বাড়িতে কম্বল দিয়ে নিন্দা তৃণমূলের; চুরির অভিযোগে পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি বিজেপির আইনজীবীর
ট্রেন থেকে চাদর চুরির অভিযোগ ৷ বাইরে থেকে হেঁকেও সাড়া না পেয়ে বিজেপি নেতার বাড়ির গেটে চিঠি-সহ চাদর ঝুলিয়ে এল তৃণমূল নেতৃত্ব ৷

Published : January 7, 2026 at 12:42 PM IST
চুঁচুড়া, 7 জানুয়ারি: এক্সপ্রেস ট্রেনে চাদর চুরি করার অভিযোগ আইনজাবী তথা বিজেপি নেতার ৷ ধরা পড়ার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই বাড়িতে গিয়ে কম্বল ও গোলাপ ফুল দিয়ে বিজেপি নেতাকে নিন্দা জানাল তৃণমূল নেতৃত্ব ।
ঘটনার সূত্রপাত
ট্রেনের এসি কামরা থেকে চুঁচুড়ার বাসিন্দা বিজেপি নেতা মৃন্ময় মজুমদারের বেডশিট চুরির অভিযোগ ৷ সেই ভিডিয়ো সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ছিঃছিঃ পড়ে গিয়েছে ৷ তৃণমূলের নিন্দার পাশাপাশি দলীয় নেতার এহেন ঘটনায় দায় ঝেড়েছে বিজেপি ৷ যদিও চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন আইনজীবী তথা বিজেপি নেতা মৃন্ময় মজুমদার ।
তাঁর দাবি, রেলের বেডশিট চুরি করেননি । অন্যজনকে বাঁচানোর জন্যই বলতে যাওয়ায় তার ওপর মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে । আর সেই ভিডিয়ো সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে সম্মানহানি হচ্ছে । ব্যান্ডেল জিআরপিতে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ করেছেন তিনি ।
তৃণমূলের নিন্দা
এই ঘটনার প্রতিবাদে চুঁচুড়া ধরমপুর গঙ্গাতলার ওই বিজেপি নেতার বাড়ি গিয়ে কম্বল দিয়ে এলেন হুগলি শ্রীরামপুর যুব তৃণমূল সভানেত্রী প্রিয়াঙ্কা অধিকারী । বুধবার আইনজীবীর বাড়ির সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করার পরও কেউ বেরিয়ে না আসায় একটি কম্বলে চিঠি লিখে ও গোলাপ ফুল দিয়ে বাড়ির গেটে ঝুলিয়ে দেন । চিঠিতে লিখে দেন, "আমরা হুগলি জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপি নেতা যাকে ট্রেনে কম্বল চুরি করতে দেখা গিয়েছে তাঁর বাড়িতে কম্বল দিয়ে গেলাম । আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষা দিয়েছেন দলমত নির্বিশেষে যাদের প্রয়োজন তাদের পাশে দাঁড়াতে । আমাদের মনে হয়েছে মৃন্ময় মজুমদারের শীতবস্ত্রের প্রয়োজন আছে । তাই আমরা কম্বলটি বিনম্রভাবে প্রদান করলাম । দাদা চুরি না করে সাহায্য চাইবেন ।"
এরপর মৃন্ময় মজুমদারের অভিযোগ অস্বীকারের বিষয়ে প্রিয়াঙ্কা অধিকারী বলেন, "উনি যদি সত্যি সত্যি চুরি না করতেন তাহলে সরি না বলে জিআরপি বা আরপিএফের কাছে অভিযোগ করতে পারতেন ৷ কিন্তু তিনি সেই মুহূর্তে বা পরে কোনও অভিযোগ করেননি । বিজেপি তৃণমূলকে দোষারোপ করে ৷ এখন দেখা যাচ্ছে চোরের মায়ের বড় গলা ।"
অভিযুক্ত বিজেপি নেতা মৃন্ময় মজুমদারের বক্তব্য
পেশায় আইনজীবী মৃন্ময় আগে তৃণমূলের লিগ্যাল সেলের নেতা ছিলেন । 2021 সালে বিজেপিতে যোগ দেন । সোমবার সিউড়ি আদালতে মামলার জন্য হুল এক্সপ্রেস করে সিউড়ি যাচ্ছিলেন । সিউড়িতে নামার কিছুটা আগেই তিন চারজন লোক একজন মাঝবয়সিকে বেডশিট চুরির জন্য অপমান করছিলেন বলে দাবি তাঁর । সেই সময় পাশের সিটে বসেছিলেন তিনি । যারা অভিযোগ তুলেছিল তারা সাধারণ যাত্রী ছিল ।
বয়স্ক ব্যক্তির পক্ষে বলাতে তাঁকে চোর প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয় ভাইরাল ভিডিয়োতে । মৃন্ময়ের আরও সাফাই, তিনি একটি লেদারের ব্যাগ নিয়ে গিয়েছিলেন তাতে আইনের একটি বই ও ল্যাপটপ ছাড়া আর কিছুই ছিল না । সেই ব্যাগটি এতই ছোট ছিল তাতে বড় বেডশিট নেওয়ার মতো জায়গাও নেই । কিন্তু তাকে যেভাবে ভিডিয়োতে চোর প্রতিপন্ন করা হয়েছে তাতে তিনি যথেষ্টই অপমানিত হয়েছেন । রেলের বিভিন্ন দফতর ও ব্যান্ডেল জিআরপিতে অভিযোগ করেছেন ।
তাঁর কথায়, "আমাকে খুন করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল । আমি যখন 30 থেকে 40 মিনিট বাথরুমে যাই তখন আমাকে এই লোকগুলো ট্রেন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে । আমি আমার সিটে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলাম । তখনই আমি হঠাৎ দেখি তিন-চারজন মিলে একজন মাঝবয়সি লোকের সঙ্গে চিৎকার চেঁচামেচি করছে । আমি তখন তাদের কাছে যাই এবং আমাকে বলে যে আপনি কি চুরিকে সমর্থন করছেন ? তখন আমি তাদের বলি আমি কিছু দেখিনি, জানিও না । আপনাদের কোনও অভিযোগ থাকলে সেটা আরপিএফ জিআরপিকে জানাতে পারেন ।"
তিনি আরও বলেন, "আমার ব্যাগ থেকে বা অন্য কারোর ব্যাগ থেকে কিছু পাওয়া যায়নি । পরে আমি বুঝতে পারি এই লোকগুলো আমাকে অনেকক্ষণ ধরে ফলো করছে । যে 3-4 জন আমার সঙ্গে কথা বলছিল তাদের মাথায় মাঙ্কি ক্যাপ ছিল । তাদের মধ্যে একজনকে আমি চিনতে পারব । তারা রেলের আইআরসিটিসির কোনও কর্মী বলেও আমার মনে হয়নি । প্রত্যেকে অপরিচিত ছিল । এটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে । আমি যদি বেডশিট নিই, তাহলে আমার ব্যাগে বা শিটে পাওয়া যাবে । আমি এরকম কোনও কিছু করিনি । আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছে সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ।"
আইনজীবী নেতার কর্মকাণ্ডে দায় ঝেড়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব
বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, "উনি হুগলি জেলা বিজেপির কোনও পদে নেই । উনি তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসেছেন । কারওর ব্যক্তিগত ঘটনাকে বিজেপির বলে দায়ী করা ঠিক হবে না । কেন্দ্র ও একাধিক রাজ্যে 14 বছর ধরে ক্ষমতায় আছে বিজেপি । আর তৃণমূলের একাধিক নেতা মন্ত্রী চুরির দায়ে জেলে গিয়েছেন । যে ঘটনা ঘটেছে সেটা ভুল বোঝাবুঝিতেও ঘটতে পারে । মনে হয় না একজন আইনজীবী হিসেবে এই ঘটনা ঘটাবেন উনি ।"

