বাংলার রাজনীতিতে ক্যানসারের মতো বেড়েছে হিংসা ও দুর্নীতি: রাজ্যপাল
'বন্দে মাতরম' গাওয়ার বিধি নিয়ে কেন্দ্রের নির্দেশিকার প্রশংসা করেছেন রাজ্যপাল ।

Published : February 11, 2026 at 6:47 PM IST
বারাসত, 11 ফেব্রুয়ারি: বাংলায় অতি পরিচিত রাজ্য ও রাজ্যপালের সংঘাতের ছবি ৷ সেই আবহেই ফের বাংলার রাজনৈতিক হিংসা ও দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ৷ তাঁর মতে, বাংলার রাজনীতিতে ক্যানসারের মতো অভূতপূর্ব ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে দুটি বিষয়, হিংসা ও দুর্নীতি । এদিন একইসঙ্গে 'বন্দে মাতরম' গাওয়ার বিধি নিয়ে কেন্দ্রের নির্দেশিকার প্রশংসা করেছেন রাজ্যপাল ।
বুধবার উত্তর 24 পরগনার বারাসতে বেসরকারি এক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি । অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল বলেন, "বাংলার রাজনীতিতে ক্যানসারের মতো দুটি বিষয় অভূতপূর্ব বৃদ্ধি পেয়েছে । এক, হিংসা । দ্বিতীয়ত, দুর্নীতি । হিংসা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়ার জন্য আমরা একসঙ্গে লড়াই করছি । হিংসা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে চেষ্টার কোনও কসুর করা হচ্ছে না ।"
এদিন 'বন্দে মাতরম' কেন্দ্রের নির্দেশিকা প্রসঙ্গে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "বন্দে মাতরম শুধুমাত্র ভারতের জাতীয় গান নয় । এটি ভারতের আত্মার একটি গান । যা স্বাধীনভাবে ভারতের জনগণকে দাবি জানাতে অনুপ্রাণিত করে ।"
উল্লেখ্য, এদিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে এক নির্দেশিকা জারি করে দেশের জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম' গাওয়ার বিধি স্থির করে দেওয়া হয়েছে । সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, 'জন-গণ-মন'র মতো এবার থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতে হবে জাতীয় গানও । শুধু তাই নয়, 'বন্দে মাতরম' পরিবেশনের সময়ে সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে । নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, এবার থেকে 'জন-গণ-মন'র আগে গাইতে হবে জাতীয় গানের ছ'টি স্তবক । কোন কোন সময়ে 'বন্দে মাতরম' পরিবেশন করা বাধ্যতামূলক, তা-ও নির্দিষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের ওই নির্দেশিকায় ।
সেই প্রসঙ্গে এদিন রাজ্যপালকে জিজ্ঞাসা করা হলে তার জবাবে তিনি বলেন, "এই গান এতটাই শক্তিশালী যে এক সময়ে ব্রিটিশদেরও গাইতে হয়েছিল বন্দে মাতরম । জাতীয় গানে প্রভাবিত হয়ে সেই সময় জনসাধারণও গাইতেন এই গান । এখন আমরা বন্দে মাতরমের প্রভাব পুনরাবিষ্কার করছি ।দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদে বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনার আয়োজনও করেছেন । বাংলায় আমরা বন্দে মাতরম শুরু করেছি ।"
এদিকে, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ তদন্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার । বুধবার সেই মামলার শুনানিতে কোনও হস্তক্ষেপ করেনি দেশের শীর্ষ আদালত । তারা পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টেই মামলাটি ফিরিয়ে দিয়েছে । তবে, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউপিএ) 15 নম্বর ধারা প্রয়োগের ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টকে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট । এই বিষয়ে সিভি আনন্দ বোসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "এগুলো রাজনৈতিক মিছিল । রাজ্যপাল হিসেবে আমি রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না ।"
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন । তার আগে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কী বলবেন ? এর জবাবে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেন, "যে কোনও নির্বাচন জনগণের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে । মানুষ যেটা ভালো বুঝবে, সেটাই করবে ।" ছাত্র সমাজ এবং বাংলায় শিক্ষার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে এদিন তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রাজ্যপাল । এই বিষয়ে তিনি বলেন, "বাংলার ছাত্রদের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল । অবশ্যই একদিন তাঁরা বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে ।"
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও এদিন মুখ খুলেছেন সিভি আনন্দ বোস । তাঁর মতে, "এটি দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য একটি প্রক্রিয়া । এসআইআর নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে অনেকের মধ্যে । গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে । এই বিষয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি ও সমাধান খুঁজে বের করতে হবে । আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামো এতটাই শক্তিশালী যে আমরা ছোটখাটো সমস্যাগুলোরও সমাধান করতে পারি ।"

