অমাবস্যার ভরা কোটালে পাখিরালয়ে গোমর নদীর বাঁধে ধস, তৎপর সেচ দফতর
অস্থায়ী মেরামতির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে সেচ দফতরের তরফে ৷ স্থায়ী বাঁধের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের ৷

Published : February 18, 2026 at 5:23 PM IST
গোসাবা (দক্ষিণ 24 পরগনা), 18 ফেব্রুয়ারি: অমাবস্যার ভরা কোটালে গোমর নদীর বাঁধে ধস ৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের পাখিরালয় অঞ্চলে ৷ গোমর নদীর বাঁধের প্রায় 40 ফুট এলাকা জুড়ে ধস নামে বলে জানা গিয়েছে । আচমকা এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ।
স্থানীয়দের দাবি, অমাবস্যার ভরা কোটালের জেরে নদীতে জলস্ফীতি অনেকটাই বেড়ে যায় । নদীর তীব্র স্রোত ও বাড়তি চাপের ফলে বাঁধের একাংশ ভেঙে পড়ে । খবর পেয়ে গ্রামবাসীরা দ্রুত সেচ দফতরকে বিষয়টি জানান । খবর পেয়েই সেচ দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতির কাজ শুরু করেন । বালি ভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ও মাটি দিয়ে ধসে যাওয়া অংশ আটকানোর কাজ চলে ।
সেচ দফতরের আধিকারিকদের দাবি, এখন অস্থায়ী মেরামতির কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে ৷ যাতে নতুন করে জল প্রবেশের আশঙ্কা না-থাকে । পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে । সেচ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ধস নামলেও এখনও পর্যন্ত গ্রামে নদীর জল ঢোকেনি । তবে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে । ভরা কোটালের সময় নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বাঁধের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয় । ফলে এমন ঘটনা প্রায়শই দেখা যায় বলে স্থানীয়দের মত ।
জেলা পরিষদের সদস্য অনিমেষ মণ্ডল বলেন, "পাখিরালয় পুরানো খেয়া ঘাটের কাছে হঠাৎ করে মঙ্গলবার সন্ধ্যাবেলায় ধস নামে ৷ বেশ কয়েকদিন ধরে বাঁধের অবস্থা খারাপ ছিল । ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এসডিও এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা । যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলে । বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ এই পাখিরালয় এলাকায় নদীতে নোঙর করা এবং যাতায়াতের কারণে নদীর ঢেউয়ের জেরে ধস দেখা দিয়েছে ৷"
তাঁর কথায়, "পাখিরালয়ের পুরানো খেয়াঘাট, জ্যোতিরামপুর, উত্তরডাঙা, হেতালবেড়িয়া-সহ একাধিক জায়গা ভাঙন কবলিত । বারবার প্রশাসনকে জানানোর পরেও নদীবাঁধে কাজ হয়নি । আমরা বুঝতে পারছি না আজ রাতে এখানে জল ঢুকবে কি না ৷ গ্রামের মানুষেরা রয়েছে ৷ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরাও রয়েছে । মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে ঢুকে গিয়েছে ৷ আমাদের বাঁধ আমাদের রক্ষা করতে হবে ।"
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের উপকূলবর্তী অঞ্চলে নদী বাঁধই গ্রামবাসীদের একমাত্র সুরক্ষা । সামান্য ফাটল বা ধস বড় বিপদের ইঙ্গিত দিতে পারে । তাই দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে পাখিরালয়ের মানুষের মধ্যে । তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী সমাধানের দাবিও জোরালো হচ্ছে ।

