ফের উত্তেজনা ভাঙড়ে, আগ্নেয়াস্ত্রের ছবি পাঠিয়ে তৃণমূল নেতাকে হুমকি আইএসএফ কর্মীর !
যদিও পালটা তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছে আইএসএফ ৷ ঘটনার সূত্রপাত সোমবার ৷

Published : January 27, 2026 at 1:44 PM IST
ভাঙড়, 27 জানুয়ারি: তৃণমূল ও আইএসএফের সংঘর্ষ ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়াল দক্ষিণ 24 পরগনার ভাঙড়ে । অভিযোগ, এক তৃণমূল নেতার মোবাইল ফোনে আগ্নেয়াস্ত্রের ছবি পাঠিয়ে হুমকি দেন আইএসএফ কর্মী । আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকা । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উত্তর কাশিপুর থানার পুলিশ ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জীবনতলায় এএলএ কাপের ফাইনাল খেলা চলছিল সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন ৷ সেখানেই ছিলেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা মহম্মদ আহিদুল ইসলাম ৷ অভিযোগ, সেসময় তাঁর মেসেঞ্জারে অচেনা নম্বর থেকে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্রের ছবি পাঠানো হয় । সেই সঙ্গে ছিল পরোক্ষ হুমকির বার্তাও । ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই নেতা ও তাঁর পরিবার । পরে বিষয়টি দলীয় নেতৃত্ব এবং পুলিশকে জানানো হয় ।
ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর কাশিপুর থানার পুলিশ এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে । তৃণমূল নেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে । পুলিশ মোবাইল নম্বরটি ট্র্যাক করার চেষ্টা করছে এবং বার্তাগুলির ডিজিটাল উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে । প্রয়োজনে সাইবার সেলের সহায়তাও নেওয়া হতে পারে । এলাকায় যাতে নতুন করে অশান্তি না ছড়ায়, সেদিকে নজর রাখছে পুলিশ । স্থানীয় বাসিন্দাদের অযথা গুজবে কান না দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।
কলকাতা পুলিশের ভাঙড় ডিভিশনের ডিসি সৈকত ঘোষ বলেন, "ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে । মেসেঞ্জারের নাম্বার থেকে ব্যক্তিকে ট্রেস করা হচ্ছে ।"
তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিরোধী দল আইএসএফের কর্মী-সমর্থকেরা এই ধরনের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে । তাঁদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাপানউতোর চলছিল । তারই জেরে এই হুমকির ঘটনা ।

অভিযোগকারী তৃণমূল নেতা মহম্মদ আহিদুল ইসলাম বলেন, "আমরা সোমবার জীবনতলায় এমএলএ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলা দেখছিলাম ৷ সেই সময় আমার মেসেঞ্জারে একটি মেসেজ আসে । আইএসএফের কর্মী আগ্নেয়াস্ত্রর ছবি পাঠিয়ে আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে । বিষয়টি আমি আইএসএফ নেতৃত্বকে জানাই ৷ এই নিয়ে আমাদের দলের কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় ৷ আমি ওখান থেকে বেরিয়ে গেলে আমার দলের দুই কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয় ৷ ধীক্কার জানাই নওশাদ সিদ্দিকীকে ৷ আইএসএফ সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে ৷ সম্পূর্ণ বিষয়টি আমরা উত্তর কাশিপুর থানাতে লিখিতভাবে অভিযোগ সহকারে জানিয়েছি । পুলিশ খতিয়ে দেখছে বিষয়টি ।"
অন্যদিকে আইএসএফ নেতৃত্ব অভিযোগ অস্বীকার করেছে । তাদের দাবি, দলকে কালিমালিপ্ত করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে । প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা ।
আইএসএফ কর্মী মতিউর রহমান মোল্লা বলেন, "আমার বাবা পাগলাহাট বাজারে চা খেতে গিয়েছিল সেই সময় তৃণমূলের বেশ কয়েকজন কর্মী আমার বাবাকে মারধর করে । বারবার আইএসএফের উপর আক্রমণ করছে তৃণমূলের কর্মীরা । আমরা চাই এলাকায় শান্তি বজায় থাকুক । পুলিশ প্রশাসনের কাছে এটাই আমাদের দাবি ।"
আরেক আইএসএফ কর্মী আসাদুল মোল্লা বলেন, "তৃণমূলের লোকেরা বারবার আইএসএফের কর্মীদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে এবং মারধর করছে ৷ বেশ কয়েকদিন আগেও মারধরের ঘটনা ঘটেছে । পুলিশ প্রশাসনকে বারবার জানিও কোনওরকম লাভ হয়নি । আমরা চাই এলাকায় সবাই সুস্থ এবং শান্তি নিয়ে বসবাস করুক ।"

