অস্ত্র দেখিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ, গ্রেফতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা
আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Published : July 2, 2026 at 10:29 AM IST
বর্ধমান, 2 জুলাই: তোলাবাজি, আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ইফতিকার আহমেদ ওরফে পাপ্পুকে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের ভিরিঙ্গি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্ধমান পুরসভার 5 নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেফালি বেগমের স্বামী তিনি। গত জুন মাসে শেফালি বেগম কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
বুধবার ইফতিকার আহমেদকে বর্ধমান জেলা আদালতে পেশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ 10 দিনের হেফাজতের আবেদন জানায়। আদালত তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , ইফতিকার দীর্ঘদিন ধরে নিজের রাজনৈতিক পরিচিতি ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বর্ধমান স্টেশন এবং শুধু শহরের বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করতেন। অভিযোগ, বিরোধীদের ভয় দেখাতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতেন এবং এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। 2019 থেকে 2026 সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তথ্যও তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে চাঁদার নামে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই অর্থ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তোলাবাজির নেটওয়ার্ক ও অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান পেতেও তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে চাঁদার নামে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই অর্থ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তোলাবাজির নেটওয়ার্ক ও অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান পেতেও তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের 26 মে দায়ের হওয়া একটি লিখিত অভিযোগ থেকে। অভিযোগকারী শিবশঙ্কর চৌধুরীর দাবি, বর্ধমান রেল স্টেশন সংলগ্ন তাঁর দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। বন্দুক ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর স্ত্রীও নিগ্রহের শিকার হন। পরে অভিযুক্তরা তাঁদের বাড়িতে ঢুকে নগদ টাকা ও সোনার গয়না লুট করে বলে অভিযোগ। ইফতিকারের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বর্ধমান রেল স্টেশন ও লক্ষ্মীপুর মাঠ সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছ্বাস দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা আবির খেলায় মেতে ওঠেন এবং মিষ্টি বিতরণ করে পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান।

