নতুন শিক্ষাবর্ষে কতদিন ছুটি থাকবে স্কুলে, জানতে পড়ুন
মাধ্যমিক ও প্রাথমিক, দুই স্তরের ছুটির তালিকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট দুই পর্ষদ৷

Published : December 30, 2025 at 6:32 PM IST
কলকাতা, 30 ডিসেম্বর: আগামী শুক্রবার থেকেই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হচ্ছে৷ তার আগে স্কুলের ছুটি সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে সম্প্রতি৷ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে যে গতবারের তুলনায় এবার কমছে ছুটির সংখ্যা৷
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, এই বছর 65 দিন স্কুলের দরজা বন্ধ থাকবে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে মোট 17 দিন ছুটি আছে। মে থেকে অগস্টের মধ্যে ছুটি আছে 15 দিন। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ছুটি আছে 33 দিন।
এছাড়া কিছু কিছু বিশেষ দিনে বিশেষ জেলায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন কবি ভানু ভক্তের জন্মদিনে অর্থাৎ 13 জুলাই দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন এবং শিক্ষক দিবসের দিন স্কুল খোলা থাকলেও সেদিনকে পঠন-পাঠন হবে না৷
তবে সবচেয়ে বিতর্ক হচ্ছে গরমের ছুটিকে কেন্দ্র করে৷ কারণ, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, 2026 সালে মাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি থাকছে 11 মে থেকে 16 মে পর্যন্ত। অর্থাৎ মোট ছয় দিনের ছুটি। চলতি বছরে এই গ্রীষ্মকালীন ছুটি ছিল প্রায় বারো দিনের। ফলে এক বছরের ব্যবধানে গরমের ছুটি কার্যত অর্ধেক হয়ে গেল।
যদিও প্রবল দাবদাহের কারণে রাজ্য সরকারের তরফে অতিরিক্ত ছুটি দেওয়া হয়৷ চলতি বছরেও এপ্রিলের শেষের দিক থেকে গরমের ছুটি শুরু হয়৷ যা শেষে হয় মে মাসের শেষে৷ তার পরও কেন ছুটি মাত্র ছ’দিন দেখানো হল, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷
শুধু মাধ্যমিক নয়, প্রাথমিক স্কুলগুলির ক্ষেত্রেও একই ছবি। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রকাশিত 2026 সালের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, প্রাথমিক স্কুলগুলিতেও গরমের ছুটি নির্ধারিত হয়েছে 11 মে থেকে 16 মে পর্যন্ত। ফলে রাজ্যের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক - দুই স্তরেই একই সময়ে কমদিনের গ্রীষ্মের ছুটি থাকছে।
পর্ষদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, নতুন বছরে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় দিবস ও সরকারি ছুটির দিন মিলিয়ে স্কুলগুলি মোটামুটি নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন বন্ধ থাকবে। তবে সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সারা বছরের মোট ছুটির সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। আগে বছরে প্রায় 80 দিন স্কুল বন্ধ থাকত। নতুন ক্যালেন্ডারে সেই সংখ্যা কমে যাওয়ায় পড়ুয়া ও শিক্ষকদের কাজের চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
শিক্ষক মহলের একাংশের বক্তব্য, পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি হলেও আবহাওয়ার বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রাখা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গরমের তীব্রতা বেড়েছে। সেই অবস্থায় ছুটি কমালে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে নারায়ণদাস বাঙ্গুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন, “যেহেতু সরকারি ভাবে অতিরিক্ত গরমের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে, তাই পর্ষদের কাছে এই ছুটি গুরুত্ব কমছে। এ বছর 11 দিন ছুটি ছিল, আগামী বছর ছ’দিন।” বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “আগে সারা বছরে 80 দিন ছুটি দেওয়া হতো স্কুলগুলিতে। এই ছুটি ফিরিয়ে আনা হোক। তা হলে পঠনপাঠনের অসুবিধা হবে না। অতিরিক্ত গরমেও ছুটি দেওয়া যাবে।”

