ETV Bharat / state

সবার ভূমিকাই খতিয়ে দেখা দরকার, 'মেসি'কাণ্ডের পর যুবভারতী পরিদর্শন করে বার্তা রাজ্যপালের

যুবভারতীর ঘটনার পর রাজ্য সরকারকে বেশ কিছু পদক্ষেপ করার পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যপাল ৷ তিনি কেন্দ্র ও স্পোর্টস অথরিটিকে রিপোর্ট দেবেন বলেও জানিয়েছেন ৷

Yuba Bharati incident
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন রাজ্যপাল (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 14, 2025 at 8:17 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 14 ডিসেম্বর: মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনার দিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঢুকতে পারেননি ৷ পরের দিন রবিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ৷ যুবভারতী থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে 'মেসি'কাণ্ডে সবার ভূমিকাই খতিয়ে দেখার বার্তা দিলেন তিনি ৷

রাজ্যপাল এদিন বলেন,​ "আমি এখানে এসেছিলাম একদম 'গ্রাউন্ড জিরো' বা ঘটনাস্থল থেকে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে । আমি এলাকাটি পরিদর্শন করেছি । ভক্তদের কাছে মেসি একজন 'মসিহা' বা দেবতার মতো । অথচ তাঁর এই সফর অকল্পনীয়ভাবে ভেস্তে দেওয়া হল । এতে আয়োজক সংস্থা, সরকার, পুলিশ বা গোয়েন্দা দফতরের ব্যর্থতা-সবার ভূমিকাই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ।"​

সবার ভূমিকাই খতিয়ে দেখা দরকার, 'মেসি'কাণ্ডের পর যুবভারতী পরিদর্শন করে বার্তা রাজ্যপালের (ইটিভি ভারত)

যুবভারতীর ঘটনায় সত্যতা যাচাইয়েই জন্য তদন্ত কমিটি গড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সেই তদন্ত দলও রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ঘুরে দেখে পরিস্থিতি যাচাই করেছে । তাদের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যপাল ৷ সিভি আনন্দ বোস বলেন, "যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, আমি তাদের সঙ্গে দেখা করেছি । তারা বিস্তারিত পরিদর্শন করেছেন । তবে যা মনে হচ্ছে তাতে ঘটনার শিকড় আপাতদৃষ্টিতে যা দেখা যাচ্ছে তার চেয়েও অনেক গভীরে ।"

তিনি আরও বলেন, "গতকালের ঘটনায় সবার চোখ খুলে দিয়েছে ৷ এই ঘটনা কলকাতার মানুষের জন্য চরম লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির জন্য নির্দিষ্ট এসওপি (SOP) বা কার্যপ্রণালী থাকা উচিত । যখন কোনও ব্যক্তি খেলাকে বাণিজ্যিকীকরণ করছে এবং তার থেকে মুনাফা পাচ্ছে, তখন তার জন্য জনগণ ভোগান্তি শিকার হতে পারে না ৷ প্রশাসনও এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে ৷ জনগণের মৌলিক অধিকারও এর সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবেও জড়িত ৷"

Yuba Bharati incident
মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় (নিজস্ব ছবি)

শনিবারের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলার পর রাজ্যপাল রিপোর্টে দেবেন বলে জানিয়েছেন ৷ তিনি বলেন, "আমি যুবভারতীর ঘটনায় কিছু ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছি ৷ পরবর্তীতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে আমি সুপারিশ-সহ বিস্তারিত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার থেকে স্পোর্টস অথরিটির কাছে জমা দেব ।​ আমার রিপোর্ট মোটামুটি তৈরি হয়ে গিয়েছে ৷"

তাঁর কথায়, "শনিবারের ঘটনার পর যে পদক্ষেপগুলো অবিলম্বে নেওয়া দরকার সেগুলি হল, 1. এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত । 2. আয়োজকদের গ্রেফতার করা । 3. টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া । 4. আয়োজকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা । 5. এসওপি (SOP) তৈরি করা । 6. বিমা বা ইন্স্যুরেন্স স্কিম চালু করা ইত্যাদি । এরকম 12টি পয়েন্ট নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি আমি সরকারকে ৷ ​স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি-উভয় ধরনের পদক্ষেপই করতে হবে ।"

রাজ্যপালের সংযোজন, "যুবভারতীর ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ এখন আইন আইনের পথেই চলবে । সাধারণ দর্শকদের ধারণা হল যে তাদের আবেগ ও অনুভূতিকে সম্পূর্ণভাবে অবজ্ঞা করা হয়েছে এবং ঠিক এই কারণেই তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন ।"

Yuba Bharati incident
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভাঙচুর করা হয় (নিজস্ব ছবি)

প্রসঙ্গত, শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় ৷ সেখানে উপস্থিত দর্শকরা দাবি করেন, তারা প্রতারিত হয়েছে । তারা মাঠে উপস্থিত থেকেও ফুটবলের যুবরাজকে ঠিক করে দেখতে পাননি । অভিযোগ উঠেছে, নেতা মন্ত্রী এবং আয়োজকদের লোকেদের ভিড়ে মেসির কলকাতা সফর ভণ্ডুল হয়েছে । দর্শকরা প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন । যার রোষে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় । গন্ডগোলের পরেই প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাকযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় ।

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ঘটনার দিনই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে গিয়েছিলেন পরিস্থিতি দেখতে । যদিও তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে শনিবার রাতে প্রশাসনের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে । দরজা বন্ধ থাকায় স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারেননি তিনি । যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের আলো পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল । শনিবারই রাজ্যপাল বলেছিলেন, সত্য উদঘাটন হবেই । এরপর রবিবার ফের তিনি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যান এবং সরজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন ।

এদিকে ইতিমধ্যে যুবভারতীর পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তোপ দেগেছেন । শাসকদল কিছুটা ব্যাকফুটে । ক্রীড়ামন্ত্রী তদন্ত চলার অজুহাত দেখিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি । দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু মৌনব্রত নিয়েছেন । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদিও শনিবারের ঘটনার মেসি ও দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ৷ তবে তাতেও আঁচ থামার নাম নিচ্ছে না ৷ সব মিলিয়ে মেসি-কাণ্ডে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি । পাশাপাশি যুবভারতী-কাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছে আয়োজক শতদ্রু দত্তকে ৷ রবিবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক 14 দিনের পুলিশ হেফাজত দিয়েছেন ৷