রাজভবনের নাম বদলে লোকভবন, রাজনৈতিক তরজার জবাব দিলেন রাজ্যপাল
রাজভবনের সঙ্গে রাজনিবাসের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে ৷ এখন থেকে তা লোকনিবাস হিসেবে পরিচিত ৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় ৷

Published : November 30, 2025 at 8:05 PM IST
কলকাতা, 30 নভেম্বর: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে বাংলার রাজভবনের নাম বদলে 'লোক ভবন' করা হয়েছে । শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজভবনের ফলকে 'রাজ' বদলে 'লোক' করেন নিজের হাতে । তারপর থেকে এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা ৷ রাজভবনের নাম পরিবর্তন অসাংবিধানিক এবং রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত বলে কটাক্ষ করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল ৷ রবিবার তাদের জবাব দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ।
এদিন রাজনৈতিক দলগুলির সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যপাল বলেন, "গণতন্ত্রে জনগণই সর্বোচ্চ এবং কোনও রাজনৈতিক দল জনগণের ঊর্ধ্বে নয় । রাজ্যপালের অনুরোধে রাষ্ট্রপতি যখন জন রাজভবনের প্রতীকী চাবি নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন, তখন বাংলা থেকে এই উদ্যোগ আসে । বাংলার এই উদ্যোগ এখন একটি জাতীয় মডেলে পরিণত হয়েছে । বাংলার মানুষ এতে আনন্দিত এবং বাংলার রাজনীতি বাংলার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়া উচিত নয় ।"
দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান, ভবনের নাম বদল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বহুদিন ধরে । এবার সেই নাম বদলের তালিকায় যুক্ত হয়েছে রাজ্যের রাজভবন । কলকাতা, দার্জিলিং ও ব্যারাকপুর- রাজ্যের তিন জায়গার রাজভবনের নাম বদলে 'লোক ভবন' করা হয়েছে । স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সারা দেশে রাজভবন এবং রাজনিবাসের নামকরণ যথাক্রমে লোক ভবন এবং লোক নিবাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । রাজ্যপাল বলেন, "এই নাম বদলের পরে সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও বাড়বে । সহজেই সাধারণ মানুষ লোক ভবনে যোগাযোগ করতে পারবেন । এই জন্যই লোক ভবন নামকরণ করা হয়েছে ।"
এই নাম বদলের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের তরফে । দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, "বিজেপি রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলের সঙ্গে পেরে উঠতে না-পেরে রাজ্যপালের পদটিকে ব্যবহার করছে । বঙ্গে নির্বাচিত সরকারের সমান্তরাল প্রশাসন চালাতে চাইছে । কেন্দ্র যদি রাজভবনের মাধ্যমে সমান্তরাল সরকার চালাতে চায় কিংবা রাজভবনের নাম বদলে লোক ভবন করতে চায়, তাহলে কেন প্রাদেশিক সরকার তার খরচ বহন করবে ?" পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি নেতার সজল ঘোষ । তিনি বলেন, "ওনারা তো আর 6 মাস আছেন । তাতে এত আপত্তি কেন? বিজেপি যদি রাজ্যপালকে দিয়ে রাজনৈতিক কাজ করাতো তাহলে তৃণমূলের কিছুই খুঁজে পাওয়া যেত না ।"

