অশুভ'র দহনে শুভ'র আহ্বান, প্রথা মেনে বেলুড় মঠে হোলিকা দহন
আজ দোল পূর্ণিমা ৷ দেশজুড়ে আনন্দ-আবির-রঙ আর মিলনমেলার আবহে পালিত হয় এই বিশেষ দিন ৷ তার আগের রাতে নিষ্ঠা মেনে বেলুড় মঠে জ্বলল হোলিকা ৷

Published : March 3, 2026 at 7:46 AM IST
হাওড়া, 3 মার্চ: 'আজ আমাদের ন্যাড়াপোড়া, কাল আমাদের দোল…' এই ছড়ার সঙ্গে বাঙালি বিশেষ পরিচিত ৷ উত্তর ভারতজুড়ে যা হোলিকা দহন তারই বাংলা সংস্করণ হল ন্যাড়া পোড়া । আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দোল পূর্ণিমার আগের দিন অর্থাৎ, রবিবার সন্ধ্যায় বেলুড় মঠে সম্পন্ন হল সেই হোলিকা দহন ৷ স্থানীয় পরিভাষায় যার নাম চাঁচরও বটে ।
সূর্যাস্তের পর নির্দিষ্ট বিধি মেনে অগ্নি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শুরু হয় এদিনের অনুষ্ঠান । মঠ চত্বরে তখন গাম্ভীর্য ও ভক্তিভাবের আবহ, মন্ত্রোচ্চারণ, প্রার্থনা এবং শাস্ত্রপাঠে সন্ধ্যা ক্রমশ গভীরতর হয় ।

বেলুড় মঠ সূত্রে জানানো হয়েছে, সনাতন আচার অনুসারেই দহন সম্পন্ন হয় । নির্দিষ্ট স্থানে কাঠ সাজিয়ে, পূজার্চনা শেষে অগ্নি সংযোগ করা হয় । আগুন জ্বলে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত ভক্তরা প্রণাম জানান এবং নীরবে প্রার্থনায় শামিল হন । এক সন্ন্যাসীর কথায়, "হোলিকা দহন অশুভের দহন ও শুভের আহ্বানের প্রতীক, এটি আত্মশুদ্ধির বার্তা বহন করে ।"

সন্ধ্যার এই আচারপর্বকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায় । অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে উপস্থিত ছিলেন । এক ভক্ত বলেন, "প্রতি বছর এখানে এসে এই অনুষ্ঠান দেখার চেষ্টা করি । এখানকার পরিবেশে এক ধরনের শান্তি থাকে, যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না ।"

অনুষ্ঠান চলাকালীন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্বে ছিলেন । অগ্নিকুণ্ডের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়, যাতে দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে অংশ নিতে পারেন । আয়োজকদের দাবি, সব কিছুই নির্ধারিত বিধি ও নিরাপত্তা মান্য করে সম্পন্ন হয়েছে ।

অগ্নিশিখা ক্রমশ উঁচু হতে থাকলে মঠ প্রাঙ্গণে গাঢ় কমলা আভা ছড়িয়ে পড়ে । ভক্তদের কেউ কেউ নীরবে জপে মগ্ন হন, কেউ বা পরিবারের সঙ্গে প্রার্থনা করেন । এক প্রবীণ দর্শনার্থীর মন্তব্য, "এই আগুন কেবল কাঠ পোড়ায় না, মানুষের অন্তরের অন্ধকারও দূর করার আহ্বান জানায় ।"
সন্ধ্যার আচারপর্ব শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে ভিড় ছড়িয়ে পড়ে । তবু প্রাঙ্গণে রয়ে যায় ধূপের গন্ধ আর অগ্নিশিখার উষ্ণ স্মৃতি । হোলিকা দহনের মধ্য দিয়ে এ বছরের উৎসব-পর্বের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল বলে জানায় মঠ কর্তৃপক্ষ ।

উল্লেখ্য, ফাল্গুনের শুরুতেই প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনকে স্বাগত জানাতে বাঙালি মেতে ওঠে বসন্ত উৎসবে ৷ দেশজুড়ে মহাসাড়ম্বরে পালিত হয় রঙের উৎসব ৷ দোল বা হোলিতে আমরা সবাই একে অপরকে আবিরের ছোঁয়ায় রাঙিয়ে দেওয়া হয় ৷ আজ সেই দোল পূর্ণিমার সঙ্গে রয়েছে বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ ৷ শুক্লা পূর্ণিমা গতকাল (সোমবার) বিকেল 5.33 মিনিট থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ আজ (মঙ্গলবার) বিকেল 4.46 মিনিট পর্যন্ত থাকবে ৷ মূলত দোলের আগেই হোলিকা দহন পালিত হয় ৷

