‘মাথা ঠান্ডা রাখুন, বুকে থাকুক আগুন’, বিধানসভায় বিধায়কদের সুশাসনের পাঠ স্পিকার ওম বিড়লার
গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধিদের মূল কাজই হল সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলা। সেই কথা মাথায় রেখেই সংসদীয় আদানপ্রদানের মানোন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন ওম বিড়লা।

Published : July 4, 2026 at 8:02 PM IST
কলকাতা, 4 জুলাই: "পায়ে থাকবে গতি, মুখে থাকবে মিষ্টি ভাষা, বুকে থাকবে আগুন আর মাথা থাকবে ঠান্ডা।" একজন আদর্শ জনপ্রতিনিধির ঠিক কেমন হওয়া উচিত, তার এই চার মূলমন্ত্র বেঁধে দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ৷ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রাজ্যের বিধায়কদের জন্য আয়োজিত দু’দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ বা ‘প্রবোধন’ কর্মসূচির সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই বার্তা দিলেন তিনি। দীর্ঘদিন পর বঙ্গ বিধানসভায় জনপ্রতিনিধিদের জন্য এমন একটি গঠনমূলক শিবিরের আয়োজন হওয়ায় তিনি রীতিমতো সন্তোষ প্রকাশ করেন ৷
রাজ্যের উন্নয়ন ও সুশাসনের ক্ষেত্রে বিধানসভার ভূমিকা কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা বারবার উঠে আসে স্পিকারের কথায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিধানসভা কেবল রাজনৈতিক তর্কবিতর্কের জায়গা নয়, এটি আদতে সমাজ সংস্কার এবং সুশাসনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ ৷ বাংলার মানুষ যে বিপুল ভরসা ও প্রত্যাশা নিয়ে বিধায়কদের নির্বাচিত করে বিধানসভায় পাঠিয়েছেন, সেই আস্থাকে যে কোনও মূল্যে রক্ষা করার ডাক দেন তিনি ৷ লোকসভার স্পিকার বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের জনতা যে বিশ্বাস নিয়ে আপনাদের নির্বাচিত করে পাঠিয়েছে, সেই ভরসাকে আপনাদের আরও মজবুত করতে হবে।"

গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধিদের মূল কাজই হল সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলা। সেই কথা মাথায় রেখেই সংসদীয় আদানপ্রদানের মানোন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন ওম বিড়লা। তাঁর মতে, সংসদীয় রাজনীতিতে বাদানুবাদ থাকবেই, কিন্তু তাকে হতে হবে গঠনমূলক। স্পিকার বলেন, "সদনে দাঁড়িয়ে যখনই কথা বলবেন, তা যেন যুক্তি এবং তথ্যনির্ভর হয়। সর্বদা মনে রাখতে হবে, আপনারা জনতার প্রতি দায়বদ্ধ।"
তিনি আরও জানান, উন্নত চিন্তা ও সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমেই রাজ্যের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার গুরুদায়িত্ব নিতে হবে বিধায়কদের। রাজনীতির ময়দানে মতপার্থক্য থাকলেও জনপ্রতিনিধিদের একে অপরের কাছ থেকে ইতিবাচক বিষয়গুলি শেখা এবং তা নিজেদের রাজনৈতিক জীবনে গ্রহণ করার পরামর্শ দেন তিনি।
বিধানসভায় যে আইনগুলি পাস হয়, তার প্রকৃত সুফল যেন একেবারে তৃণমূল স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছয়, সে বিষয়েও বিধায়কদের সতর্ক করেন লোকসভার স্পিকার। তাঁর মতে, যে কোনও আইন বা নীতি প্রণয়নের সময় জনপ্রতিনিধিদের চিন্তাভাবনার কেন্দ্রে থাকা উচিত সমাজের সব চেয়ে প্রান্তিক মানুষটি। স্পিকার নিজের বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন, "আইন প্রণয়নের সময় এক জন জনপ্রতিনিধির মূল ভাবনা হওয়া উচিত, সমাজের একেবারে শেষ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির জীবনে কীভাবে পরিবর্তন আনা যায়।"
গত দু'দিন ধরে চলা এই প্রশিক্ষণ শিবিরে বিধায়কদের একাগ্রতা এবং উপস্থিতির ভূয়সি প্রশংসা করেন স্পিকার। রাজ্যের জনপ্রতিনিধিদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, "এই দু'দিন ধরে যে মনোযোগ এবং দায়িত্ববোধের সঙ্গে আপনারা সময় দিয়েছেন, তা আগামিদিনে আপনাদের শ্রেষ্ঠ বিধায়ক হয়ে উঠতে আরও বেশি করে উৎসাহিত করবে।" মাথা ঠান্ডা রেখে, তথ্য ও যুক্তির ওপর ভর করে মানুষের কাজ করার এই সদর্থক বার্তা দিয়েই বঙ্গ বিধানসভায় আয়োজিত এই দু'দিনের বিশেষ শিবিরের সমাপ্তি ঘোষণা করেন তিনি।

কলকাতা সফরে এসে এদিন কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ৷ মা কালীর আরতি ও অঞ্জলি দেওয়ার পাশাপাশি প্রসাদও গ্রহণ করলেন তিনি। মায়ের আশীর্বাদ ধন্য করুক সবাইকে। লোকসভা স্পিকার হওয়ার পর তিনি কলকাতায় এই প্রথম এলেন স্পিকার হওয়ার পর আজ কালীঘাটে সকাল সাড়ে 10টা নাগাদ কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য আসে । কালীঘাট থানা পুলিশ মন্দির ঘিরে রেখেছিলেন যাতে কোন অপীতকর ঘটনা না-ঘটে ৷

