ETV Bharat / state

গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীরা বিপদে পড়লে জীবন বাঁচাবে 'ওয়াটার ড্রোন'

অন্ধকার হোক বা কুয়াশা এবং প্রতিকূল আবহাওয়া, সব কিছুর মধ্যেও উদ্ধারকাজ চালানো অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।

GANGASAGAR MELA 2026
গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীদের জীবন বাঁচাবে 'ওয়াটার ড্রোন' (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 8, 2026 at 1:42 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

গঙ্গাসাগর, 8 জানুয়ারি: গঙ্গাসাগর মেলায় স্নানঘাটগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির ৷ এবার গঙ্গাসাগর মেলায় ব্যবহৃত হবে আধুনিক প্রযুক্তির 'ওয়াটার ড্রোন'।

প্রশাসন সূত্রের খবর, এই 'লাইফবয় ওয়াটার ড্রোন'-এর মাধ্যমে স্নানে নেমে কেউ বিপদে পড়লে, দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করা যাবে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের উদ্যোগে এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে । এই ড্রোনের সাহায্যে উদ্ধারকাজ আরও দ্রুত হবে বলে মনে করছেন আধিকারিকেরা। বর্তমানে ড্রোনটির 'ট্রায়াল রান' চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে ৷

গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীদের জীবন বাঁচাবে 'ওয়াটার ড্রোন' (ইটিভি ভারত)

ওয়াটার ড্রোনটি প্রায় এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কাজ করতে পারবে। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় সাত মিটার গতিবেগে ছুটে গিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে পৌঁছতে সক্ষম হবে এই ড্রোন। সর্বোচ্চ এক টন পর্যন্ত ওজন বহনের ক্ষমতা থাকায় একাধিক মানুষকে একই সঙ্গে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলেও মনে করা হচ্ছে । জানা গিয়েছে, উদ্ধারের কাজকে আরও নিখুঁত করতে ড্রোনটিতে রয়েছে 'অনবোর্ড ক্যামেরা' ও 'রিয়েল-টাইম ভিডিয়ো ফিডব্যাক' ব্যবস্থা। ফলে উদ্ধারকারীরা দূর থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ড্রোনটিকে সফলভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।

ফলে রাতে অন্ধকার হোক বা কুয়াশা এবং প্রতিকূল আবহাওয়া, সব কিছুর মধ্যেও উদ্ধারকাজ চালানো অনেক সহজ হবে। এছাড়াও, ড্রোনটিতে রয়েছে জিপিএস-নির্ভর নেভিগেশন ব্যবস্থা। কোনও কারণে সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন হলে বা ব্যাটারির চার্জ 15 শতাংশের নীচে নেমে গেলে ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে লঞ্চ পয়েন্টে ফিরে আসবে। এতে উদ্ধারকাজ চলাকালীন প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে প্রশাসনের আধিকারিকদের দাবি ৷ সাগরে কপিলমুনি মন্দির সংলগ্ন স্নানঘাটগুলিতেও এই ওয়াটার ড্রোন মোতায়েন থাকবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। কোনও পুণ্যার্থী স্নানে নেমে তলিয়ে গেলে উদ্ধার কাজে এই ড্রোনের সাহায্য নেওয়া হবে । প্রশাসনের অনুমান, এ বছর কুম্ভমেলা না-থাকায় গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীদের ভিড় গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বাড়তে পারে। সেই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি।

জেলাশাসক অরবিন্দকুমার মিনা বলেন, "গঙ্গাসাগর মেলায় মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে উদ্ধারকাজ করা যায়, সে কারণেই লাইফবয় ওয়াটার ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।" দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার অতিরিক্ত বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক নিশীথ ভাস্কর পাল বলেন, "গঙ্গাসাগর মেলার আগে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সমস্ত প্রস্তুতির কাজ আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকাজের জন্য ব্যবহৃত যেমন স্পিডবোর্ড থেকে শুরু করে একাধিক জিনিস আমরা খতিয়ে দেখছি এবং সঙ্গে মহড়াও চালাচ্ছি । এর পাশাপাশি এ বছরের গঙ্গাসাগরের নতুন সংযোজন ওয়াটার ড্রোন পরীক্ষামূলকভাবে তারও আমরা ব্যবহার করলাম ৷ দেখলাম কত দ্রুত সম্ভব উদ্ধারকাজ করা যায়। আগামী দিনেও বেশ কয়েকটা এইরকম মহড়া করা হবে। গঙ্গাসাগর মেলায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে উদ্ধারকাজের জন্য তৎপর থাকবে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর।"

পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য যেমন গঙ্গাসাগর মেলাকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলায় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে তেমনি পুণ্য স্নানের সময় পুণ্যার্থীরা যদি কোনও দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় সেই দুর্ঘটনা থেকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য সদা তৎপর রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনী।