আবার শহরে সক্রিয় 'ইরানি কেপমার গ্যাং'! উল্টোডাঙা-ফুলবাগান থেকে গ্রেফতার 2
একজন এটিএম কাউন্টারে টাকা তুলতে সাহায্যে করার নামে ও অন্যজন বাস থেকে টাকা উধাও করে দেয় ৷ তদন্তে নেমে পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ৷

Published : November 8, 2025 at 2:31 PM IST
কলকাতা, 8 নভেম্বর: 'ইরানি কেপমার গ্যাং'-এর দৌরাত্ম্যে আবার কাঁপছে কলকাতা । এক সময় মুম্বই ও দিল্লিতে ত্রাস সৃষ্টি করা এই প্রতারকচক্র এখন রাজ্যের রাজধানীতেও সক্রিয় । অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে প্রতারণা ও চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে ৷ এই নিয়ে খোঁজ পাওয়ার পরপরই দু'জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ ।
উল্টোডাঙা ও ফুলবাগান এলাকা থেকে ওই দুজনকে পাকড়াও করা হয়েছে ৷ ধৃত দুই অভিযুক্তের নাম জাভেদ হুসেন ইরানি (59) ও আভেদ ইরানি (40) । দু'জনের কাছ থেকেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানা গিয়েছে ।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে গত 22 অক্টোবর উল্টোডাঙা থানা এলাকায় । অভিযোগ, ওই দিন দুপুর দু'টো থেকে আড়াইটার মধ্যে এলাকার একটি এটিএম কাউন্টারে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন রুবি বসু নামে এক বৃদ্ধা । নিয়ম ভালোভাবে না-জানার কারণে তিনি কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন । ঠিক সেই সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক এগিয়ে আসে সাহায্যের প্রস্তাব নিয়ে । বৃদ্ধা প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে না-পেরে তাকে সাহায্য করতে দেন । কিন্তু সাহায্যের আড়ালে ফাঁদ পাতছিল প্রতারক । টাকা তোলার পর মুহূর্তেই 15 হাজার টাকা নিয়ে সেখান থেকে চম্পট দেয় অভিযুক্ত ।

রুবি বসু পরে উল্টোডাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন । অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে । তদন্তকারীরা ওই এটিএমের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন । ফুটেজে অভিযুক্তের চেহারা ও চলাফেরার ভঙ্গি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে । সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় জাভেদ হুসেন ইরানি নামে এক ব্যক্তিকে ।
পুলিশ সূত্রে খবর, জেরার মুখে জাভেদ অপরাধের কথা স্বীকার করেছে । তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে 14 হাজার টাকা । তদন্তে জানা গিয়েছে, জাভেদ 'ইরানি কেপমার গ্যাং'-এর সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল ।
অন্যদিকে, আরও এক ঘটনার সূত্রে গ্রেফতার হয় আভেদ ইরানি নামে যুবককে । এই ঘটনাটি ঘটে 18 অক্টোবর ফুলবাগান এলাকায় । অভিযোগ, বড়বাজার থেকে কাঁকুড়গাছি যাওয়ার পথে মিনিবাসে দীপঙ্কর মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা উধাও হয়ে যায় । ওই টাকাগুলি ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য তিনি নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন ।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে ফুলবাগান থানার পুলিশ । সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় আভেদকে । তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে এক লক্ষ দশ হাজার টাকা । বাকি টাকার খোঁজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ । তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, আভেদও কুখ্যাত 'ইরানি কেপমার গ্যাং'-এর সদস্য এবং আগেও প্রতারণার মামলায় তার নাম জড়িত ছিল ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক কর্তা বলেন, "এই গ্যাং সাধারণত ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ায় ৷ কখনও সহৃদয় নাগরিকের রূপে, কখনও যাত্রী সেজে, আবার কখনও সাহায্যপ্রার্থী হিসেবে । অসতর্ক মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতানোই এদের মূল কাজ ।"
কলকাতায় এই চক্রের সক্রিয়তা বাড়ায় উদ্বেগ বেড়েছে তদন্তকারীদের মধ্যেও । ইতিমধ্যেই গ্যাংয়ের অন্য সদস্যদের খোঁজে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ । কলকাতা পুলিশের তরফে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে । বিশেষ করে এটিএমে টাকা তোলার সময় বা গণপরিবহণে যাত্রার সময় অপরিচিত কারও সাহায্য না-নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ । শহরে ফের মাথা তুলেছে ইরানি প্রতারণাচক্র ৷ এই ঘটনায় আবারও সামনে এল পুরনো আতঙ্কের ছায়া ।

