পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে বাজারে পরপর ধারালো অস্ত্রের কোপ ! গ্রেফতার স্বামী
জখম মহিলার মায়ের দাবি, মেয়ে কাজ করুক তা চাইতেন না জামাই ৷ আর তাই সে তাঁকে ছুরি দিয়ে কোপাতে যায় ৷

Published : November 22, 2025 at 6:28 PM IST
অন্ডাল, 22 নভেম্বর: পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছেন স্ত্রী ৷ এই সন্দেহে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় সকলের সামনে একের পর এক কোপ বসানোর অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে । শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালের হরিপুর বাজার এলাকায় । অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । আহত মহিলাকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে । যদিও মহিলার পরিবারের দাবি, মেয়ে কাজ করুক তা চাইতেন না জামাই ৷ আর তার থেকেই এই ঘটনা ৷
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম পিন্টু গোপ । ছোড়া গ্রামের বাসিন্দা পিন্টু গোপের সঙ্গে বছর আটেক আগে বিয়ে হয় খান্দরা পঞ্চায়েতের সিদুলির বাসিন্দা ওই মহিলার । দম্পতির একটি মেয়ে ও একটি ছেলে রয়েছে । পিন্টু একটি মিষ্টির দোকানে কর্মচারী হিসাবে কাজ করেন । আর তাঁর স্ত্রী স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে । ছোড়া গ্রামে বাড়ি হলেও পরিবার নিয়ে দম্পতি ইসিএলের একটি আবাসন ভাড়া থাকতেন ।
স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন পিন্টু । এই নিয়ে দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল পরিবারে । শনিবার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য স্ত্রী স্কুটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন । তাঁর পিছু নেই পিন্টু । হরিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছনোর পর ধারালো অস্ত্র নিয়ে স্ত্রীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন পিন্টু । ঘটনাটি দেখে বাজারে উপস্থিত লোকজনেরা পিন্টুকে নিরস্ত করেন । খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বনবহাল ফাঁড়ির পুলিশ । মহিলাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় আসানসোল জেলা হাসপাতালে । পিন্টুকে গ্রেফতার করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ । সাতসকালে এমন ঘটনা ঘটায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হরিপুর বাজার এলাকায় ।
এসিপি (অন্ডাল ও পাণ্ডবেশ্বর) পিন্টু সাহা বলেন, "ঘটনার কথা জেনেছি । মেয়েটিকে চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তার স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে । দু'জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ৷ কারও কোন অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।"

জখম মহিলার মা বলেন, "জামাই মেয়েকে হাসপাতালে কাজ করতে দেবে না বলছিল ৷ মেয়ে তখন বলে কাজ না করলে আমি কী করে গাড়ির লোন মেটাব? জামাই যা কাজ করে সব টাকা মদ খেয়ে উড়িয়ে দেয় ৷ মেয়েকে কাজ করতে দেবে না বলেই ওকে মেরেছে জামাই ৷ ঘরে সবসময় মেয়ের কাজ করা নিয়ে জামাই অশান্তি করত ৷ আমরা মেয়ের সঙ্গে জামাইয়ের বিবাহ বিচ্ছেদ চাই ৷ মেয়েকে আর সংসার করতে পাঠাব না ৷ মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৷"

