খড়গপুর আইআইটির মুকুটে নয়া পালক, জার্মানিতে গবেষণায় ডাক পেলেন অধ্যাপক
জার্মানির লিবনিজ ইনস্টিটিউট অফ পলিমার রিসার্চ ড্রেসডেনের আইপিএফ ফেলো হিসাবে নির্বাচিত হলেন কিংশুক নস্কর ৷ অভিনন্দন জানাল খড়গপুর আইআইটি ৷

Published : November 20, 2025 at 3:10 PM IST
খড়গপুর, 20 নভেম্বর: খড়গপুর আইআইটির মুকুটে জুড়ল নয়া পালক ৷ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক কিংশুক নস্কর জার্মানিতে গবেষণা করার জন্য ডাক পেলেন ৷ এতে উচ্ছ্বসিত খড়গপুর আইআইটি ৷ এই সাফল্যের জন্য কর্তৃপক্ষ অভিনন্দন জানিয়েছে ওই অধ্যাপককে ৷
খড়গপুর আইআইটি সূত্রে খবর, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি খড়গপুরের অন্তর্গত রাবার টেকনোলজি সেন্টারের (আরটিসি) অধ্যাপক এবং চেয়ারপার্সন কিংশুক নস্কর ৷ তিনি জার্মানির মর্যাদাপূর্ণ লিবনিজ ইনস্টিটিউট অফ পলিমার রিসার্চ (আইপিএফ) ড্রেসডেনের আইপিএফ ফেলো হিসেবে নিযুক্ত হচ্ছেন ৷ আর এই সম্মান বিশ্বমানের পলিমার বিজ্ঞান গবেষণায় কিংশুকের অসামান্য সাফল্যের প্রমাণ বলে দাবি খড়গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষের ।

কিংশুক নস্করের খুঁটিনাটি
জানা গিয়েছে, কিংশুক নস্কর হলেন আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তন ছাত্র এবং রৌপ্যপদকপ্রাপ্ত । বর্তমানে তিনি অধ্যাপকও ৷ কিংশুক 2004 সালে ইনস্টিটিউটে যোগদান করেন ৷ তারপর থেকে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা এবং শিক্ষাদানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি । তাঁর পাওয়া সম্মান এবং কৃতিত্বের মধ্যে অন্যতম 2005 সালে ডিপিআই পেটেন্ট পুরস্কার ৷ এরপর 2009 সালে আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট রিসার্চ ফেলোশিপ ।

পরবর্তীতে 2016 সালে মোরান্ড ল্যাম্বলা পুরস্কার, আন্তর্জাতিক পলিমার প্রসেসিং সোসাইটি এবং 2022 সালে ইনস্টিটিউট চেয়ার প্রফেসর পুরস্কার এসেছে তাঁর ঝুলিতে । এছাড়াও পলিমার এবং রাবার বিজ্ঞানে তাঁর অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হয়েছে ৷ 200টিরও বেশি জার্নাল প্রকাশ করেছেন তিনি ৷ অসংখ্য পেটেন্ট এবং বই লিখেছেন ৷ অসংখ্য পিএইচডি এবং মাস্টার্স স্কলারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি ৷ যার ফলে তাঁর এই অবদান বিশ্বব্যাপী শীর্ষে থাকা 2 শতাংশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম হিসাবে জায়গা করে দিয়েছে কিংশুক নস্করকে ।

গর্বিত খড়গপুর আইআইটি
খড়গপুর আইআইটি বলেছে, আইপিএফ ড্রেসডেনের সঙ্গে অধ্যাপক কিংশুকের দীর্ঘস্থায়ী গবেষণার অংশীদারিত্ব এবং এই মর্যাদাপূর্ণ নিয়োগ ইনস্টিটিউটের জন্য গর্বের বিষয়, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে আইআইটি খড়গপুরকে ক্রমাগত স্বীকৃতি এনে দিচ্ছে । আইআইটি খড়গপুরের ডিরেক্টর অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "এই সম্মান অর্জন অধ্যাপক নস্করের অসামান্য বৈজ্ঞানিক কাজ এবং বিশ্বব্যাপী গবেষণা সহযোগিতার প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতির প্রমাণ । আমরা তাঁর ভবিষ্যতের শিক্ষাগত এবং আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় মঙ্গল কামনা করি ।"
খড়গপুর আইআইটির ইতিকথা
উল্লেখ্য, ভারতে আইআইটিগুলির মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন খড়গপুর আইআইটি । 1951 সালে এই প্রতিষ্ঠানের পথ চলা শুরু হয় । পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরে দু'হাজার একর জমি জুড়ে বিস্তৃত দেশের প্রযুক্তিবিদ্যার এই অন্যতম পীঠস্থান । প্রথম সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির তালিকায় খড়গপুর আইআইটির নাম আসে শীর্ষে ।

এর আগেও এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক অধ্যাপক ও প্রাক্তনী বিভিন্ন দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছেন । কেউ কেউ আবিষ্কার করে সুনাম অর্জন করেছেন, কেউ আবার নিজের প্রতিভার জন্য দায়িত্বর সঙ্গে সুনাম অর্জন করেছেন । এক্ষেত্রে বর্তমান আইআইটি ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী তাঁদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন সময়ে । এবার সেই তালিকায় যোগ হল অধ্যাপক কিংশুক নস্করের নাম ৷

