ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ প্রাক্তন সেনাকর্মীর, SIR নিয়ে দিশাহীন অশীতিপর শশীকান্ত
প্রায় তিন দশক ধরে ভারতীয় সেনার কর্মরত ছিলেন বৃদ্ধ । এলটিটিই দমনে শ্রীলঙ্কায় পাঠানো রাজীব গান্ধির শান্তি সেনা দলের সদস্যও ছিলেন তিনি ।

Published : November 12, 2025 at 9:22 PM IST
চুঁচুড়া, 12 নভেম্বর: ভারতীয় সেনার প্রাক্তন কর্মী । 2002 সালে ভোটার তালিকায় নাম আছে । এমনকি 2024 সালের লোকসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন । বর্তমানে বৃদ্ধের বয়স 87 বছর । এই বয়সে এসে হঠাৎ প্রাক্তন সেনাকর্মী শশীকান্ত হালদার জানতে পারছেন তাঁর নাম বাদ পড়েছে বর্তমানের অর্থাৎ 2025 সালের ভোটার তালিকা থেকে ৷
আর এসআইআর-এর এন্যুমারেশন ফর্ম দিতে এসে তাঁকে এই কথা জানিয়েছেন স্বয়ং বিএলও । তবে প্রাক্তন সেনাকর্মীর নাম না-থাকলেও স্ত্রী, ছেলে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নাম রয়েছে ভোটার তালিকায় । কিন্তু সেই ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়েই বিপাকে পড়েছেন বাড়ির বাকি সদস্যরা ৷ কারণ সেখানে প্রাক্তন সেনাকর্মী শশীকান্ত হালদার নাম ও তথ্য লাগবে । এখন তাঁর নামই ভোটার তালিকা থেকে বাতিল হয়ে যাওয়ায় হতবাক পরিবার । দিশাহীন হয়ে পড়েছেন খোদ বৃদ্ধও ।
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁর বর্তমান ভোটার তালিকায় নাম নেই, তিনি এন্যুমারেশন ফর্ম পাবেন না । খসড়া তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের উপযুক্ত নথি দেখিয়ে আবেদন করতে হবে । বিএলও অবশ্য জানিয়েছেন, 6 নম্বর ফর্ম ফিলাপের জন্য । কিন্তু পরিবারের দাবি, নির্বাচন কমিশনের ভুলের জন্য এই সমস্যা হয়েছে । বৃদ্ধ মানুষকে নিয়ে কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করবেন বুঝতে পারছে না তারা ।
জানা গিয়েছে, চুঁচুড়া পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাপাসডাঙা লিচুতলার বাসিন্দা শশীকান্ত হালদার । প্রায় তিন দশক ধরে ভারতীয় সেনার মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন তিনি । দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রাজীব গান্ধি এলটিটিই দমনে শ্রীলঙ্কায় যে শান্তি সেনা পাঠিয়েছিলেন, সেই দলের সদস্যও ছিলেন তিনি । কাজের সূত্রে ফোর্ট উইলিয়াম থেকে লাদাখ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছেন ।

অবসর নিয়েছেন প্রায় 34 বছর হল । কেন্দ্রীয় সরকারি পেনশন পান এখনও । 2002 সালের শেষ এসআইআর তালিকায় নাম আছে শশীকান্ত হালদারের । 2024 সালের লোকসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন তিনি । অথচ বর্তমান ভোটার তালিকায় তাঁর নাম বাদ যাওয়ায় পেলেন না 2025 সালের এসআইআর-এর জন্য এন্যুমারেশন ফর্ম । এই 87 বছর বয়সে আবার নতুন করে নাম তুলতে হবে ভোটার তালিকায় । অসুস্থ শরীরে হয়রানির শিকার হতে হবে বলে মনে করছেন তিনি ।
শশীকান্ত হালদার বলেন, "1968 সালে ভারতীয় সেনায় যোগ দিয়েছিলাম ৷ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছি । আগ্রা থেকে চাকরিতে অবসর গ্রহণ করি । রাজীব গান্ধি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শ্রীলঙ্কায় ছিলাম । তারপর থেকে সব নির্বাচনে ভোট দিয়েছি । এখন বিএলও এসে বললেন আমার নাম ভোটার তালিকা থেকে ডিলিট হয়ে গিয়েছে । কী করে হল জানি না । এই বৃদ্ধ বয়সে, অসুস্থ অবস্থায় কী করব বুঝতে পারছি না । আমার পরিবারের ছয়জনের নাম আছে ৷ কিন্তু আমার নাম নেই ।"

প্রাক্তন সেনাকর্মীর ছেলে বিনয় হালদার বলেন, "বাবার অসুস্থ শরীর ৷ আবার ছয় নম্বর ফর্ম ফিলাপ করে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হবে । হেয়ারিংয়ে যেতে হবে ৷ প্রমাণ দেখাতে হবে ৷ এত ঝামেলা কী করে করব 87 বছরের অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে । নির্বাচন কমিশনের কাছে একটাই প্রশ্ন এতো বছর ভোট দিচ্ছে বাবা, প্রাক্তন কেন্দ্র সরকারি কর্মী, বাবার নাম কেন বাদ গিয়েছে?"

তাঁর কথায়, "আগের এসআইআরের সময় বাবার নাম ভোটার তালিকায় ছিল এখন নেই । এখন ভোটার কার্ড আছে । পরিবারের কর্তা যিনি তিনিই এন্যুমারেশন ফর্ম পাননি । ভাবতে অবাক লাগছে । বাবা তো জীবিত তাহলে নাম বাদ দিল কে? আমরাই বা ফর্মে বাবার নাম বা ভোটার কার্ডের নম্বর কীভাবে দেব । নির্বাচন কমিশনের ভুলে যদি এটা হয়, তাহলে তারাই এটার সঠিক ব্যবস্থা করে দিয়ে যাক ।"

