ETV Bharat / state

অন্ত্রের সঙ্গে পেঁচিয়ে গিয়েছিল হার্নিয়া ! মেদিনীপুরে সফল অস্ত্রোপচারে প্রাণরক্ষা বধূর

এই রোগ ধরা পড়লেই দ্রুত অস্ত্রোপচার জরুরি । অন্য কোনও চিকিৎসা কার্যকর নয় । সময়মতো অপারেশন না হলে অন্ত্রে পচন ধরে জীবনহানির আশঙ্কা থাকে ।

midnapur medical
মেদিনীপুর মেডিক্য়ালে অসাধ্য সাধন৷ (নিজস্ব চিত্র৷)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 24, 2026 at 8:14 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

মেদিনীপুর, 24 ফেব্রুয়ারি : পেটে তীব্র যন্ত্রণা, বারবার বমি, পেট ফুলে যাওয়া—মাসের পর মাস ধরে এই উপসর্গে কাহিল হয়ে পড়েছিলেন বেলদার 46 বছরের এক গৃহবধূ । একাধিক নার্সিংহোমে ঘুরেও মিলছিল না স্থায়ী সমাধান । তার উপর ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারের খরচ জোগানোর সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের । শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে । আর সেখানেই ধরা পড়ল 'রাইট প্যারাডুয়োডেনাল হার্নিয়া উইথ অবস্ট্রাকশন'।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, এই ধরনের হার্নিয়া অত্যন্ত বিরল । সার্জারির আন্তর্জাতিক লিটারেচারে এ পর্যন্ত নিশ্চিত নথিভুক্ত কেসের সংখ্যা মাত্র চল্লিশ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে । চিকিৎসকদের কথায়, এটি এক প্রকার কনজেনিটাল ইন্টারনাল হার্নিয়া অর্থাৎ জন্মগত অঙ্গসংস্থানগত ত্রুটির ফল । বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীর অন্ত্রে 'ম্যালরোটেশন' বা অস্বাভাবিক পাক খাওয়া থাকে । সেই কারণেই অন্ত্রের একটি অংশ 'ওয়াল্ডেয়ার্স ফোসা'য় ঢুকে আটকে যায় । ডুয়োডেনামের ডান দিক দিয়ে এই হার্নিয়া হওয়ায় এর নাম 'রাইট প্যারাডুয়োডেনাল হার্নিয়া' ।

মেদিনীপুরে সফল অস্ত্রোপচারে প্রাণরক্ষা বধূর (নিজস্ব ভিডিয়ো)

হাসপাতালের মুখ্য সার্জেন ডাঃ সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় জানান, "এই রোগ ধরা পড়লেই দ্রুত অস্ত্রোপচার জরুরি । অন্য কোনও চিকিৎসা কার্যকর নয় । সময়মতো অপারেশন না হলে অন্ত্রে পচন ধরে জীবনহানির আশঙ্কা থাকে ।" তাঁর নেতৃত্বে সহকারী সার্জেন ডাঃ সুপ্রতিম চাকী, ডাঃ অঙ্কন কর্মকার, ডাঃ অমর্ত্য, ডাঃ দেব শঙ্কর এবং অ্যানাস্থেটিস্ট ডাঃ দেবাশিস ভড়ের টিম গত 18 ফেব্রুয়ারি প্রায় আড়াই ঘণ্টার টানা অস্ত্রোপচার করেন ।

অস্ত্রোপচার সফল হয় । বর্তমানে রোগিণী স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ ও হাঁটাচলা করছেন । চিকিৎসকদের পরিকল্পনা, দু'তিন দিনের মধ্যেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হবে।

মেদিনীপুর মেডিক্যাল
বিরল অস্ত্রোপচারের রিপোর্ট দেখছেন চিকিৎসক (নিজস্ব চিত্র৷)

রোগীর পরিবারের এক সদস্য বলেন, "বেসরকারি হাসপাতালে বিপুল খরচ সত্ত্বেও কোনও সুরাহা হচ্ছিল না । শেষমেশ এখানে এসে সম্পূর্ণ বিনা খরচে অপারেশন হয়েছে । এখন উনি সুস্থ ৷ চিকিৎসকদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।”

চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা ও সঠিক সময়ে চিকিৎসা—এই দুই-ই এমন বিরল রোগের ক্ষেত্রে জীবন বাঁচাতে পারে । মেদিনীপুরের সরকারি হাসপাতালে এই সাফল্য তাই শুধু এক রোগীর আরোগ্য নয়, চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর আস্থারও এক বড় বার্তা।