পশ্চিম এশিয়ায় একচ্ছত্র আধিপত্যের চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের ! ভারত সরকারের নিন্দা প্রকাশের দাবি বামেদের
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘে সনদের মৌলিক নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ৷ যুদ্ধ বন্ধ করতে ভারতের হস্তক্ষেপের দাবি বামেদের ৷

Published : March 2, 2026 at 9:21 PM IST
কলকাতা, 2 মার্চ: মধ্যপ্রাচ্যের ইরান বনাম ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নিয়ে এবার সরব হল ভারতের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি ৷ যেখানে সরাসরি মার্কিন মুলুককে নিশানা করেছে বামেরা ৷ তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যের সার্বভৌম দেশগুলির স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে ৷
সিপিআইএম, সিপিআই ও সিপিআইএমএল লিবারেশনের অভিযোগ, ইরানে হামলা চালিয়ে সেদেশের সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই হত্যা আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘে সনদের মৌলিক নীতির গুরুতর লঙ্ঘন ৷
সেই সঙ্গে এই তিন বাম দল দাবি তুলেছে, অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে এই যুদ্ধ বন্ধ করতে ভারত সরকার হস্তক্ষেপ করুক ৷ পাশাপাশি, ভারত এমন কার্যকলাপকে যাতে সমর্থন না-করে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক ও বিশ্ব শান্তিকে বিপন্ন করে ৷
এ নিয়ে সিপিআইএম পলিটব্যুরোর বক্তব্য, "এই আক্রমণ ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ এবং সমস্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিকে স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে ৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল, ইরানের সঙ্গে চলা আলাপআলোচনা উপেক্ষা করে, এই আক্রমণ চালিয়েছে ৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণ এবং বিবৃতি থেকে স্পষ্ট, যে তারা কখনও এই আলোচনায় বিশ্বাস করেনি ৷ সার্বভৌম দেশগুলিতে আক্রমণ করে আমেরিকা ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবাজ হিসেবে কাজ করছে ৷ ভেনেজুয়েলার উপর আক্রমণ এবং কিউবাকে হুমকির পরে সম্প্রতি ইরানের উপর এই আক্রমণ শুরু হয়েছে ৷"
অন্যদিকে, সিপিআই-এর কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর বক্তব্য, "এই বেপরোয়া সামরিক অভিযান সমগ্র পশ্চিম এশিয়াকে আরও অস্থির করে তুলছে ৷ যা আরও ব্যাপক এবং ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বিশ্বকে ৷ সামরিক শক্তির প্রয়োগ আদতে ইরানে সরকার পরিবর্তনের একটা বিপজ্জনক ষড়যন্ত্রের অংশ ৷ যা জাতির সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিকদের অধিকারের প্রয়োগকে অস্বীকার করে ৷ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে ৷"
অন্যদিকে, ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে সিপিআই উল্লেখ করেছে, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইজরায়েল সফরের ঠিক পরেই এই হামলা শুরু হয়েছে, ফলে ভারতকে এই বিপজ্জনক সামরিক হানার বিরুদ্ধে বলতে হবে ৷ ইরানে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে ৷ সেই সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষা করা ভারত সরকারের দায়িত্ব ৷"
সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির বক্তব্য, "এই যুদ্ধ মার্কিন কূটনীতির মুখোশ খুলে দিয়েছে ৷ বিশ্ব এটাও বুঝতে পারছে যে ন্যায়বিচার এবং স্বাধীনতার জন্য ইরান সরকারের বিরুদ্ধে সেদেশের জনগণের নিজস্ব সংগ্রামের সঙ্গে এই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের কোনও সম্পর্ক নেই ৷ ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একমাত্র অধিকার ইরানের জনগণের ৷ ইরানকে অধীনস্থ করে পুতুল সরকার বসানোর মার্কিন ও ইজরায়েলি জোটের চেষ্টাকে ভারত সরকারের দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা করা উচিত ৷"

