ETV Bharat / state

হোলিতে চোরাশিকারিদের জঙ্গলে প্রবেশের আশঙ্কা ! হাই অ্যালার্ট উত্তরবঙ্গে

দোলকে কেন্দ্র করে আদিবাসীদের শিকার উৎসব রয়েছে ৷ চোরাশিকারিরা যাতে জঙ্গলে ঢুকে বন্যপ্রাণীর হত্যা করতে না-পারে সেই কারণে তৎপর বন দফতর ।

High alert in North Bengal forests
উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে জারি হাই এলার্ট (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 2, 2026 at 7:57 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

জলপাইগুড়ি, 2 মার্চ: হোলিকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে জারি হাই অ্যালার্ট । কোনও ভাবেই যাতে চোরাশিকারিরা জঙ্গলে ঢুকতে না পারে সেই কারণে চলছে টহলদারি । অ্যান্টি পোচিং স্কোয়াড তৈরি করে নজরদারি চালাচ্ছে বনবিভাগ ।

হোলির সময় আদিবাসীরা শিকার উৎসবে মেতে ওঠেন । এই সময়ে আদিবাসীরা তাদের রীতি অনুযায়ী জঙ্গলে যান শিকার করতে । বন্যপ্রাণী হত্যা কোনও ভাবেই যাতে আদিবাসীরা করতে না-পারেন বা তারা যাতে এই শিকার উৎসব থেকে বিরত থাকেন, সেই কারণে বন দফতরের পক্ষ থেকে জঙ্গল সংলগ্ন বন বস্তিতে সচেতেনতা প্রচার চালানো হয় ।

High alert in North Bengal forests
নজরদারি চালাচ্ছে বনবিভাগ (নিজস্ব ছবি)

প্রতিবছরই বনবস্তির মানুষদের সচেতেনতার মাধ্যমে এই শিকার উৎসব থেকে অনেকটাই আদিবাসীদের বিরত রাখতে পেরেছে বনবিভাগ । তবুও কিছু কিছু জায়গায় ফাঁক গলে যাতে কোনও ভাবেই কেউ জঙ্গলের প্রবেশ করতে না পারেন, সেই দিকে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে । বন বিভাগ সতর্ক রয়েছে । আদিবাসীদের শিকার উৎসবের সুযোগে বন্যপ্রাণীর চোরাশিকারিরা যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে তার জন্য স্নিফার ডগ নিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে ।

উত্তরবঙ্গের গরুমারা জাতীয় উদ্যান, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান ও চাপরামারি অভয়ারণ্যে প্রতিবছর হোলির দু'দিন পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । কিন্তু এই বছর পর্যটকদের জঙ্গল প্রবেশের ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি । দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে আদিবাসীদের শিকার উৎসবকে ঢাল করে চোরাশিকারিরা যাতে জঙ্গলে ঢুকে বন্যপ্রাণীর হত্যা করতে না পারে সেই কারণেই তৈরি করা হয়েছে অ্যান্টি পোচিং স্কোয়াডও ।

High alert in North Bengal forests
চলছে টহলদারি (নিজস্ব ছবি)

ইতিমধ্যেই দিনে ও রাতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জাতীয় উদ্যানের অভয়ারণ্য বা অন্য সব জঙ্গলে টহলদারি বাড়িয়েছে বন দফতর । হেঁটে, হাতি দিয়ে বা গাড়ির সাহায্যে টহল দেওয়ার পাশাপাশি মাইকিং করে সচেতেন করা হচ্ছে জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার মানুষজনদের । অন্যদিকে এখন শুখা মরশুম জঙ্গলের শুকনো পাতা এবারও বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বন বিভাগের । শুকনো পাতায় আগুন লাগলে মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে আগুন । তাই আগের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে বন দফতর । ফায়ার ওয়াচার টিম কাজ করছে ।

বছর কয়েক আগে এই সময় জলদাপাড়া এবং বৈকুন্ঠপুরের জঙ্গলে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বন্যপ্রাণীদের বাসভূমি । এই সময়টা গাছ থেকে ঝরে পড়া শুকনো পাতায় ভরে যায় জঙ্গলের চারপাশ । অভিযোগ, জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা গবাদি পশু পালকরা পরিকল্পিতভাবেই শুকনো পাতায় আগুন ধরিয়ে দেয় । যাতে বৃষ্টি হলেই আবার নতুন ঘাস জন্মাতে পারে । আগুনে পুড়ে সাফ হয়ে যায় জমি । সেই জমি বর্ষার প্রথম জল পেয়ে সবুজ হয়ে ওঠে । জঙ্গলের সেই ঘাস গবাদি পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করেন তাঁরা ।

জলদাপাড়ার ডিএফও পারভিন কাশোয়ান বলেন, "আমরা নজরদারি চালাচ্ছি । যাতে কেউ অবৈধভাবে জঙ্গলে প্রবেশ করতে না পারে । আমরা নাকা চেকিং যেমন করছি, তেমন পেট্রোলিং করছি ৷ ড্রোন দিয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে । স্নিফার ডগের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে তল্লাশিতে ।"

উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণী) ভাস্কর জেভি বলেন, "হোলির সময় আমাদের নজরদারিটা বেশি থাকে । কোনও ভাবেই যাতে চোরাশিকারিরা জঙ্গলে ঢুকতে না পারে তাই বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে । চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে আমরা পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেছি । পুলিশেরও সাহায্য নিচ্ছি আমরা । হোলিতে চোরাশিকারিরা যাতে কোনও ভাবেই বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করতে না পারে তাই আমরা সমস্তরকম সতর্কতা অবলম্বন করছি ।"