ETV Bharat / state

বাবরি মসজিদের শিলান্যাসে ঘোষিত 'সৌদি ধর্মগুরু' আসলে বঙ্গেরই বাসিন্দা ! অস্বস্তিতে হুমায়ুন

তিনি নিজে জানিয়েছেন, তিনি সৌদি আরব নয়, মেদিনীপুরের বাসিন্দা ৷ নাম ক্কারী আবদুল্লা ৷ তাঁর অজান্তেই নাকি তাঁকে আচমকা সৌদিবাসী বলে মঞ্চে ঘোষণা করা হয়৷

ETV BHARAT
বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে প্রতারণার অভিযোগ (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 12, 2025 at 1:35 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

মুর্শিদাবাদ, 12 ডিসেম্বর: বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে আয়োজকদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ৷ অভিযোগ, সেদিন সৌদি থেকে কেউ সেই অনুষ্ঠানে আসেননি । অথচ দু'জনকে সৌদি আরবের ধর্মগুরু হিসেবে পরিচয় দিয়েই মঞ্চে তোলা হয়েছিল । তাঁদেরই একজন নিজে জানিয়েছেন, তিনি সৌদি আরব নয়, মেদিনীপুরের বাসিন্দা ৷ তাঁর নাম ক্কারী আবদুল্লা ৷ তাঁর অজান্তেই নাকি তাঁকে সেদিন আচমকা সৌদিবাসী বলে মঞ্চে ঘোষণা করা হয়েছে ৷

এই ঘটনা সামনে আসতেই নবাবের শহরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে । শুরু হয়েছে একে-অন্যকে দোষারোপ - পালটা দোষারোপ ৷ কিন্তু ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৷

বাবরি মসজিদের শিলান্যাসে ঘোষিত সৌদির ধর্মগুরু আসলে বঙ্গেরই বাসিন্দা ! (নিজস্ব ভিডিয়ো)

উল্লেখ্য, ফলাও করে প্রচার করা হয়েছিল যে, বিতর্কিত বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সৌদি আরব থেকে আসছেন দুই 'ক্কারী' অর্থাৎ মক্কার ইমাম । মঞ্চে আরবি ধর্মগুরুর মতো পোশাকে দেখাও যায় দু'জনকে । 6 ডিসেম্বরের পর অভিযোগ উঠেছে, সেখানে উপস্থিত দুই ধর্মগুরু মোটেই সৌদি আরবের নন, তাঁরা এ রাজ্যেরই বাসিন্দা । তাঁদের সাজিয়ে গুজিয়ে মঞ্চে তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ । ধর্মগুরুদের একজন স্বীকার করে নিয়েছেন, তিনি সৌদির নন, পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা ।

ভিডিয়ো বার্তায় ক্কারী আবদুল্লা বলেন, "আমি পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা । আমাকে মঞ্চে তুলে সৌদি আরবের মেহেমান (অতিথি) বলে ঘোষণা করা হয় । আমি এই ঘোষণা শুনে স্তম্ভিত হয়ে পড়ি । ওদের বোঝানোর চেষ্টা করি ।" যদিও এই ভিডিয়ো-র সত্যতা যাচাই করেনি ইটিভি ভারত । তবে মঞ্চে সৌদি ধর্মগুরুর পোশাকে যাঁকে দেখা গিয়েছিল, তিনি ও এই ভিডিয়োর ব্যক্তি একই বলে মনে করা হচ্ছে ।

এই ঘটনা সামনে আসতেই চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন হুমায়ুন কবীর । গত 6 তারিখ প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেন তিনি ৷ সেই আয়োজনে কোনও খামতি ছিল না । মাইক হেঁকে সকাল থেকেই প্রচার চলে । সৌদির দুই ক্কারীকে দেখার জন্য এই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজির হয় মানুষ । তবে ওই ধর্মগুরুকে কিছু বলতে দেওয়া হয়নি । তখনই সন্দেহ দানা বাঁধে । কানাঘুষো শুরু হয়, আদৌ সৌদি থেকে এসেছিলেন তো প্রধান অতিথিরা ! ঘটনার চারদিন বাদে আয়োজকদের সূত্রেই জানা গিয়েছিল, কর্মসূচিতে সৌদির ক্কারী সেজে যোগ দিতে যাঁরা হাজির হয়েছিলেন, তাঁদের একজন মুর্শিদাবাদের এবং অপরজন মেদিনীপুরের বাসিন্দা ।

এ কথা মেনে নিয়েছেন স্বয়ং হুমায়ুনও । তাঁর অভিযোগ, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন । তাঁকে ঠকানো হয়েছে । হুমায়ুনের কথায়, "ভরতপুরের ইউসুফ বলে আমার এক পরিচিত, সে এই ব্লান্ডার করেছে । সে বলেছিল যে, সৌদির দু'জন গুজরাতে আছে । ও কাউকে সাজিয়ে নিয়ে এসেছে, তার দায় আমার না । এটা আমার বিরুদ্ধে একটা চক্রান্ত ।"