কলকাতায় বৃষ্টির দাপট, কয়েক ঘণ্টাতেই জলমগ্ন একাধিক এলাকা
প্রবল বৃষ্টির জেরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা-সহ দক্ষিণ বঙ্গের একাধিক জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

Published : September 2, 2026 at 7:02 PM IST
কলকাতা, 2 সেপ্টেম্বর: নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে জেরবার কলকাতার জনজীবন ৷ একাধিক রাস্তা জলমগ্ন ৷ নিম্নচাপের জেরে বেশ কয়েদিন ধরেই চলছে দফায় দফায় বৃষ্টি। আজ, বুধবার সকালবেলায় আকাশ আংশিক পরিষ্কার থাকলেও বেলার দিকে আকাশের মুখ ভার করে নামে বৃষ্টি। প্রবল বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়ে শহরের রাস্তাঘাট। শহরের বিভিন্ন জায়গায় হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। এর ফলে খুব স্লথ গতিতে চলছে শহরের যানবাহন। ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে একাধিক ব্যস্ত রাস্তায়।
ইতিমধ্যেই কলকাতা-সহ দক্ষিণ বঙ্গের একাধিক জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শহরের একাধিক রাস্তা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। নিচু রাস্তায় জল জমার পরিমাণ আরও বেশি। দক্ষিণ কলকাতার বৃষ্টির দাপটে একাধিক রাস্তায় জল জমে রয়েছে। গোলপার্ক, আমির আলি অ্যাভিনিউ, লাউডন স্ট্রিট, রডন স্ট্রিট, থিয়েটার রোড, বালিগঞ্জ, বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড, ক্যামাক স্ট্রিট, এলগিন রোডে-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে।

বুধবার দুপুর থেকে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির দাপট দেখা গেল। কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগ (Sewerage & Drainage Department)-এর কন্ট্রোল রুমের রিপোর্ট অনুযায়ী, দুপুর 12টা থেকে বিকেল 4টে পর্যন্ত শহরের একাধিক জায়গায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।
কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিয়ালদা পামার ব্রিজ এলাকায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে— প্রায় 87 মিলিমিটার। সেখানে দুপুর 12টা থেকে 1টার মধ্যে 56 মিলিমিটার এবং 1টা থেকে 2টার মধ্যে আরও 30 মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তী ঘণ্টায় আরও 1 মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে এই এলাকায়।

বৃষ্টির পরিমাণের নিরিখে এরপর রয়েছে তপসিয়া, যেখানে মোট প্রায় 46 মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বালিগঞ্জে প্রায় 44 মিলিমিটার, মমিনপুরে 43 মিলিমিটার এবং বেলগাছিয়ায় 42 মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে।
এছাড়াও, ঠনঠনিয়ায় প্রায় 36 মিলিমিটার, মানিকতলায় 29 মিলিমিটার, ট্যাংরায় 29 মিলিমিটার, বীরপাড়ায় 27 মিলিমিটার এবং যোধপুর এলাকায় প্রায় 25 মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দত্তবাগানে প্রায় 25 মিলিমিটার, চিংড়িঘাটায় 24 মিলিমিটার, পালডাঙ্গায় 23 মিলিমিটার এবং কামডহরিতে প্রায় 22 মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে, কালীঘাটে প্রায় 26.6 মিলিমিটার, চেতলা লকে 14 মিলিমিটার, বেহালা ফ্লাইং ক্লাব এলাকায় প্রায় 7.3 মিলিমিটার, জিনজিরা বাজারে 7 মিলিমিটার এবং ধাপায় 8 মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। উল্টোডাঙায় প্রায় 10 মিলিমিটার বৃষ্টির হিসাব পাওয়া গিয়েছে।

