ETV Bharat / state

সেন্সর নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় দরজা, নতুন বছরে যাত্রী পরিষেবায় ঝাঁ-চকচকে রাজধানী

সেন্ট্রাল কন্ট্রোল ব্যবস্থা, সেফটি লক-সহ একাধিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত আপগ্রেডেড তেজস রেক যুক্ত হয়েছে রাজধানী এক্সপ্রেসে ৷

NEW RAJDHANI EXPRESS
আপগ্রেডেড তেজস রেক যুক্ত হল রাজধানী এক্সপ্রেসে ৷ (ছবি- ভারতীয় রেল)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 4, 2026 at 5:51 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

হাওড়া, 4 জানুয়ারি: হাওড়া–নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস ভারতীয় রেলের মর্যাদার নাম ৷ ষাটের দশকের শেষভাগে প্রথম যাত্রায় যে ট্রেন দেশকে গতির নতুন পথ দেখিয়েছিল ৷ সেই ঐতিহ্যবাহী রাজধানীই এবার পা-রাখল আর এক যুগান্তকারী পর্যায়ে ৷ নতুন বছরে ভারতীয় রেলের উপহার—সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় দরজাযুক্ত অত্যাধুনিক AC LHB রেক ৷ শুধু সাজসজ্জার বদল নয়, যাত্রী-নিরাপত্তার মানদণ্ডের নিরিখেও নতুন রাজধানী এক্সপ্রেস সেরা বলে জানাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ ৷

31 ডিসেম্বর রাতে নয়াদিল্লি–হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেস হাওড়া স্টেশনে পৌঁছতেই স্পষ্ট করে দিল রেলের নতুন বার্তা— নিরাপত্তার প্রশ্নে আর ঢিলেঢালা চলবে না ৷ কোচজুড়ে অটোমেটিক স্লাইডিং দরজা, প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েই নির্বিচারে দরজা টেনে খোলার দিন শেষ ৷ ট্রেন পুরোপুরি থামলে ও পরিস্থিতি অনুকূল হলেই দরজা খুলবে ৷ রেলের এক কর্তার কথায়, “নিরাপত্তার সঙ্গে আপস নয় ৷ চলন্ত ট্রেনে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের ঘটনাকে শূন্যে নামানোই লক্ষ্য ৷”

New Rajdhani Express
একাধিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত আপগ্রেডেড তেজস রেক যুক্ত হয়েছে রাজধানী এক্সপ্রেসে ৷ (ছবি- ভারতীয় রেল)

নয়াদিল্লি-হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেসের আপগ্রেডেড তেজস রেকের আধুনিক অটোমেটেড প্লাগ দরজাগুলি গার্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় ৷ এই দরজাগুলি বন্ধ না-হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলবে না ৷ আর ট্রেন পুরোপুরি না-থামা পর্যন্ত দরজা খুলবেও না ৷ যা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ৷ এই প্রযুক্তিটি স্বয়ংক্রিয় এবং শুধুমাত্র প্ল্যাটফর্মের দিকেই ট্রেনের দরজা খোলে ৷

নতুন রাজধানী এক্সপ্রেসের বৈশিষ্ট্য:

সেন্ট্রাল কন্ট্রোল ব্যবস্থা: দরজাগুলো ট্রেনের গার্ডের প্যানেল থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় ৷

সেফটি লক: সব দরজা বন্ধ না-হলে, ট্রেন ছাড়বে না ৷

সেন্সর প্রযুক্তি: সেন্সর থাকায় চলন্ত অবস্থায় বা প্ল্যাটফর্ম নেই সেই দিকে দরজা খুলবে না ৷

সতর্কতামূলক ঘোষণা: দরজা খোলা বা বন্ধ হওয়ার সময় সতর্কতামূলক ঘোষণা করা হয় ট্রেনে ৷

রাজধানীর যাত্রাপথে কুয়াশা যাতে বারবার বাধা হয়ে না-দাঁড়ায়, সে কারণেই আপাতত ফগ–সিজনে অতিরিক্ত স্পেয়ার রেক বরাদ্দ হয়েছে ৷ উত্তর ও পূর্ব ভারতের দেরি-প্রবণ রুটে সময় মেনে পরিষেবা বজায় রাখতেই এই কৌশল ৷ অটোমেটিক দরজার ফলে কোচের ভিতরে তাপমাত্রা ও ধুলো নিয়ন্ত্রণ আরও উন্নত হয়েছে ৷ আর সবচেয়ে বড় বিষয়টি হল, হুইল-বোর্ডিং বা ঝুঁকিপূর্ণ ওঠানামার প্রবণতায় কঠোরভাবে লাগাম পড়ানো যাবে ৷

যাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম করা হয়েছে ৷ যেখানে বলা হয়েছে, গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই দাঁড়িয়ে ‘দরজা খোলার’ চেষ্টা অর্থহীন ৷ দরজা কেবল নির্দিষ্ট নির্দেশে খুলবে ৷ তাই সতর্কতা ও শৃঙ্খলা হবে এই প্রযুক্তির সঙ্গী ৷ এই ব্যবস্থা আপাতত সিজনাল হলেও, এর প্রভাব সুদূর প্রসারী হবে বলে জানাচ্ছে রেল ৷

পাশাপাশি, ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ বলেও মনে করা হচ্ছে ৷ উল্লেখ্য, রাজধানী এক্সপ্রেসে এমন সুবিধা আগে ছিল না ৷ বন্দে ভারত বা তেজসের মতো প্রিমিয়াম পরিষেবায় সীমাবদ্ধ ছিল ৷ এবার দেশের ‘প্রথম প্রিমিয়াম’ দূরপাল্লার ট্রেনে যুক্ত হল নতুন মানদণ্ড ৷

উল্লেখ্য, হাওড়া–নয়াদিল্লি রাজধানীর প্রথম দৌড় ভারতীয় রেলের গতি-পর্বের সূচনা করেছিল ৷ কম সময়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম, উন্নত খাবার ও নির্ভুল পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ৷ আজ সেই ঐতিহ্যের সঙ্গেই যুক্ত হল প্রযুক্তির নতুন বলয় ৷