক্ত পরিস্রুত পানীয় জল উৎপাদন হবে এই নতুন দুই প্রকল্পে ৷ যা দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের পানীয় জলের সমস্যা মিটিয়ে দেবে ৷
এছাড়া যে সব এলাকায় জলের চাপ অত্যন্ত কম, সেখানও এবার জলের চাপ বাড়বে ৷ সবমিলিয়ে তীব্র গরমে দক্ষিণ কলকাতার জলকষ্টের যে ছবি প্রতি বছর উঠে আসে এবার তা বদল হবে আশা করছে পুর কর্তৃপক্ষ। দু'টি প্রকল্পের জন্য খরচ হচ্ছে 200 কোটি টাকার বেশি ৷
গড়িয়া ঢালাই ব্রিজ জল উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি হলে টালিগঞ্জ, যাদবপুর, কসবা এবং গড়িয়া এলাকার 20টির বেশি ওয়ার্ডের মানুষ উপকৃত হবেন ৷ এখানে অধিকাংশ জায়গায় পানীয় জলের জন্য মানুষের ভরসা গভীর নলকূপ ৷ কিছু অংশে গার্ডেনরিচের জল আসে ৷ এই দুই প্রকল্প চালু হলে কলকাতা পুরনিগম সংযুক্ত এলাকা যেমন টালিগঞ্জ, যাদবপুর এবং ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কয়েক লক্ষ বাসিন্দা উপকৃত হবেন বলে দাবি পুর প্রশাসনের।
তবে শুধু জলপ্রকল্প নির্মাণেই শেষ নয়। সেই জল পৌঁছে দিতে প্রয়োজন বিস্তৃত পাইপলাইন নেটওয়ার্ক ৷ পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় 350 কোটি টাকা ব্যয়ে মোট 91টি স্ট্রেচ মিলিয়ে প্রায় 135 কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন পাতার কাজ শুরু হয়েছে ৷ ইতিমধ্যে 50 কিলোমিটারেরও বেশি অংশে পাইপ বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে ।
মেয়র নিজে ধাপা জলপ্রকল্প একাধিকবার ঘুরে দেখেছেন। বর্তমানে 30 মিলিয়ন গ্যালন প্রতিদিন উৎপাদন হয় ৷ এর পর আর 20 মিলিয়ন গ্যালন উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে ৷ এই জল মূলত বাইপাস দুই অংশে, কসবার কিছুটা, টালিগঞ্জ কিছুটা, তপসিয়া, সায়েন্স সিটি এলাকায় সরবরাহ হলে প্রচুর মানুষ উপকৃত হবে ৷

