নেতাজির মতো আমিও বোস ! বঙ্গের ভোটার হতে চেয়ে আবেদন রাজ্যপালের
এই বাংলার দত্তক সন্তান হতে চান বলে জানালেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ৷ তিনি বলেন, "নেতাজি সুভাষচন্দ্রের মতো আমিও বোস ৷"

Published : December 11, 2025 at 6:24 PM IST
কলকাতা, 11 ডিসেম্বর: রাজ্য সরকারের সঙ্গে নানা বিষয়ে সংঘাত থাকলেও বাংলার প্রতি তাঁর অনুরাগের কথা আগেই প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ৷ বাংলা ভাষায় হাতে খড়ি দিয়েছেন ৷ জানিয়েছেন যে তাঁর জীবনের নায়ক হলেন এই বাংলারই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ৷ আর এবার এই বঙ্গের দত্তক সন্তান হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন রাজ্যপাল ৷ শুধু তাই নয়, এন্যুমারেশন ফর্ম জমা করার শেষ দিনে বাংলার ভোটার হতে চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন কেরল নিবাসী রাজ্যপাল ৷
বাবা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, মা কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মী ৷ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রণী সৈনিক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কথা তাঁরা কখনও ভুলতে পারেননি ৷ তাই মালায়লি হয়েও ছেলের নামের সঙ্গে বোস পদবি জুড়ে দিয়েছিলেন ৷ সেই ছেলে সিভি আনন্দ বোস এখন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম নাগরিক ৷ নিজের নামের সঙ্গে নেতাজির উপাধি জড়িত থাকায় গর্ববোধ করেন তিনি ৷ তাই এবার বাংলার ভোটার হতে চেয়েছেন সিভি আনন্দ বোস ৷ এদিনই নিজের আর্জি তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে পেশ করেছেন ৷
74 বছর বয়সি সিভি আনন্দ বোসের জন্ম কেরলের কোট্টায়াম জেলার মন্ননামে ৷ এতদিন তিনি কেরলেরই ভোটার ছিলেন ৷ 2024 সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন তিরুবনন্তপুরমে ৷ কিন্তু এবার তিনি এই বাংলার ভোটার হতে চান ৷ বৃহস্পতিবার রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই তিনি আট নম্বর ফর্ম ফিল-আপ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজের আর্জি পেশ করেছেন ৷
এদিন রাজ্যপাল জানান, “বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ যে হাওয়ায় শ্বাস নিয়েছিলেন, আমি সেই বাংলার ভোটার হতে চাই ৷ মানসিকভাবে, আবেগ থেকে, সাংস্কৃতিকভাবে আমি বাংলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাই ৷ নেতাজি সুভাষচন্দ্রের মতো আমিও বোস ৷ এই বিষয়টি আমাকে বাঙালিয়ানার আবেগ দেয় ৷ এই ভূমির মানুষ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সবকিছুই আমাকে উদ্বুদ্ধ করে ৷ আমি এই বাংলার দত্তক সন্তান হতে চাই ৷” রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বাংলার ভোটার হওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ ৷ তিনি বলেন, এর ফলে তৃণমূলের একটি ভোট বাড়বে ৷

এদিকে, এদিনই কংগ্রেসের তরফে রাজ্যে ওয়াকফ সংশোধনী আইন বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে ওয়াকফ বোর্ড অফিস থেকে রাজভবন পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয় ৷ কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী ৷ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন সৌম্য আইচ রায়-সহ দলের নেতা-কর্মীরা ৷ মিছিলে সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণও সবার নজর কেড়েছে ৷

অধীর জানান, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুধুমাত্র নিজেদের ভোট ব্যাংক বলে মনে করেন ৷ এই মানুষজনকে তিনি এতদিন সেভাবেই ব্যবহার করে এসেছেন ৷ সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বাস্তবায়ন তারই প্রমাণ ৷ সংখ্যালঘু মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস ৷”
এদিন দলের প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়া কংগ্রেসের অন্য নেতারাও রাজ্যে ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার নিন্দা করেন ৷

