ETV Bharat / state

উপাচার্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে রাজ্যপাল, অনুপস্থিত আয়োজক উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ই

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য উপস্থিত উপাচার্যদের কাছ থেকে তাঁদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব-অভিযোগ, আর্থিক ও অ্যাকাডেমিক পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক স্টেটাসের কথা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন ।

ETV BHARAT
উপাচার্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে রাজ্যপাল (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 9, 2026 at 3:16 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

শিলিগুড়ি, 9 জুলাই: রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান হাল হকিকত, পরিকাঠামোগত খতিয়ান এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভ্যন্তরীণ নানাবিধ সমস্যা খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি ৷ এই বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় 20 জন উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন । রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য উপস্থিত উপাচার্যদের কাছ থেকে তাঁদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব-অভিযোগ, আর্থিক ও অ্যাকাডেমিক পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক স্টেটাসের কথা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন ।

তবে এদিনের বৈঠকের সবচেয়ে বড় চমক ও বিতর্কের বিষয় ছিল আয়োজক উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরেই । রাজ্যের উচ্চশিক্ষা নিয়ে এত বড় আলোচনা ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, সেখানে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি ৷ এমনকি পুরো সভায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনও সমস্যা বা পরিকাঠামো নিয়ে কোনও কথাই হয়নি । খোদ আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই 'অনুপস্থিতি' ও 'উপেক্ষা' নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষামহলে জোর গুঞ্জন ও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ।

উপাচার্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে রাজ্যপাল (নিজস্ব ভিডিয়ো)

বৈঠক শেষে রাজ্যপাল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না-করলেও, উপস্থিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সূত্রে জানা গিয়েছে যে, দীর্ঘ আলোচনার এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ, ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক ছিল । রাজ্যপাল প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কোয়ালিটি এডুকেশন বা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন । কীভাবে শিক্ষার মান আরও উন্নত করা যায়, শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনায় আরও বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে এবং তাদের কর্মসংস্থান বা চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি পায়, সেই সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে ।

ETV BHARAT
উপাচার্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে রাজ্যপাল (নিজস্ব চিত্র)

একইসঙ্গে বর্তমান আর্থিক ব্যবস্থা ও বিশ্ব-উষ্ণায়নের যুগে শিক্ষার্থীদের কর্মোপযোগী করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিভিন্ন ধরনের 'স্কিল বেসড ডেভলপমেন্ট কোর্স' চালু করা এবং অন্ত্রোপ্রেনারশিপ বা উদ্যোগপতি তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আচার্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । রাজ্যপাল উপাচার্যদের আশ্বস্ত করেছেন যে, খুব দ্রুত তিনি উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সমস্ত সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলি সমাধানের পথ খুঁজে বের করবেন ।

ETV BHARAT
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈঠক (নিজস্ব চিত্র)

বৈঠকে উপস্থিত মহাত্মা গান্ধি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৌরাংশু মুখোপাধ্যায় জানান, "বৈঠকে প্রধানত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বর্তমান পরিস্থিতি ও তাদের ভবিষ্যৎ ডেভলপমেন্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে । মাননীয় আচার্য প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার কথা জানতে চাইলে উপাচার্যরা তা সংক্ষেপে তুলে ধরেন এবং রাজ্যপালও তার সমাধানের উপায় বাতলে দেন । উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে কোনও আলোচনা না-হলেও, জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই তাঁদের নিজস্ব প্রচেষ্টার কথা আচার্যকে জানিয়েছেন ।"

ETV BHARAT
20 জন উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন (নিজস্ব চিত্র)

অন্যদিকে, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অর্ণব সেন এদিনের আলোচনাকে অত্যন্ত কার্যকর বলে অভিহিত করেন । তিনি জানান, "আচার্য মূলত প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও ফিনান্সিয়াল কন্ডিশন জানতে চেয়েছিলেন । পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বা বকেয়া থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান যাতে আইনানুগভাবে দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, তার জন্য আচার্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন । বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টাফ বা কর্মী সংকটের যে সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আলোচনা করলেও রায়গঞ্জ বা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও কথা বলা হয়নি ।"

বৈঠকের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরিতকুমার চৌধুরী জানান, "নতুনভাবে গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নানাবিধ সমস্যা, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাই ছিল এই বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু । বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্তরণের পথ সুগম করতে আচার্য নিজে আগামী দিনে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সশরীরে ভিজিট করার কথা দিয়েছেন । ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল বা পরিকাঠামোগত মানোন্নয়নের বিষয়ে উপাচার্যরা আচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেন ।"

একই সুর শোনা গেছে হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নন্দিনী সাহুর গলাতেও । তিনি জানান, "রাজ্যপালের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকশনটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল । শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে স্কিল বেসড কোর্স ও অন্ত্রোপ্রেনারশিপের উপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা দফতরের মাধ্যমে উপাচার্যদের মুখোমুখি হওয়া সমস্ত চ্যালেঞ্জ খুব দ্রুত সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাজ্যপাল ।"

এদিনের বৈঠক প্রসঙ্গে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য জানান, "বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যাতে বিভিন্ন সরকারি স্কিমের সুবিধা দ্রুত চালু করা হয়, তার জন্য আমরা রাজ্যপালকে অনুরোধ করেছি এবং রাজ্যপালও তৃণমূল পর্যায়ে নেমে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজে গিয়ে সকলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ।"