ETV Bharat / state

কর্পোরেশনে ফাইল লোপাট আটকাতে নজরদারির নির্দেশিকা পুর প্রশাসনের

বিজেপির তরফে ফাইল লোপাটের অভিযোগ করা হয়েছিল৷ তার পরই এই নির্দেশিকা জারি করলেন কলকাতার পুর-কমিশনার স্মিতা পান্ডে৷

Kolkata Municipal Corporation
কলকাতা পুরনিগম (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : May 29, 2026 at 9:42 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 29 মে: সজল ঘোষ, মিনাদেবী পুরোহিত থেকে শুরু করে বিজেপির চার কাউন্সিলর একযোগে অভিযোগ তুলেছিল কলকাতা পুরসভা থেকে ফাইল লোপাটের পরিকল্পনা চলছে। কয়েকদিন আগে পুর-সচিবকে নিয়ে বেশ কিছু জায়গায় ফাইল বস্তাবন্দি হয়ে আছে, তা দেখিয়েছেন বিজেপিতে যোগ দেওয়া কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক। সেই প্রেক্ষিতেই এবার কলকাতা কর্পোরেশনের জারি হল কঠোর নির্দেশিকা।

কলকাতা কর্পোরেশনের পুর-কমিশনার স্মিতা পান্ডের তরফে জারি করা এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কঠোরভাবে নজরদারি চালাতে হবে কলকাতা কর্পোরেশনের কেন্দ্রীয় ভবনের প্রতিটা গেটে। মোতায়ন করতে হবে অতিরিক্ত কর্মী। যেকোনও ধরনের ফাইল নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া কেন্দ্রীয় ভবনের বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। কোনও ফাইল যাতে কেন্দ্রীয় ভবনের বাইরে কোনও কর্মী আধিকারিক কোনও পরিস্থিতিতেই নিয়ে যেতে না পারেন, তার জন্য কড়া নজরদারি চালাতে হবে৷ প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী থাকতে হবে প্রতিটা গেটে।

সম্প্রতি বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ, মিনাদেবী পুরোহিতরা অভিযোগ তুলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফাইল চুরি করতে দেখা গিয়েছিল। তার দলের তরফে কলকাতা কর্পোরেশনে ও ফাইল লোপাট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে তাদের দখলে থাকা কলকাতা পুর-বোর্ডের 15 বছরের দুর্নীতি হদিশ না মেলে। সেটা কোনোমতেই হতে দেওয়া যাবে না। এরপরেই সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেওয়া কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক পুর-সচিব কিশোরকুমার বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করে ফাইল লোপাটের চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ জানান। পুর-সচিবকে নিয়ে পুরভবনের বেশ কিছু জায়গা ঘুরিয়ে দেখান।

সেখানে দেখা যায় নিচতলা ও বেশ কয়েকটি জায়গায় বস্তাবন্দী থরে থরে ফাইল রাখা। কোন বিভাগের ফাইল, কেনই বা ওই জায়গায় রাখা, কেনই বা বস্তাবন্দী করা, বস্তাগুলো কোথায় যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর কোনও কর্মী দিতে পারেননি। সন্দেহ আরও জোরালো হলে পুর-সচিবকে হস্তক্ষেপ করার দাবি করেন সন্তোষ কুমার পাঠক। সচিব আশ্বাস দিয়েছিলেন যে পুর-কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

এর পর এদিন জারি হল পুর-কমিশনারের নির্দেশিকা, যা স্পষ্ট করছে বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতেই নেওয়া হল ব্যবস্থা। তবে এই নিয়ে পুর প্রশাসনের কোনও আধিকারিক মুখ খুলতে চাননি৷ এই নির্দেশিকার সঠিক প্রয়োগ হলে, নির্দিষ্ট বিভাগের আধিকারিক বা পুর প্রশাসনের উচ্চকর্তাদের লিখিত নির্দেশিকা ছাড়া কোনও ফাইল কলকাতা কর্পোরেশনের কেন্দ্রীয় ভবনের বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। এখন দেখার সেটা ঠিকমতো হয় কি না!

আরও পড়ুন -

  1. কর্পোরেশনেও পদত্যাগের হিড়িক, বরো চেয়ারম্যান-অ্যাকাউন্টস কমিটি থেকে ইস্তফা 2 তৃণমূল কাউন্সিলরের
  2. ফাইল লোপাটের চেষ্টা ! বিজেপির অভিযোগে কলকাতা কর্পোরেশনে তোলপাড়