ETV Bharat / state

বন্দেমাতরমের 150 বছরের অনুষ্ঠানে রাজ্য সংগীতের অসম্মান, বসেই রইলেন রাজ্যপাল !

এ প্রসঙ্গে রাজ্যপালকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অভিযোগ উড়িয়ে দেন । সিভি আনন্দ বোস বলেন, তিনি রাজ্য সংগীতের সময় দাঁড়িয়েই ছিলেন ৷

ETV BHARAT
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপাল (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 5, 2026 at 7:55 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 5 জানুয়ারি: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দেমাতারাম গানের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে দু'দিন ধরে নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস । তারই অংশ হিসেবে সোমবার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিশেষ কর্মসূচিতে তিনি উপস্থিত ছিলেন । সেখানে রাজ্য সংগীত 'বাংলার মাটি বাংলার জল' চলাকালীন এই গানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে । রাজ্য সংগীত চলাকালীন রাজ্যপালকে মঞ্চে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে । সে সময় তিনি চা পান করছিলেন । তাঁর পাশেই বসে ছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ও ৷

এদিনের কর্মসূচির শেষে এ প্রসঙ্গে রাজ্যপালকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অভিযোগ উড়িয়ে দেন । সিভি আনন্দ বোস বলেন, "গান চলাকালীন আমি দাঁড়িয়েছিলাম এবং নিজে থেকে বাংলার মাটি বাংলার জল গান গেয়েছি ।" যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি । তবে, রাজ্য সংগীত যখন গাওয়া হচ্ছিল, সেই সময়ের ভিডিয়োতে রাজ্যপাল ও উপচার্যকে মঞ্চে বসে থাকতেই দেখা গিয়েছে ।

ETV BHARAT
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপাল (নিজস্ব চিত্র)

এদিনের কর্মসূচির বিষয়ে রাজ্যপাল বলেন, "বন্দেমাতরম শুধু একটি গান নয় । এটা ভারতের জাতীয়তাবাদের আত্মা । এই গান দেশের প্রতি ভক্তি, আবেগ, জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রতীক ৷ দেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে এই গানের ভূমিকা অস্বীকার্য । বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী এই গানের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আছেন । ভারত এবং দেশের প্রতি যে ভালোবাসা কাজ করে এই গানের প্রতিও সেই ভালোবাসা দেশবাসীর কাজ করে । ঠিক এ কারণেই সার্ধশতবর্ষে এই গানের জন্মস্থান বাংলায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে । এই স্থল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মিলনস্থল, তাই আমরা এসেছি । দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে, বিকশিত বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটা রোডম্যাপ জমা দিয়েছি ।"

ETV BHARAT
বন্দেমাতরমের 150 বছরের অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল (নিজস্ব চিত্র)

এদিকে, এসআইআর শুনানি পর্বে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা নানা অভিযোগের প্রসঙ্গও এদিন উঠে আসছে । রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর পর্বের শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ৷ শুধু তাই নয়, এসআইআর শুনানিতে এআই টেকনোলজির ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি । সে প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে রাজ্যপাল বলেন, "গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যে কোনও রাজ্যের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর অধিকার আছে, যে প্রক্রিয়া চলছে তা নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ দেওয়া ৷ এটাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি । আমি নিশ্চিত, দৃঢ় ও ভারসাম্যযুক্ত নির্বাচন কমিশন সেই পর্যবেক্ষণের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারবে ৷ সেগুলো মেনেই প্রক্রিয়া চলবে ৷"

এদিনের অনুষ্ঠান শেষে ঘোড়ার গাড়ি চড়ে জাদুঘর থেকে ভিক্টোরিয়ার পথে যান রাজ্যপাল । উল্লেখ্য, দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও জাগ্রত করতে এবং ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ ও মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে পালিত হতে চলেছে 'বন্দে মাতরম'-এর 150 বছর পূর্তি । এই উপলক্ষে আয়োজিত হচ্ছে বিশেষ কর্মসূচি 'বন্দে বীরাসত মার্চ'। সোমবার তিনটি পৃথক মোটর সাইকেল মিছিল শুরু হয়েছে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত স্থানগুলি থেকে । প্রতিটি মিছিলে রয়েছেন 150 জন মোটরসাইকেল আরোহী । চুঁচুড়ার বন্দে মাতরম ভবন, নৈহাটির বঙ্কিমচন্দ্রের বাসভবন ও প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে মশাল প্রজ্জ্বলনের পর মিছিলগুলি এসে মিলিত হয় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে । সেখানে তিনটি মশাল থেকে যৌথভাবে প্রজ্জ্বলিত হয় অখণ্ড জ্যোতি, যা আগামিকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত জ্বলতে থাকবে ।

6 জানুয়ারি এই অখণ্ড জ্যোতি নিয়ে জোড়াসাঁকো থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল পর্যন্ত এক বিশাল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে । মিছিলের শেষে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত হবে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে বিশিষ্ট শিল্পীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হবে 'বন্দে মাতরম'। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যপাল ও বিশিষ্ট অতিথিরা ।