শুরু গঙ্গাসাগর মেলা, অতিরিক্ত 54টি ট্রেন চালাচ্ছে পূর্ব রেল
যাত্রী নিরাপত্তা ও গঙ্গাসাগর যাত্রাকে সুগম করতে রেলের একাধিক পদক্ষেপ ৷ অন্যান্য বছরে 72টি ট্রেন চালানো হয় ৷ এবছর 126টি বিশেষ ট্রেন চলবে ৷

Published : January 10, 2026 at 1:28 PM IST
কলকাতা, 10 জানুয়ারি: শুরু গঙ্গাসাগর মেলা। শনির সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হবে মেলার ৷ পুণ্যার্থীদের যাত্রা সুগম করতে এবং নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে পূর্ব রেলের শিয়ালদা বিভাগ। অন্য বছরের তুলনায় এই বছর গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে অনেক বেশি ট্রেন চালাচ্ছে রেল।
মোট 126টি বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেলের শিয়ালদা বিভাগ। এই বছর প্রথমবার মেলার জন্য এতগুলি ট্রেন চালানো হচ্ছে। আগের কয়েকটি বছরে 72টি করে ট্রেন চালানো হয়েছে।

একাধিক বৈঠক রেল বিভাগে- মেলার সময় ট্রেন পরিবহণকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে শিয়ালদা বিভাগের সিনিয়র ডিভিশনাল অপারেশনস ম্যানেজার পঙ্কজ যাদব কন্ট্রোলার ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক সেরেছেন। 126টি বিশেষ ট্রেনের নির্বিঘ্ন চলাচল ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কন্ট্রোল অফিসকে সবদিক থেকে সচল থাকছে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ ট্রেনগুলি সময়সূচি এমনভাবেই করা হয়েছে যাতে পুণ্যার্থীরা নির্বিঘ্নে এবং স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারেন।
মেলা চলাকালীন হাই অ্যালার্ট- গঙ্গাসাগর মেলা চলাকালীন হাই অ্যালার্ট থাকছে ৷ কোনওরকম ইচ্ছাকৃত ত্রুটিকে হালকাভাবে নেবে না কর্তৃপক্ষ। এমনটাই বলা হয়েছে রেলের তরফে জারি নির্দেশে। যে কোনও ত্রুটির জন্য যদি যাত্রী অসুবিধা বা অপারেশনাল সমস্যা ঘটে, তবে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। রেলকর্মীদের সর্বদা চোখ-কান খোলা রেখে দায়িত্ব পালনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ভিড়ের গতিবিধি ও ট্রেন চলাচল রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ- স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে রেল কর্মী আধিকারিক ও সুপারভাইজারদের মোতায়েন থাকতে হবে, যাতে ভিড়ের গতিবিধি ও ট্রেন চলাচল রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ করা যায়। 126টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করায় প্রচুর সংখ্যক যাত্রী ভিড় করবেন বলে মনে করছে রেল ৷ কিন্তু দক্ষতার সঙ্গে যাত্রী ভিড় সামাল দিতে হবে এবং যাত্রীরা যাতে স্টেশন চত্বরে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন সেই দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। কোনওরকম লজিস্টিক সমস্যা হওয়ার আগেই যাতে তা চিহ্নিত করা যায় ও তার সম্ভাব্য সমাধানসূত্র বের করা যায় তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা নিয়ে - স্টেশন চত্বরের হোল্ডিং এরিয়ায় যাতে একসঙ্গে অনেক যাত্রী অপেক্ষা করতে পারেন সেই মতো ব্যবস্থা করতে হবে। একাধিক টিকিট কাউন্টার খোলা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে যাত্রীদের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা না-করতে হয়। এছাড়াও M-UTS ব্যবস্থা সক্রিয় রাখতে হবে।
পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শৌচাগারগুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। স্টেশন চত্বরে থেকে শুরু করে শৌচালয়গুলিকে 24 ঘণ্টাই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হবে।
আলো ও নিরাপত্তা- সন্ধ্যায় ও রাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্ল্যাটফর্ম এবং স্টেশন চত্বরের পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

