ETV Bharat / state

রাজারহাটে গ্রেফতার আন্তর্জাতিক অঙ্গ পাচার চক্রের মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশি রাসেল, মিলল ‘রেট চার্ট’

মঙ্গলের অভিযোগ, পঞ্জাবের একটি হাসপাতালে অচেতন করে তাঁর অজান্তেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কিডনি বের করে নেওয়া হয়েছে।

Kidney trafficking ring
চাকরির টোপে ভিনরাজ্যে কিডনি চুরি ! (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 30, 2026 at 6:32 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

বিধাননগর, 30 অগস্ট: কাজের টোপ দিয়ে ভিনরাজ্যে নিয়ে গিয়ে কিডনি চুরি করে নেওয়ার এক ভয়াবহ আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ও বিধাননগর দক্ষিণ থানার যৌথ অভিযানে রাজারহাটের চিনারপার্ক সংলগ্ন আটঘড়া ফুলতলা এলাকা থেকে রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছে চক্রের মূল মাথা, বাংলাদেশি নাগরিক রাসেল আহমেদকে।

জানা গিয়েছে, এর আগে এই চক্রের অন্যতম ‘মিডলম্যান’ প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রবিবার রাসেলকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। গত 18 অগস্ট সল্টলেকের সুকান্ত নগর এলাকার বাসিন্দা মঙ্গল মণ্ডল বিধাননগর দক্ষিণ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মঙ্গলের অভিযোগ, প্রভাস মণ্ডল নামের এক দালাল তাঁকে পঞ্জাবের একটি হাসপাতালে মোটা মাইনের হাউসকিপিং কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে অচেতন করে অজান্তেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কিডনি বের করে নেওয়া হয়েছে। পরে অসুস্থ অবস্থায় তিনি বাড়ি ফিরে বুঝতে পারেন, তাঁর একটি কিডনি চুরি হয়ে গিয়েছে।

অভিযোগ পেয়েই দ্রুত তদন্তে নেমে প্রথমে দালাল প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত প্রভাসকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করতেই আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের সন্ধান পায় পুলিশ। জানা যায়, এই পুরো ঘটনার পিছনে রয়েছে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার বাসিন্দা রাসেল আহমেদ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বেঙ্গল এসটিএফ রাজারহাটের চিনারপার্ক সংলগ্ন আটঘরায় একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই পাকড়াও করা হয় রাসেলকে। পরে তাকে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, রাসেল গত পাঁচ মাস ধরে আটঘড়া এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। ভারতে অবাধে যাতায়াত ও বসবাসের জন্য সে জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ভারতীয় আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডও বানিয়ে নিয়েছিল। তল্লাশি অভিযানে তার কাছ থেকে মানব অঙ্গ বিক্রির ‘রেট চার্ট’ এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, রাসেল এর আগে দিল্লিতে অবৈধ কিডনি প্রতিস্থাপন কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের চরম আর্থিক অনটনে থাকা দরিদ্র যুবকদের টার্গেট করত এরা। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ভিনরাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে ভুক্তভোগীদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে বা অঙ্গদানের ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করে কিডনি বিক্রি করে দেওয়া হতো। অভিযোগকারী মঙ্গল মণ্ডলের কিডনি পঞ্জাবের মোহালির একটি বেসরকারি হাসপাতালে অন্য এক রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি এবং অস্ত্রোপচারে যুক্ত চিকিৎসকদের ভূমিকা জানতে ইতিমধ্যেই পঞ্জাব পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। এই আন্তর্জাতিক র‍্যাকেটে আর কারা জড়িত এবং সীমান্ত পার করিয়ে কতজনের কিডনি এভাবে বিক্রি করা হয়েছে, তা জানতে জোর কদমে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।