দুধিয়ায় চালু ফুটব্রিজ, শিলিগুড়ি-মিরিকের লাইফলাইন জুড়ল সেনা
ব্যাপক বৃষ্টিতে সেতু ভাঙার পাঁচদিনের মধ্যে যাতায়াতের জন্য অস্থায়ী সেতু গড়ল ভারতীয় সেনা ৷ আজ থেকে সেখান দিয়ে পারাপার শুরু করেছে জনসাধারণ ৷

Published : June 24, 2026 at 12:01 PM IST
দার্জিলিং, 24 জুন: টানা বৃষ্টির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অস্থায়ী দুধিয়া সেতু । বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল শিলিগুড়ি থেকে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ । অবশেষে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ময়দানে নামল ভারতীয় সেনা । সেনবাহিনীর তৎপরতায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া কাজের পর আজ, বুধবার সকাল থেকেই দুধিয়ার বালাসন নদীর দু'পারের মধ্যে যাতায়াত শুরু হয়েছে ।
আপাতত যান চলাচল না করলেও, সেনাবাহিনীর তৈরি করা 34 মিটারের (প্রায় 100 ফুট) এই ফুটব্রিজ দিয়ে নিরাপদে হেঁটে নদী পারাপার করতে পারবেন সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা ।
গত বছরের 4 অক্টোবর বালাসনে হড়পা বানে পুরনো লোহার সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিলিগুড়ি থেকে দুধিয়া হয়ে মিরিক যাওয়ার 12 নম্বর রাজ্য সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । এরপর পূর্ত দফতর অস্থায়ীভাবে যাতায়াতের জন্য হিউমপাইপ বসিয়ে একটি সেতু তৈরি করেছিল । কিন্তু গত বৃহস্পতিবার পাহাড়ে ভারী বৃষ্টির জেরে সেই হিউমপাইপের সেতুর বেশ কিছুটা অংশ ভেসে যায় । তার জেরে শুক্রবার ভোর থেকে দুধিয়া হয়ে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ ফের স্তব্ধ হয়ে যায় ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের তরফে সেনাবাহিনীর কাছে বিকল্প সেতু তৈরির আবেদন জানানো হয় । সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ত্রিশক্তি কোরের সুকনা 33 কোরের 5 ইঞ্জিনিয়ারিং রেজিমেন্ট দ্রুততার সঙ্গে ফুটব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করে । অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে পূর্ত দফতরের প্রধান সচিব অন্তরা আচার্যের নেতৃত্বে দফতরের শীর্ষকর্তারা দুধিয়ার পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেন । সেখান থেকে ফিরে দুপুরে শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয় ।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের হেঁটে পারাপারের জন্য হিউমপাইপের সেতুর উপরেই এই ফুটব্রিজটি তৈরি করা হয়েছে । এর ফলে শিলিগুড়ি থেকে দুধিয়া এসে হেঁটে ওপারে গিয়ে অন্য গাড়িতে চেপে মিরিক বা পশুপতি ফটকের মতো সীমান্ত এলাকাগুলোতে অনায়াসেই যাতায়াত করা যাবে । একইসঙ্গে যান চলাচলের জন্য একটি চওড়া বেইলি ব্রিজ তৈরির কাজও শুরু করেছে সেনা ।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক সেনা আধিকারিক জানান, বেইলি ব্রিজ তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে । অন্তত 15 দিন সময় প্রয়োজন । তিনি আরও জানান, নদীর এই অংশটি প্রায় 350 ফুটেরও বেশি চওড়া । কিন্তু সেনা সর্বাধিক 200 ফুট লম্বা বেইলি ব্রিজ করতে পারে। তাই নদীর একাংশে বোল্ডার ফেলে 150 ফুট এলাকা বাঁধ দিয়ে বাকি অংশে বেইলি সেতু তৈরি করা হবে ।
এই সেতু চালু হলে যাত্রীবাহী যান ও ছোট পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে ৷ স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটনের জন্য তা অত্যন্ত জরুরি । অন্যদিকে, পূর্তসচিব জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এখানে স্থায়ী সেতু তৈরির কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে ।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে সেনাবাহিনী এবং রাজ্য সরকারের যৌথ পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন দার্জিলিংর বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা । তিনি বলেন, "দুধিয়ায় 34 মিটারের অস্থায়ী ফুটব্রিজটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর সুকনা 33 কোরের 5 ইঞ্জিনিয়ার রেজিমেন্ট এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ত দফতরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই । এই সেতুটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করবে এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি পেতে সাহায্য করবে । কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের সেবায় ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে কার্যকরী সমন্বয়ের এটি একটি চমৎকার উদাহরণ । এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থাপনে যুক্ত সকলকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ।"
নিরাপত্তার সবরকম দিক খতিয়ে দেখেই সেনাবাহিনীর এই ফুটব্রিজটি চালু করা হয়েছে । ভারতীয় সেনার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় মানুষের দরকারে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে সেনা সর্বদা দায়বদ্ধ । স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই সেতুটিই এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুরাহা করবে ।

