ETV Bharat / state

প্রাক্তনী দিবসে যাদবপুরে এসে আরও সংঘবদ্ধ হওয়ার বার্তা আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তার

সুমন চক্রবর্তী বলেন, "আমার মনে হয় যাদবপুর ইন্টেলেকচুয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্সের নামে গুন্ডামি করার জায়গা নয় ।"

ETV BHARAT
প্রাক্তনী দিবসে যাদবপুরে আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 3, 2026 at 7:27 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 3 জানুয়ারি: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় অ্যালামনি মিটে প্রাক্তনীদের আরও সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিলেন আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা তথা যাদবপুরের প্রাক্তনী অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী । শনিবার বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তনীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বলেন, শুধুমাত্র বছরে একদিন মিলিত হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং বছরভর প্রাক্তনীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও কার্যকর কর্মসূচি গড়ে তোলাই প্রকৃত অ্যালামনির কাজ । এই সমাবেশে সশরীরে প্রায় 250 জনেরও বেশি প্রাক্তনী অংশগ্রহণ করেন । পাশাপাশি অনলাইনে যুক্ত ছিলেন আরও কয়েকজন প্রাক্তনী ।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী বলেন, "যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রাক্তনীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রাক্তনীদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও নেটওয়ার্ক যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন আরও গতি পাবে ।"

প্রাক্তনী দিবসে যাদবপুরে আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা (নিজস্ব ভিডিয়ো)

বিভিন্ন বয়স ও ব্যাচের প্রাক্তনীদের নিয়ে আলাদা আলাদা কর্মসূচি, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম, গবেষণা সহযোগিতা এবং শিল্প-সংযোগমূলক উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি । পাশাপাশি একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করে প্রাক্তনী-সংযোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উপরও জোর দেন আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা ।

এই প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, "2023 সালের আগে পর্যন্ত প্রাক্তনীদের নিয়ে এমন সংগঠিত সমাবেশ বা উদ্যোগ ছিল না । ভবিষ্যতে আইআইটি-র মডেল অনুসরণ করে প্রাক্তনীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে নানান কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ।"

সুমন চক্রবর্তীর বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার উন্নয়নের পাশাপাশি একাধিক পরামর্শ শোনা যায় । তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষিত পড়ুয়াদের মধ্যে 'হুলিগানইজম' দেখা যাচ্ছে । সুমন চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে বলেন, "আমার মনে হয় যাদবপুর ইন্টেলেকচুয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্সের নামে গুন্ডামি করার জায়গা নয় । তার থেকে সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি হচ্ছে প্রতিষ্ঠানে । আমাদের সময়েও এ ধরনের আন্দোলন ছিল । কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার উপর তার প্রভাব পড়ত না । এই ধরনের জিনিস বন্ধ করা প্রয়োজন এবং কোনওভাবেই এগুলি বরদাস্ত করা উচিত নয় ।"

হোক কলরব বা ছাত্র নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন, সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির উপর হামলা - একাধিক আন্দোলন ও বিক্ষোভের ছবি দেখা গিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে । যা শুধু রাজ্য নয়, রাজ্যের বাইরেও প্রভাব ফেলেছে । পরোক্ষ ভাবে নাম না-করে এদিনের অনুষ্ঠানেও সেই বিষয়গুলির প্রসঙ্গ উঠে এল । যদিও এই প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, "যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে মুক্ত চিন্তাভাবনা দিয়ে । তার মানে এটা নয়, হুলিগানইজম মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে । অহেতুক বিতর্ক কাটিয়ে আমাদের একাডেমিক উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে ।"